শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা: সৌভাগ্যের আরাধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা: সৌভাগ্যের আরাধনা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

দুর্গাপূজার ঢাক থেমেছে, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে উৎসবের উচ্ছ্বাস। বিদায়ের বিষাদ কাটতে না কাটতেই বাঙালির ঘরে ঘরে আসে আরেক উৎসব—কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা। অন্ন, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় জ্বলে ওঠে প্রদীপ, উঠানে আঁকা হয় আলপনা। তবে লক্ষ্মী কি কেবল ধনসম্পদের দেবী? যে সমাজে কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম পান না, শ্রমজীবী মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খান, সেখানে লক্ষ্মী আরাধনার প্রকৃত তাৎপর্য কোথায়? এই প্রশ্ন সামনে রেখেই ফিরে আসে কোজাগরী পূর্ণিমা।

আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা। ‘কোজাগরী’ শব্দের অর্থ ‘কে জেগে আছ?’ প্রচলিত হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে নেমে ভক্তদের খোঁজ নেন। যাঁরা জেগে থেকে তাঁর আরাধনা করেন, তাঁদের গৃহে দেবীর আশীর্বাদ আসে বলে বিশ্বাস করা হয়। ধন, সম্পদ, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক দেবী লক্ষ্মীর পূজা বাংলার বহু পরিবারে প্রতি বৃহস্পতিবারও করা হয়।

দুর্গাপূজা যেখানে সর্বজনীন উৎসবের আবহে মানুষকে একত্র করে, সেখানে লক্ষ্মীপূজার প্রধান আয়োজন হয় ঘরে ঘরে। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে পূজার প্রস্তুতি নেন, আলপনা আঁকেন, প্রদীপ জ্বালান এবং ভোগ নিবেদন করেন। অঞ্চল ও পারিবারিক রীতিভেদে খিচুড়ি, লুচি, পায়েস, নারকেলের নাড়ু, ফলমূল ও নানা মিষ্টির আয়োজন করা হয়। এসব আচার শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রকাশ নয়; পারিবারিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখারও মাধ্যম।

দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে বাংলার কৃষিজীবনের সম্পর্ক গভীর। প্রাচীন বাংলার অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। ধান ও খাদ্যশস্য ছিল মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন। তাই গোলাভরা ধানকে সচ্ছলতা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ, ধানের শিষ ও শস্যের ছবি দিয়ে আলপনা আঁকার রীতিতেও সেই ঐতিহ্যের প্রতিফলন রয়েছে। কোথাও মাটির সরা বা পটচিত্রে দেবীর প্রতীক স্থাপন করা হয়, আবার কোথাও সপ্ততরী সাজিয়ে পূজার আয়োজন করা হয়। এসব লোকজ উপকরণ বাংলার শিল্প, কৃষি ও সংস্কৃতির সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরে।

দেবী লক্ষ্মীর বাহন পেঁচাও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের প্রতীক। পেঁচা ইঁদুর খেয়ে শস্যের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে। কৃষিজীবনের এই বাস্তব অভিজ্ঞতা ধর্মীয় কল্পনার সঙ্গে মিশে পেঁচাকে দেবীর বাহন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনযাত্রার পারস্পরিক নির্ভরতার কথাও স্মরণ করা যায়।

তবে ‘কে জেগে আছ’—এই প্রশ্নের সামাজিক তাৎপর্যও রয়েছে। আমরা কি সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের কষ্ট সম্পর্কে সচেতন? তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কি আমরা জেগে আছি? পূজার রাতে প্রদীপ জ্বালানোর পাশাপাশি সমাজের অন্ধকার দূর করার অঙ্গীকারও জরুরি।

আজ কৃষক উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারের অনিশ্চয়তায় সংকটে পড়েন। অথচ তাঁদের শ্রমেই ঘরে ঘরে অন্ন পৌঁছায়। যাঁদের শ্রমে খাদ্য উৎপাদিত হয়, তাঁদের জীবন অনিশ্চিত থাকলে সমৃদ্ধির ধারণা পূর্ণতা পায় না। তাই লক্ষ্মীপূজার শিক্ষা হতে পারে কৃষকের শ্রমের মর্যাদা দেওয়া, খাদ্যের অপচয় বন্ধ করা এবং উৎপাদককে তাঁর ফসলের ন্যায্য মূল্য দেওয়ার দাবি জোরালো করা। যে সমাজে খাদ্য নষ্ট হয়, অথচ মানুষ অনাহারে থাকে, সেখানে অন্নের প্রতি শ্রদ্ধা ও সামাজিক ন্যায়বোধের প্রয়োজন আরও বেশি।

লক্ষ্মীকে সৌভাগ্যের প্রতীক বলা হলেও সৌভাগ্য কেবল টাকা-পয়সা, সোনা-গয়না কিংবা বিলাসী জীবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের সুস্থতা, শান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৎ উপার্জন ও নিরাপদ জীবনও সমৃদ্ধির অংশ। একইভাবে জাতীয় আয় বাড়লেই সবার জীবনমান উন্নত হয় না। সম্পদের সুষম বণ্টন ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত না হলে প্রকৃত সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।

মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানো, ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, সৎ পথে উপার্জন করা এবং অন্যের অধিকার রক্ষা করা মানবিক সমৃদ্ধির পরিচয়। ধর্মীয় আচার তখনই জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়, যখন তা মানুষের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

দুর্গাপূজা আমাদের শুভশক্তির জয় ও সম্প্রীতির বার্তা দেয়। অন্যদিকে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা মনে করিয়ে দেয় অন্ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা। তাই এ উৎসব শুধু বাহ্যিক আড়ম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দরিদ্র মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, খাদ্য অপচয় রোধ এবং কৃষকের শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে পরিণত করা প্রয়োজন।

কোজাগরী পূর্ণিমার চাঁদ যখন বাংলার আকাশ আলোকিত করে, তখন ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠা প্রদীপ আমাদের মনে করিয়ে দিক—প্রকৃত সৌভাগ্য শুধু ব্যক্তিগত সম্পদে নয়; মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা, শান্তি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্যেও নিহিত। দেবী লক্ষ্মীর কাছে প্রার্থনা, প্রতিটি ঘরে থাকুক অন্ন, প্রতিটি পরিবারে আসুক শান্তি, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ পান তাঁদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য এবং সমাজ থেকে দূর হোক অভাব, বঞ্চনা ও বৈষম্য।

কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা হয়ে উঠুক সৌভাগ্যের আরাধনার পাশাপাশি মানবিকতা, সৎ জীবন ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয়।

লেখক: সংবাদকর্মী, আশাশুনি, সাতক্ষীরা

Ads small one

প্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসার আরবি প্রভাষকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
প্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসার আরবি প্রভাষকের মৃত্যু

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাওলানা রহমাতুল্লাহ নামে এক মাদ্রাসার আরবি প্রভাষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিজ বাড়িতে ধানখেতে পানি দেওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রহমাতুল্লাহ প্রতাপনগর গ্রামের সুলতান আহমেদ ময়রার একমাত্র ছেলে। তিনি আনুলিয়া মদিনাতুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসায় আরবি বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে মোটরের সাহায্যে ধানখেতে পানি দেওয়ার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই ছেলেসন্তান রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

সাতক্ষীরায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভায় প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলনমেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভায় প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলনমেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি: ঋতু পরিবর্তনের বারতায় মৃদু হাওয়ায় যখন চারপাশের রূপ বদলে যায়, তখনই মাটির টানে যেন জেগে ওঠে মানুষের সুকোমল মন। প্রকৃতির সেই অপার সৌন্দর্য, রূপ ও ছন্দকে জীবনের পরম পাথেয় করে সাতক্ষীরায় আয়োজিত হলো এক ব্যতিক্রমী প্রীতি মিলনমেলা। ‘সুন্দর প্রকৃতিতে গড়ি সুস্থ জীবন’—এই মর্মবাণীকে অন্তরে ধারণ করে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব, সাতক্ষীরা’-র সাধারণ সভা।

ঋতুর ঘূর্ণাবর্তে রূপসী বাংলা একেক সময় একেক নতুন সাজে ধরা দেয়। কখনো বর্ষার অবিরল জলধারা ধুয়ে দেয় শ্রান্তি, কখনো শরতের শুভ্র কাশফুল ও মেঘমুক্ত নীল আকাশ মনে করিয়ে দেয় পরম বিশুদ্ধতার কথা। প্রকৃতির এই চিরন্তন নিয়মের সঙ্গেই যেন একাকার হয়ে উঠেছিল ক্লাব সদস্যদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি।

সবুজে ঘেরা বনাঞ্চল ও জলরাশিবেষ্টিত সুন্দরবনের উপকূলীয় এই জনপদের প্রকৃতি বাঁচানোর এক সুকোমল আকুতি ধ্বনিত হয়েছে অনুষ্ঠানে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পরিচালনায় এই সভা কেবল এক প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন হয়ে থাকেনি; বরং তা হয়ে উঠেছিল পরিবেশ রক্ষা, সুষম জীবনযাপন এবং ঋতুভিত্তিক প্রাকৃতিক সামঞ্জস্য রক্ষার এক অনন্য অঙ্গীকারনামা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে পৃথিবীই একমাত্র প্রাণের ভালোবাসার ঘর। তাই এর পরিবেশ ও প্রকৃতিকে আগলে রাখার দায়িত্বও আমাদের। হৃদয়ের মমতা ও সংবেদনশীলতা দিয়ে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হবে। সুন্দরবন আমাদের ফুসফুস; একে রক্ষায় আমাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি নদ-নদী রক্ষা, দূষণ প্রতিরোধ এবং নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করে তার যত্ন নিতে হবে।

সংগঠনের সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মুনির উদ্দীনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সমন্বয়কারী ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ। সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, ডাক্তার সুশান্ত কুমার ঘোষ, অধ্যাপক পবিত্র মোহন দাশ, শেখ সিদ্দিকুর রহমান, মাধব চন্দ্র দত্ত, আলী নূর খান বাবুল; সহসভাপতি জ্যোৎস্না দত্ত, প্রবীর চন্দ্র দত্ত, সত্যপ্রকাশ দত্ত; কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ; সদস্য বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু আফফান রোজবাবু, শেখ হারুন উর রশিদ, এসএম শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক পাল শুভাশীষ, নাজমুল হক, উম্মে ফুয়ারা, এসএম হাবিবুল হাসান, জিএম আমিনুল হক, মোস্তাকিম হোসেন, গাজী আসাদ, সালাউদ্দীন রানা, মিলন বিশ্বাস, হাবিবুর রহমান সোহাগ, মৃত্যুঞ্জয় রায় অপূর্ব, মোঃ আব্দুর রহিম, সুধাংশু কুমার রাহা, জাহিদ হাসান, মোঃ ওলিউর রহমান, তানজির আহমেদ, গাজী মাহিদা মিজান, ফাহিম হাসনাত ইমন, মেহেদী হাসান (শিমুল), মো. হোসেন আলী ও সাখাওয়াতউল্যাহ।

প্রকৃতির স্নিগ্ধতা রক্ষা ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তুলতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নানামুখী কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করা হয়। তা হলো— বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: আগামী জুন-জুলাই মাসে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে প্রতিটি শাখা অন্তত ৩০০টি (১০০টি ফলদ, ১০০টি বনজ ও ১০০টি ঔষধি) চারা রোপণ করবে। সফলতম ৩টি শাখাকে কেন্দ্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হবে। এ ছাড়া সদস্যরা বছরজুড়ে ব্যক্তিগত পর্যায় থেকেও বৃক্ষরোপণ চালিয়ে যাবেন।

ভিডিওচিত্র ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা: পরিবেশ, প্রকৃতি ও জলবায়ু বিষয়ে ২-৩ মিনিটের ভিডিওচিত্র এবং স্থিরচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। নির্বাচিত সেরা চিত্রগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পাশাপাশি বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।

‘প্রকৃতিবার্তা’ ও প্রকাশনা: সদস্যদের পরিবেশবিষয়ক সেরা লেখা ও ছবি ‘প্রকৃতিবার্তা’ ম্যাগাজিনে স্থান পাবে। পাশাপাশি শাখাগুলো নিজস্ব উদ্যোগেও প্রকাশনা বের করতে পারবে।

স্কুলপর্যায়ে বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ: পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে বিদ্যালয় পর্যায়ে বিতর্ক, প্রাথমিকে চিত্রাঙ্কন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতি মাসে নদী তীর, পার্ক, সড়ক, বনাঞ্চল, শহীদ মিনার ও পাঠাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে।

পাঠচক্র ও পাঠাগার স্থাপন: প্রকৃতিবিষয়ক বই নিয়ে নিয়মিত মাসভিত্তিক পাঠচক্রের আয়োজন এবং স্থানীয়ভাবে পাঠাগার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দিবস পালন ও সেবামূলক কাজ: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসের পাশাপাশি রক্তদান, চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মতো আর্তমানবতার সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ইকো ট্যুরিজম ও বৈঠক: সদস্যদের সৌহার্দ্য বাড়াতে প্রাকৃতিক পরিবেশে আনন্দঘন ‘ইকো ট্যুরিজম’-এর আয়োজন করা হবে। সংগঠনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে প্রতি মাসে কার্যনির্বাহী বৈঠক ও প্রতি তিন মাস পর পর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, প্রতিটি কর্মসূচির তথ্য ও ফুটেজ কেন্দ্রীয় পর্ষদে পাঠানো হবে এবং সারা বছরের কাজের ভিত্তিতে সেরা ১০টি ক্লাবকে ‘বর্ষসেরা অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে।

আলোচনা পর্বের শেষাংশে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব সাতক্ষীরা শাখার ১১ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়। নবগঠিত কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন—সভাপতি: অ্যাডভোকেট মুনির উদ্দীন, সহ-সভাপতি: মো. ওলিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক: মো. আব্দুস সামাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. নাজমুল হক, অর্থ সম্পাদক: মো. আসাদুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: মো. হোসেন আলী, দপ্তর সম্পাদক: মাশকুরা পারভীন মৌ, নারী বিষয়ক সম্পাদক: উম্মে ফুয়ারা রানী, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক: এস এম শহীদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক: এসএম সাজেদুল ইসলাম, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক: অর্পণ বসু। প্রকৃতির ছন্দে পা মিলিয়ে মানুষের এই সম্মিলিত পথচলা যেন ঋতুচক্রের প্রতিটি বাঁকে হারিয়ে যাওয়া স্নিগ্ধতা ও প্রাণপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার এক নতুন দীপশিখা হয়ে জ্বলছে।

গ্রামবাংলার খাল-বিলে মাছ ধরার চিরচেনা দৃশ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
গ্রামবাংলার খাল-বিলে মাছ ধরার চিরচেনা দৃশ্য

আজহারুল ইসলাম সাদী

গ্রামবাংলার প্রকৃতি মানেই সবুজের সমারোহ, আঁকাবাঁকা মেঠোপথ, গাছের ছায়া আর খাল-বিলজুড়ে পানির কলতান। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে চারপাশের জলাশয়গুলো পানিতে ভরে ওঠে। খাল-বিলে ফুটে থাকা শাপলা-শালুকের সৌন্দর্যের সঙ্গে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য গ্রামীণ জীবনে যোগ করে ভিন্ন এক মাত্রা।

গ্রামবাংলার খাল, নালা ও বিলে জাল ফেলে মাছ ধরার দৃশ্য আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মাছ ধরা শুধু জীবিকা নির্বাহ কিংবা পরিবারের খাদ্যের জোগান নয়; এটি অনেকের কাছে আনন্দ, মিলন ও পারস্পরিক সহযোগিতারও উপলক্ষ। জালভরা টেংরা, পুঁটি, কই, মাগুর, বাইনসহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ ধরা পড়লে জেলেদের মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি।

গ্রামাঞ্চলে মাছ ধরার রয়েছে নানা ঐতিহ্যবাহী কৌশল। কোথাও বাঁশের কাঠামোয় বসানো ভেসাল বা খারা জাল পানিতে নামিয়ে মাছ ধরা হয়। কোথাও দক্ষ হাতে ঝাঁকি জাল ছুড়ে পানির মাছ আটকে ফেলা হয়। চার কোণায় বাঁশের কাঠি লাগানো ধর্ম জাল পানিতে নামিয়ে তোলা হয়, আর ঠেলা জাল দিয়ে অগভীর পানিতে ছোট মাছ ও চিংড়ি ধরা হয়। এ ছাড়া খাল-নালায় পানির স্রোতের মুখে বাঁশের তৈরি ঘুনি ও অন্যান্য ফাঁদ পেতেও মাছ শিকার করেন গ্রামীণ মানুষ।

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের এমন দৃশ্য গ্রামবাংলার সহজ-সরল জীবনযাত্রার পরিচয় বহন করে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এলেও খাল-বিলে মাছ ধরার এই চিরচেনা দৃশ্য আজও গ্রামীণ ঐতিহ্য ও প্রকৃতির সৌন্দর্যকে জীবন্ত করে রেখেছে।

ছবি: সাতক্ষীরার কুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর টিকিট গ্রামের প্রবেশদ্বারের একটি খাল থেকে মাছ ধরছেন এক জেলে।