সন্তানকে যেভাবে সবজি খাওয়াবেন
সবজির মধ্যে আছে ভিটামিন, মিনারেলস, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট যা একটি শিশুর বিকাশে সাহায্য করে এবং তার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। পরিবারের ছোট সদস্যরা এমনকি পরিণত বয়সের সন্তানকেও সবজি খাওয়াতে বেগ পেতে হয় অনেক মায়ের। খেতে বসে সবজি দেখলে তারা নাক সিটকায়, মুখ বাকায়, জেদ করে।
শিশুরা সবজি দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নিলেও বড়দের চেষ্টা করতে হবে সেটা খাওয়ানোর। সবজি না খাওয়ালে তো সুষম পুষ্টি মিলবে না। তাই অনাগ্রহী হলেও সন্তানকে সবজি খাওয়াতে হবে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের আটটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাস্তায় সবজি দিলে প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রেই শিশুরা তা খেয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সাধারণত নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার খায়, তাই মাংস বা অন্য কিছু র তুলনায় সবজির অনুপাত বাড়ালে শিশু স্বাভাবিকভাবেই বেশি পরিমাণে সবজি গ্রহণ করে। প্লেটে ফল ও সবজির পরিমাণ ৫০ শতাংশ বাড়ালে শিশু তা খাওয়ার পরিমাণও বেড়ে যায়। এ ছাড়া একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি দিলে প্রাক-বিদ্যালয়ের শিশুরা বেশি পরিমাণে সেগুলো খায়।
যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব-মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ম্যারিয়ন হেথারিংটন বলছেন, শৈশবে যত বেশি ধরনের শাকসবজি বারবার খাওয়ানোর চেষ্টা করা হবে, শিশু তত সহজেই সেগুলো গ্রহণ করবে। প্রাক-বিদ্যালয় পর্যায়ে অর্থাৎ পাঁচ বছর বয়সের আগে এই অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর।
তার মতে, পাঁচ বছরের মধ্যে যদি শিশুকে বিভিন্ন সবজির সঙ্গে পরিচিত করানো না যায়, তবে পরে তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। একেবারেই যে পারা যায় না তা নয়, তবে অনেক কঠিন হয়ে যায়।
মার্কিন পেনসিলভানিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞানের অধ্যাপক বারবার রোলস বলছেন, এভাবে প্রথমে সবজি দিলে শিশু অতিরিক্ত খাবারও খায় না। শুধু দুপুর বা রাতের খাবার নয়, সকালের নাস্তাতেও সবজি যোগ করা যেতে পারে। যেমন ওমলেটে মাশরুম বা পালংশাক, বা মাফিনে কুচি করা কুমড়ো।
কীভাবে খাওয়াবেন-
১। শিশুদের পছন্দমতো রান্না করুন। প্রয়োজনে সবজির মধ্যে মুরগির মাংস দিয়ে দিন।
২। কয়েক রঙের সবজি রান্না করুন। একটু কর্নফ্লাওয়ার আর ডিম দিন।
৩। সবজি দিয়ে কাটলেট তৈরি করুন, বার্গারও করে দিতে পারেন।
৪। শিশুরা ঝাল খেতে পারে না। তাই রান্নার পরে সবজিতে হালকা চিনি মিশিয়ে দিন।
৫। সবজি কেনার সময় খেয়াল করতে হবে, এগুলো যেন তরতাজা থাকে।
৬। রান্নার সময় খেয়াল রাখতে হবে, সবজি কেনার পর যত দ্রæত সম্ভব রান্না করতে হবে।
৭। সবজি ধোয়ার জন্য বেশি সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখা যাবে না।
৮। শিশুকে বোঝাতে হবে যে সবজি মানেই সেটা সব সময় বিস্বাদ নয়। বাড়িতে যদি ভালো করে সেটা রান্না করা যায়, খেতে ভালোই লাগবে।
৯। যখন সবজি রান্না করা হচ্ছে তখন, কিছু দায়িত্ব আপনার শিশু সন্তানকেও দেয়া যায়। গাজর, আলু, মটরশুটি এগুলো যদি সে ধুয়ে দেয় বা রান্নার সময় একটু খুন্তি নাড়িয়ে দেয়, তাহলে তার মনে হবে সেও অনেক কিছু করেছে। যা জিনিসটা খাওয়ার প্রতি তার আকর্ষণ বাড়াবে।
১০। ধৈর্য না হারিয়ে ধীরে ধীরে আপনার শিশু সন্তানকে সবজি খাওয়ানো অভ্যাস করতে হবে। বকুনি দিলে জিনিসটা খাওয়া নিয়ে তার মনে ভয় আর অনিচ্ছা বাড়বে বই কমবে না।
১১। একটা শিশুর জন্য বাবা মা-ই প্রথম রোল মডেল হয়। তারা যা করে শিশুরাও চেষ্টা করে তেমন করতে। সবাই একসঙ্গে খেতে বসলে শিশু যখন দেখবে পরিবারের সবাই ফল আর সবজি খাচ্ছে তখন সেও সেটি খেতে আগ্রহী হবে।
সে খেতে না চাইলে জোর করবেন না। তাহলে খাবারের প্রতি তার আগ্রহ চলে যাবে। নিয়মিত একসঙ্গে খেতে বসুন। এক সময় সে নিজেই প্লেট থেকে খাবার তুলে নেবে।
১২। নিয়মিত খাবার খেতে উৎসাহিত করার জন্য শিশুকে ছোট ছোট পুরস্কার দিতে পারেন। যেমন পেন্সিল, বা তার পছন্দের কার্টুন স্টিকার। নিয়মিত তার লম্বা হওয়ার বিবরণ রাখুন। শিশুকে জানান সে নিয়মিত খাওয়ার ফলে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক গঠন বাড়ছে।












