শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

সঙ্গী আপনার সম্পর্কে চ্যাটজিপিটিতে কী লেখে, জানতে চান?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
সঙ্গী আপনার সম্পর্কে চ্যাটজিপিটিতে কী লেখে, জানতে চান?

আপনার সঙ্গী চ্যাটজিপিটিতে আপনাদের সম্পর্ক নিয়ে কী লিখছেন, কী পরামর্শ চাইছেন, কিংবা আপনার সম্পর্কে তার মনে কী প্রশ্ন ঘুরছে—এসব জানার আগ্রহ কি কখনও হয়েছে? সুযোগ পেলে তার ব্যক্তিগত চ্যাট খুলে পড়বেন?

প্রশ্নটি সহজ মনে হলেও, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সম্পর্কের বিশ্বাস, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং এমন কিছু অনুভূতি, যা সঙ্গীরা হয়তো আগে কখনও আলোচনা করেননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ এখন সম্পর্কের সমস্যা, ব্যক্তিগত দ্বিধা কিংবা সঙ্গীর প্রতি জমে থাকা ক্ষোভ নিয়ে চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলছেন। ফলে আগে যে কথাগুলো ব্যক্তিগত ডায়েরি বা বিশ্বস্ত বন্ধুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, সেগুলো এখন লিখিত এআই কথোপকথনে জমা থাকছে। আর সঙ্গীর সেই চ্যাট চোখে পড়লে তা পড়ে ফেলার প্রলোভনও তৈরি হতে পারে।

সঙ্গীর ব্যক্তিগত চ্যাট পড়তে ইচ্ছে করে কেন?

সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে মানুষ প্রায়ই নিশ্চিত হতে চান—সঙ্গী আসলে কী ভাবছেন, সম্পর্কটি নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট, কিংবা এমন কিছু জানেন কি না যা তাকে বলা হয়নি।

চ্যাটবটের কথোপকথন এই কৌতূহল মেটানোর সুযোগ তৈরি করে। সেখানে সঙ্গীর ব্যক্তিগত চিন্তা, ভয় কিংবা সম্পর্ক নিয়ে তার প্রশ্নের আভাস পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেই কথোপকথন পড়লে সব সত্য জানা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

কোনও মানুষ নিজের অনুভূতি বোঝার জন্যও এআইয়ের কাছে পরামর্শ চাইতে পারেন। চ্যাটে লেখা প্রতিটি কথা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বাস্তব আচরণের প্রতিফলন নয়। তাই বিচ্ছিন্ন কোনও বাক্য পড়ে সঙ্গীর মনোভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ভুল বোঝাবুঝি বাড়াতে পারে।

এআইয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথা বলাও কি বিশ্বাসভঙ্গ?

ধরা যাক, আপনার সঙ্গী চ্যাটজিপিটিতে আপনাদের সম্পর্কের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছেন। সেখানে ব্যক্তিগত ঘটনা, ঝগড়া কিংবা আপনার সম্পর্কে তার হতাশার কথা লিখেছেন। বিষয়টি জানতে পারলে আপনার মনে হতে পারে, আপনার ব্যক্তিগত জীবন এমন কারও সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে, যার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করার সম্মতি আপনি দেননি।

আবার অন্য দিকটিও আছে। কেউ নিজের ব্যক্তিগত চিন্তা গুছিয়ে নিতে বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিকল্প বুঝতে এআইয়ের সাহায্য নিতে পারেন। তাই সঙ্গীর চ্যাটবট ব্যবহার করাটাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বাসভঙ্গ নয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কী ধরনের তথ্য ভাগ করা হচ্ছে, দুজনের মধ্যে কী বোঝাপড়া রয়েছে এবং কারও ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না।

একই ঘটনায় দুজনেরই কষ্ট হতে পারে

ফেদেরিকোর মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতিতে ভুগতে পারেন। একজন কষ্ট পেতে পারেন, কারণ তার ব্যক্তিগত জীবনের অন্তরঙ্গ বিষয় এআইয়ের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে। অন্যজন কষ্ট পেতে পারেন, কারণ তার অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত কথোপকথন পড়ে ফেলা হয়েছে।

অর্থাৎ, একজনের কাছে চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলা ব্যক্তিগত ভাবনা গুছিয়ে নেওয়ার উপায়; অন্যজনের কাছে সেটি সম্পর্কের গোপনীয়তা ভাঙার মতো মনে হতে পারে। আবার উল্টোভাবে, একজন নিজের চ্যাটকে ব্যক্তিগত পরিসর ভাবলেও সঙ্গী সেটি পড়াকে সম্পর্কের বিষয়ে সত্য জানার চেষ্টা হিসেবে দেখতে পারেন।

এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ে আগে থেকে কথা না থাকলে দ্বন্দ্ব আরও জটিল হতে পারে।

সমাধান কোথায়?

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, সম্পর্কের মধ্যে এআই ব্যবহারের সীমারেখা নিয়েও আলোচনা করা দরকার। সঙ্গী কী ধরনের ব্যক্তিগত বিষয় চ্যাটবটের সঙ্গে ভাগ করতে স্বচ্ছন্দ, কোন তথ্য অন্যের সঙ্গে ভাগ করা নিয়ে আপত্তি আছে এবং একে অন্যের ব্যক্তিগত কথোপকথনের গোপনীয়তা কীভাবে রক্ষা করবেন—এসব বিষয়ে স্পষ্ট বোঝাপড়া তৈরি করা যেতে পারে।

সঙ্গীর চ্যাট চোখে পড়লে গোপনে পড়ে ফেলার বদলে সরাসরি কথা বলা ভালো। একইভাবে, সঙ্গী এআইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন বলে তাকে দোষারোপ না করে জানতে চাওয়া যেতে পারে, তিনি কী ধরনের সহায়তা খুঁজছেন।

চ্যাটবটের পরামর্শকে সম্পর্কের চূড়ান্ত সত্য হিসেবে না দেখে আলোচনার একটি সূত্র হিসেবে বিবেচনা করাও জরুরি। কারণ এআই কথোপকথন মানুষের সব অনুভূতি, সম্পর্কের পুরো প্রেক্ষাপট কিংবা বাস্তব আচরণকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরে না।

সবশেষে, সম্পর্কের বিশ্বাস রক্ষা করতে একে অন্যের সব চিন্তা জেনে ফেলা জরুরি নয়। বরং ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা, গোপনীয়তা নিয়ে আগেভাগে বোঝাপড়া তৈরি করা এবং অস্বস্তি হলে খোলামেলা কথা বলাই বেশি কার্যকর।

Ads small one

গ্রামবাংলার খাল-বিলে মাছ ধরার চিরচেনা দৃশ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
গ্রামবাংলার খাল-বিলে মাছ ধরার চিরচেনা দৃশ্য

আজহারুল ইসলাম সাদী

গ্রামবাংলার প্রকৃতি মানেই সবুজের সমারোহ, আঁকাবাঁকা মেঠোপথ, গাছের ছায়া আর খাল-বিলজুড়ে পানির কলতান। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে চারপাশের জলাশয়গুলো পানিতে ভরে ওঠে। খাল-বিলে ফুটে থাকা শাপলা-শালুকের সৌন্দর্যের সঙ্গে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য গ্রামীণ জীবনে যোগ করে ভিন্ন এক মাত্রা।

গ্রামবাংলার খাল, নালা ও বিলে জাল ফেলে মাছ ধরার দৃশ্য আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মাছ ধরা শুধু জীবিকা নির্বাহ কিংবা পরিবারের খাদ্যের জোগান নয়; এটি অনেকের কাছে আনন্দ, মিলন ও পারস্পরিক সহযোগিতারও উপলক্ষ। জালভরা টেংরা, পুঁটি, কই, মাগুর, বাইনসহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ ধরা পড়লে জেলেদের মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি।

গ্রামাঞ্চলে মাছ ধরার রয়েছে নানা ঐতিহ্যবাহী কৌশল। কোথাও বাঁশের কাঠামোয় বসানো ভেসাল বা খারা জাল পানিতে নামিয়ে মাছ ধরা হয়। কোথাও দক্ষ হাতে ঝাঁকি জাল ছুড়ে পানির মাছ আটকে ফেলা হয়। চার কোণায় বাঁশের কাঠি লাগানো ধর্ম জাল পানিতে নামিয়ে তোলা হয়, আর ঠেলা জাল দিয়ে অগভীর পানিতে ছোট মাছ ও চিংড়ি ধরা হয়। এ ছাড়া খাল-নালায় পানির স্রোতের মুখে বাঁশের তৈরি ঘুনি ও অন্যান্য ফাঁদ পেতেও মাছ শিকার করেন গ্রামীণ মানুষ।

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের এমন দৃশ্য গ্রামবাংলার সহজ-সরল জীবনযাত্রার পরিচয় বহন করে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এলেও খাল-বিলে মাছ ধরার এই চিরচেনা দৃশ্য আজও গ্রামীণ ঐতিহ্য ও প্রকৃতির সৌন্দর্যকে জীবন্ত করে রেখেছে।

ছবি: সাতক্ষীরার কুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর টিকিট গ্রামের প্রবেশদ্বারের একটি খাল থেকে মাছ ধরছেন এক জেলে।

সাতক্ষীরায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রাম থেকে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শনিবার সকালে ছাত্রীর মা সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৫ বছর বয়সী ওই ছাত্রী রায়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুই দিন আগে বিকেলে নিজ বাড়ির সামনে থেকে জাহিদ হাসানসহ কয়েকজন তাকে অপহরণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন পাটকেলঘাটা থানার নোয়াকাটি গ্রামের জাহিদ হাসান, তার বাবা কলিম সরদার ছোট, কলিম সরদারের স্ত্রী রেহেনা খাতুন এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের আমিনুর সরদার ও মনা খাতুন। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, জাহিদ হাসান বিভিন্ন সময় তার মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিতেন এবং ভয়ভীতি ও হুমকি দিতেন। মেয়েকে উদ্ধারের জন্য অভিযুক্তদের কাছে গেলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “ছাত্রীর মা থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছেন। পুলিশ দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”

পাইকগাছায় মরিয়ম ট্রেড কর্পোরেশনের রিটেইলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় মরিয়ম ট্রেড কর্পোরেশনের রিটেইলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় শাহ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর মেসার্স মরিয়ম ট্রেড কর্পোরেশনের বার্ষিক রিটেইলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের লোনাপানি কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে পাইকগাছা, কয়রা, তালা ও আশাশুনিসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১০০ জন ব্যবসায়ী অংশ নেন।

মরিয়ম ট্রেড কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী আলহাজ ফয়সাল মাহমুদ অপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শাহ সিমেন্টের ডেপুটি ম্যানেজার শ্যামল পাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার শাহরিয়ার সুমন, আলহাজ মরিয়ম বেগম, উপজেলা ঠিকাদারি কল্যাণ সমিতির সভাপতি এম আব্দুস সামাদ, পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সেলিম রেজা লাকি, ষোলআনা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন, অ্যাডভোকেট ইদ্রিসুর রহমান মন্টু ও আলহাজ হাবিবুর রহমান।

শাহ সিমেন্টের কর্মকর্তা এসএম বায়েজিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুনমুন রহমান, অ্যাডভোকেট নুসরাত জাহান উর্মি, শাহ সিমেন্টের কর্মকর্তা নিরব কুন্ডু, আশিকুজ্জামান আশিক, আব্দুর রাজ্জাক ও নাহিদ পারভেজ।

ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মেলনে ১৩ জন সেরা ব্যবসায়ীকে মোটরসাইকেল, ফ্রিজসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া শাহ সিমেন্টের সহযোগিতায় মরিয়ম ট্রেড কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের শুভেচ্ছা উপহার দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, গুণগত মান বজায় রাখা ও গ্রাহকদের আস্থা অর্জন শাহ সিমেন্টের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত উৎপাদনব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের বৃহৎ অবকাঠামো থেকে ব্যক্তিগত আবাসন নির্মাণ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিমেন্ট সরবরাহ করছে।