শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর

১৯৭১ সালে অগুণতি আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, তার মূল চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। কিন্তু স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই দেশজুড়ে তৈরি হয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থব্যবস্থার স্থবিরতা এবং সহিংস মেরুকরণে যখন জাতীয় অস্তিত্বই হুমকির মুখে, ঠিক তখনই ইতিহাসের বাঁক বদলে সামনে আসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নম্বরের ভূমিকা কোনো সাময়িক ঘটনার ফ্রেমে বন্দী নয়; বরং এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। ৩ নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেনাবহিনী ও রাষ্ট্রের ভেতরে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভাবনীয় ঐক্যের মাধ্যমে তার অবসান ঘটে। খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল আবু তাহেরের রাজনৈতিক সমীকরণ ও কৌশলের বিপরীতে সাধারণ সিপাহি ও জনগণের আস্থার ঠিকানা হয়ে ওঠেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। এ দিন দেশবাসী যেন নিজেদের হারানো বিশ্বাস ও স্বকীয়তা পুনর্র্নিধারণের পথ খুঁজে পায়।

৭ নভেম্বরের মাধ্যমে ক্ষমতার দৃশ্যপটে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশে সূচনা হয় এক অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্যের। তৎকালীন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়—ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা দীর্ঘকাল লৌহকপাট শাসনের বন্দিদশায় রেখেছিলেন নিজ নিজ দেশকে। কিন্তু সামরিক পথ ধরে দায়িত্বে এসেও জিয়াউর রহমান ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি অতি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে রাষ্ট্রকে গণতন্ত্রের সুগম পথে চালিত করেন এবং রাজনীতিকে সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।

জিয়াউর রহমানের এই যুগান্তকারী যাত্রায় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও আসে বিরাট পরিবর্তন। উদার উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতির দুয়ার খুলে দেওয়া হয়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ, বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ও ক্ষুদ্রঋণের প্রচার-প্রসারের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের বিশাল ক্ষেত্র তৈরি হয়। এতে একদিকে যেমন ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসে, অন্যদিকে দেশের আর্থ-সামাজিক চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে।

রাজনীতির ক্ষেত্রেও তিনি প্রদর্শন করেন এক অনন্য প্রজ্ঞা। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর পতাকাতলে সবাইকে একতাবদ্ধ করে ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন জাতি গঠনে সবাইকে যুক্ত করেন। বাকশালে নিষিদ্ধ ও বিলুপ্ত রাজনৈতিক দলগুলো আবার প্রকাশ্যে রাজনীতি চর্চার সুযোগ পায়, যা বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশকে ত্বরান্বিত করেছিল।

মূলত, ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ আবারও যে একটি ইস্পাতদৃঢ় রাজনৈতিক ও জাতীয় ঐক্যে শামিল হতে পেরেছিল, তা সম্ভব হয়েছিল ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক সংহতির কারণেই। সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আত্মমর্যাদাশীল অর্থব্যবস্থা গঠন এবং প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত পুনর্নির্মাণের যে সূচনা সেদিন হয়েছিল, তা-ই আজকের আধুনিক বাংলাদেশের শক্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর মূল ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে বিবেচিত।

Ads small one

শ্যামনগরে যুবলীগের মশাল মিছিলের ভিডিও প্রকাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে যুবলীগের মশাল মিছিলের ভিডিও প্রকাশ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ব্যানারে মশাল মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের রাহাতুল্লার মোড় থেকে মিছিলটি বের হয়ে স্থানীয় বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে যুবলীগের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে মিছিলের ভিডিও পোস্ট করেন।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ছুটিতে রয়েছেন। বিষয়টি শুনেছেন। অনেক সময় পুরোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়। মিছিলটি সাম্প্রতিক সময়ে হয়ে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরায় পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১০ টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১০ টাকা

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা কমেছে। সরবরাহ বাড়ায় পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ে দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা।

সুলতানপুর বড় বাজারে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পেঁয়াজ খুচরা বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এ দাম ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। বাজারের পাইকারি মসলা বিক্রির আড়ত মেসার্স মামা-ভাগ্না ভাণ্ডারে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা।

বিক্রেতারা জানান, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় পাইকারি পর্যায়ে দাম কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ইকবাল আহমেদ জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে ৭ হাজার ৮০০ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে।

দেবহাটায় যুব ঐক্য পরিষদের ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় যুব ঐক্য পরিষদের ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় উপজেলার পারুলিয়া সাগরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় (সাইক্লোন সেন্টার) প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ হয়।

সমাবেশে সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে দীপংকর ঘোষকে আহ্বায়ক ও বাপ্পা দাসকে সদস্যসচিব করে ২১ সদস্যের উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ দেবহাটা উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহ্বায়ক অমিত কুমার ঘোষ। উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দেবহাটা উপজেলা শাখার সভাপতি চন্দ্রকান্ত মল্লিক। প্রধান বক্তা ছিলেন যুব ঐক্য পরিষদের জেলা শাখার সদস্যসচিব অরবিন্দ কর্মকার।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার ঘোষ, সাংগঠনিক সম্পাদক অসীম কুমার ঘোষ, বিপ্লব কান্তি মণ্ডল, গোপাল কুমার সরকার, গাজীরহাট দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক অলোক সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরা হবে সম্প্রীতি, শান্তি, ন্যায়বিচার ও সহাবস্থানের জনপদ। চাঁদাবাজি, ভূমিদখল, সন্ত্রাস, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রধান অতিথি অমিত কুমার ঘোষ বলেন, যুব ঐক্য পরিষদ বিভেদ বা বিদ্বেষে বিশ্বাস করে না; সংগঠনটি ন্যায়, মানবিকতা, অধিকার ও সম্প্রীতির পক্ষে কাজ করে। সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, ধর্মীয় অধিকার, সম্পদ ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় সংগঠনটি সোচ্চার থাকবে। অন্যায়, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ভূমিদখলের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মতভাবে কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।

নবগঠিত কমিটির নেতারা জানান, দেবহাটায় যুবসমাজকে সংগঠিত করে সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক কর্মকাণ্ড, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন তারা।