শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: চামড়া শিল্পের বিপর্যয় ও অপচয় আর কত দিন?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়: চামড়া শিল্পের বিপর্যয় ও অপচয় আর কত দিন?

পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান অনুষঙ্গ কোরবানি। আর এই কোরবানিকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনীতি ও চামড়া শিল্পে এক বিশাল কর্মচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া নিয়ে যে চরম অব্যবস্থাপনা ও বিপর্যয় দেখা যাচ্ছে, তা এবারও পিছু ছাড়েনি। উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায় চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পেয়ে সাধারণ মানুষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বাধ্য হয়ে তা মাটিতে পুঁতে ফেলা কিংবা পরিত্যক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রাখার চিত্র কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি কেবল একটি জাতীয় সম্পদের অপচয়ই নয়, বরং দেশের সম্ভাবনাময় একটি শিল্পের করুণ পরিণতির স্পষ্ট সংকেত।

 

শ্যামনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন, বিশেষ করে দুর্গম গাবুরা বা বুড়িগোয়ালিনী এলাকার মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষ দিন-রাত অপেক্ষা করেও চামড়ার কোনো ক্রেতা পাননি। সরকার প্রতিবছরই কাঁচা চামড়ার একটি দাম নির্ধারণ করে দেয়, কিন্তু মাঠপর্যায়ে তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় না—তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের বক্তব্য অনুযায়ী, লবণের আকাশচুম্বী দাম এবং বাড়তি পরিবহন খরচের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় তাঁরা চামড়া কিনতে সাহস পাচ্ছেন না। এর ওপর যুক্ত হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও আড়তের অভাব।

 

এই সংকটের বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। প্রথমত, আমাদের দেশের কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোর আয়ের একটা বড় অংশ আসে কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ থেকে, যা দিয়ে সারাবছর দুস্থ ও অনাথ শিক্ষার্থীদের ভরণপোষণ করা হয়। চামড়ার বাজারে এই ধসের কারণে এই মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলো চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ল। দ্বিতীয়ত, শত শত চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা বা যত্রতত্র ফেলে রাখার কারণে তা পচে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের নাজুক পরিবেশকে আরও ঝুঁকিতে ফেলবে।

 

প্রশ্ন হলো, বছরের পর বছর ধরে কেন এই একই সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটবে? কেন ট্যানারি মালিক ও বড় আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কাছে মাঠপর্যায়ের প্রান্তিক মানুষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে থাকবেন? সরকার শুধু দাম নির্ধারণ করেই যদি দায়িত্ব শেষ মনে করে, তবে মাঠপর্যায়ের এই বিশৃঙ্খলা কোনোদিনই থামবে না।
চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে হলে এবং এই জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধ করতে হলে এখনই দীর্ঘমেয়াদি ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।

 

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি উদ্যোগে চামড়া সংরক্ষণের জন্য অস্থায়ী হিমাগার বা আধুনিক সেন্ট্রাল ডিপো তৈরি করা জরুরি, যাতে লবণের দাম বাড়লেও চামড়া পচে নষ্ট না হয়। একই সঙ্গে, সিন্ডিকেট ভেঙে মাঠপর্যায়ে সরকারি নজরদারি ও মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে, যাতে ট্যানারি মালিকদের দেওয়া সেন্ট্রাল লোন বা সুবিধার সুফল প্রান্তিক বিক্রেতারাও পান। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকেরা শ্যামনগরের এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে চামড়া শিল্পের এই প্রাতিষ্ঠানিক সংকট দূরীকরণে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন।

 

 

 

 

Ads small one

ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ১৪ বাংলাদেশি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ১৪ বাংলাদেশি

Oplus_131072

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সাজাভোগ শেষে ১৪ বাংলাদেশি নারী ও পুরুষকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত। গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদেরকে হস্তান্তর করেন।

 

দেশে ফেরা ব্যক্তিরা হলেন- আবু সাকের, আলাউদ্দিন, জামের আলী, খালিদ হোসাইন, ময়না বেগম, সানোয়ার আলী, রিনা বেগম, মিনহাজ মিয়া, ইসমাইল হোসেন, মোহাম্মদ তামিম, মোহাম্মদ ফাহিম, নাজমিন আক্তার, বাদশা মিয়া, মোস্তফা কামাল। এদের মধ্যে ১৩ জন সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং একজন যশোরের শার্শা উপজেলার বাসিন্দা।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফেরত আসা বাংলাদেশিরা বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। অনুপ্রবেশের দায়ে দেশটির পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়। পরে ভারতের পাঞ্জাব সেন্ট্রাল জেল খানায় দুই থেকে তিন বছর মেয়াদে সাজাভোগ শেষে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরত পাঠায়।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, বিজিবি, বিএসএফ ও উভয় দেশের পুলিশের উপস্থিতিতে ১৪ জন বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশে পাঠানো হয়েছে। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বেনাপোল পোর্ট থানায় এদেরকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম বলেন, চাকরির প্রলোভনে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদেরকে আগামীকাল নিজ নিজ দায়িত্বে বাড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া হবে।

 

সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১:২০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে বলে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে আকস্মিক এ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা “শেখ হাসিনা আসবে-বাংলাদেশ হাসবে, আওয়ামী লীগৈর নিষেধাজ্ঞা মানি না মানবো না, ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা মানি না মানবো না” সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলের স্থানটি সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা এলাকায় হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।
স্থানীয় বিভিন্ন নিউজ পোটাল ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, “শিশু হত্যা, খুন, ধর্ষণ, তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ এর সংকট ও শিক্ষার অধিকার হরণের দায়ে সরকারের পদত্যাগ করতে হবে” স্লোগান লেখা ব্যানার হাতে মছিলটি সড়কের কিছু অংশ অতিক্রম করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিল শেষে নেতাকর্মীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। মিছিলটি শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে এসব নিউজ পোটালের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আশাশুনিতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কনফারেন্স কক্ষে এ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়।
“মেধা-বিজ্ঞান উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে” এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোের্ট স্কিম, এসইডিপি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ, ঢাকার আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু। একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ হাসানুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনের এমপি, মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের প্রতিনিধি ও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাও. নূরুল আফসার মুর্তাজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলাম, সাবেক সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন, আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাজহারুল ইসলাম মুকুল। অন্যদের মধ্যে আশাশুনি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়েরর প্রধান শিক্ষক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, আশাশুনি প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক লিংকন আসলাম, কোষাধ্যক্ষ এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক মুস্তাহিদুর রহমানসহ উপজেলার ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ ১২টি বিদ্যালয়ের “স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী আইডিয়া উপস্থাপনকৃত মেলার স্টল ঘুরে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করেন। মেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে, সরাপপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয় আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে, গুনাকরকাটি শাহ মোহাম্মদ ইয়াহিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়।