রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় সেবা বান্ধব পুলিশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সেবা বান্ধব পুলিশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

পত্রদূত রিপোর্ট: রবিবার (০৯ আগস্ট ২০২৬) সকাল ৯ টায় সাতক্ষীরা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের আয়োজনে ‘পুলিশের মোটিভেশন ট্রেনিং ও নৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত’ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

 

জনবান্ধব, সেবামুখী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট (ভারপ্রাপ্ত) এ.এস.এম. হাফিজুর রহমান।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি বলেন, এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো পুলিশ সদস্যদের মধ্যে জনসেবার মানসিকতা, সততা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, পেশাদারিত্ব ও নৈতিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় করা।

 

জনগণের প্রতি আরও আন্তরিক, দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আস্থাভাজন সম্পর্ক গড়ে তোলা। তিনি প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও মূল্যবোধ কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রয়োগের জন্য সকল প্রশিক্ষণার্থী’র প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), মোঃ শাহীনুর চৌধুরীসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ সদস্যবৃন্দ।

 

 

Ads small one

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: জনদুর্ভোগের ফাঁদ সাতক্ষীরা-ভেটখালী সড়ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: জনদুর্ভোগের ফাঁদ সাতক্ষীরা-ভেটখালী সড়ক

সাতক্ষীরা-ভেটখালী আঞ্চলিক মহাসড়কটির সংস্কারকাজ সংস্কারের সুবিধাকে ছাপিয়ে জনদুর্ভোগের নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন খানাখন্দ, কাদা-পানি আর খোঁড়াখুঁড়ির ধকল সয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহন চালক। প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা, রোগী পরিবহনে চরম সংকট এবং জীবনযাত্রা থমকে যাওয়ার এই সার্বিক চিত্র কেবল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি নয়, সরকারের সড়ক বিভাগের দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থারও জ্বলন্ত প্রমাণ।
৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি প্রশস্ত ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর মাত্র ৩২শতাংশ অগ্রগতি হওয়াকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। বৈদ্যুতিক পোল বা কারিগরি জটিলতার অজুহাতে কাজের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হলেও মাঠপর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান গতি নেই। ফলে সংস্কারের নামে পুরো সড়কটি এখন চরম অব্যবস্থাপনায় এক স্থবির খালে পরিণত হয়েছে।
সড়কের দুর্দশার কারণে চালকদের মেরামতের খরচ বেড়ে পকেট ফাঁকা হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারছে না এবং মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রকল্পে যদি গণমানুষের ন্যূনতম চলাচলের সুযোগ না থাকে, তবে সেই উন্নয়ন কার কল্যাণে? স্থানীয় সড়ক বিভাগের উচিত অনতিবিলম্বে দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে খানাখন্দ ও কাদা অপসারণ করে সড়কটিকে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।

বিবেক ও মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
বিবেক ও মানুষ

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
মানুষ নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী মনে করে। জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সভ্যতার অগ্রগতি তার সেই দাবিকে অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত করেছে। মানুষ মহাকাশে পৌঁছেছে, সমুদ্রের গভীরতা মেপেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করেছে। কিন্তু এত অর্জনের পরও একটি প্রশ্ন থেকেই যায়Ñনিজেকে বোঝার ক্ষেত্রে মানুষ কতটা এগিয়েছে?আমরা জানি কোনটি ভালো, কোনটি মন্দ। জানি সত্য বলা উচিত, অন্যায় করা উচিত নয়। জানি কাউকে অপমান করা ঠিক নয়, দুর্বল মানুষের সুযোগ নেওয়া অন্যায়। তারপরও বাস্তব জীবনে আমরা প্রায়ই জেনেশুনে তার বিপরীত কাজ করি। এখানেই মানুষের সবচেয়ে বড় স্ববিরোধিতা।অন্যের নিন্দা করার সময় আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, যার সমালোচনা করছি তিনিও একজন মানুষ। তারও অনুভূতি আছে, সম্মান আছে, দুর্বলতা আছে। অথচ তার অনুপস্থিতিতে তাকে নিয়ে কথা বলতে আমাদের অনেকেরই দ্বিধা হয় না। সামনে প্রশংসা, পেছনে সমালোচনাÑএই দ্বৈত আচরণ এখন সামাজিক জীবনের পরিচিত চিত্র।কারও ভালো কাজের প্রশংসা করতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু সেই মানুষটি যখন আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন, তখন তার ভালো কাজও চোখে পড়ে না। ব্যক্তিগত স্বার্থ সামনে এলে বিচারবোধ বদলে যায়। যে গুণ অন্যের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয়, নিজের পছন্দের মানুষের ক্ষেত্রে সেটিই হয়ে যায় স্বাভাবিক; আবার অপছন্দের মানুষের একই কাজ হয়ে যায় অপরাধ।এভাবে আমরা ন্যায় বোধকেও অনেক সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্বার্থের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি।মানুষের এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ক্ষমতা ও অর্থের ক্ষেত্রে। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলি, কিন্তু নিজের সুবিধার জন্য নিয়ম ভাঙতে অনেক সময় দ্বিধা করি না। অন্যের অনিয়মে ক্ষুব্ধ হই, কিন্তু নিজের অনিয়মকে ‘ছোট ব্যাপার’ বলে এড়িয়ে যাই। অন্যের ঘুষ নেওয়া অপরাধ, অথচ নিজের পরিচিত কেউ কাজ সহজ করতে কিছু দিলে সেটিকে অনেক সময় ‘উপহার’ হিসেবে দেখার চেষ্টা করি।এখানেই বিবেকের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।একজন মানুষ যখন কোনো অন্যায় করে, তখন সে সবসময় জানে না যে সে অন্যায় করছেÑএমন নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রেই সে জানে কাজটি ঠিক নয়। কিন্তু নিজের কাজকে বৈধ প্রমাণ করার জন্য যুক্তি তৈরি করে। ‘সবাই করে’, ‘আমি না করলে অন্য কেউ করবে’, ‘পরিস্থিতির কারণে করতে হয়েছে’Ñএ ধরনের যুক্তি দিয়ে মানুষ নিজের বিবেককে শান্ত করার চেষ্টা করে।কিন্তু অন্যায়কে যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়, ন্যায়সঙ্গত করা যায় না।আজকের সমাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই স্ববিরোধিতাকে আরও দৃশ্যমান করেছে। আমরা সেখানে খুব সহজেই নৈতিকতার কথা বলি। অন্যের ভুল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করি, মানবিকতার বাণী লিখি। কিন্তু নিজের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা তুলনা মূলকভাবে কম। অন্যের চরিত্র বিশ্লেষণ করা যেন আমাদের সহজ; নিজের চরিত্র বিশ্লেষণ করা কঠিন।অথচ সমাজ পরিবর্তনের প্রথম শর্ত অন্যকে পরিবর্তন করা নয়, নিজেকে পরিবর্তন করা।মানুষের চরিত্রের প্রকৃত পরীক্ষা হয় তখন, যখন তাকে কেউ দেখছে না। সবার সামনে ভালো থাকা খুব কঠিন নয়। প্রশংসা পাওয়ার সময় বিনয়ী হওয়া সহজ। কিন্তু কোনো সুযোগে অন্যের ক্ষতি করা সম্ভব হলেও তা না করা, ক্ষমতা হাতে থাকলেও দুর্বলকে দমন না করা, প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পেয়েও সংযত থাকাÑএসবই প্রকৃত চরিত্রের পরিচয়।একজন মানুষ কতটা শিক্ষিত, তা তার সনদে বোঝা যায়। কিন্তু সে কতটা মানুষ, তা বোঝা যায় তার আচরণে।আমরা সন্তানদের ভালো ফলাফল করতে শেখাই, বড় চাকরি করতে শেখাই, প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে শেখাই। কিন্তু তাদের কতটা শেখাই যে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি সৎ থাকাও জরুরি? কতটা শেখাই যে অন্যকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া আর অন্যের অধিকার কেড়ে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়? শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু কর্মসংস্থান নয়; মানুষ তৈরি করাও শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।সমাজে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা হলোÑসৎ মানুষকে অনেক সময় বাস্তব জ্ঞানহীন বা বোকা হিসেবে দেখা। যে ব্যক্তি ঘুষ নেয় না, প্রতারণা করে না, অন্যের অধিকার নষ্ট করে না, তাকে অনেকে ‘সুবিধা নিতে জানে না’ বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে অসৎ ভাবে দ্রুত অর্থ বা ক্ষমতা অর্জনকারীকে অনেক সময় সফল মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এই মূল্যবোধের পরিবর্তন দরকার। সাফল্য যদি শুধু অর্থ, পদ ও ক্ষমতার মাপকাঠিতে বিচার করা হয়, তাহলে সমাজে নৈতিকতার জায়গা সংকুচিত হবেই। প্রকৃত সাফল্য হলো এমনভাবে এগিয়ে যাওয়া, যেখানে নিজের উন্নতির সঙ্গে অন্যের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।মানবিকতা বড় কোনো তত্ত্ব নয়। এটি ছোট ছোট আচরণের মধ্যেই প্রকাশ পায়। রাস্তায় অসহায় মানুষকে সাহায্য করা, কর্মস্থলে অধীনস্থকে সম্মান করা, ভুল করলে ক্ষমা চাওয়া, অন্যের কথা মন দিয়ে শোনা, নিজের প্রাপ্যের বাইরে কিছু না নেওয়াÑএসব ছোট কাজই একটি বড় মানবিক সমাজ তৈরি করতে পারে।কিন্তু আমরা অনেক সময় বড় বড় কথা বলি, ছোট ছোট দায়িত্ব ভুলে যাই। কারও প্রতি অন্যায় আচরণ করার আগে যদি একবার ভাবিÑআমার সঙ্গে এমন আচরণ করা হলে কেমন লাগত, তাহলে অনেক অন্যায় থেমে যেতে পারে। কারও সম্মান নষ্ট করার আগে যদি মনে রাখিÑআমারও সম্মান আছে, তাহলে অনেক অপমানের ঘটনা ঘটত না। অন্যের অধিকার হরণ করার আগে যদি বুঝিÑঅধিকার হারানোর কষ্ট কেমন, তাহলে হয়তো নিজের স্বার্থকে একটু সংযত করা সম্ভব হতো।বিবেক আসলে মানুষের ভেতরের সেই নীরব কণ্ঠ, যা ভালো-মন্দের পার্থক্য মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু সেই কণ্ঠকে আমরা যত বেশি উপেক্ষা করি, তা তত দুর্বল হয়ে যায়। একসময় অন্যায়ও স্বাভাবিক মনে হতে শুরু করে।তাই সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আত্মজিজ্ঞাসার। প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করাÑআমি কি সত্যিই সেই মানুষ, যাকে অন্যের সামনে তুলে ধরতে চাই? আমি অন্যের কাছে যে নৈতিকতা প্রত্যাশা করি, নিজে কি তা পালন করি? যে আচরণ অন্যের কাছ থেকে পেলে আমি কষ্ট পাই, সেই আচরণ কি আমি অন্যের সঙ্গে করি না?এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অন্য কাউকে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের কাছেই সৎভাবে উত্তর দেওয়াই যথেষ্ট।মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রকৃত পরিচয় শুধু নতুন কিছু আবিষ্কার করার ক্ষমতায় নয়; নিজের ভুল স্বীকার করার সাহসেও। নিজের স্বার্থের বাইরে অন্যের কথা ভাবতে পারায়। ক্ষমতা থাকলেও সংযত থাকতে পারায়। সুযোগ থাকলেও অন্যায় না করার শক্তিতে।সমাজে আইন থাকবে, প্রতিষ্ঠান থাকবে, শাস্তির ব্যবস্থা থাকবেÑএসব প্রয়োজনীয়। কিন্তু কোনো আইনই মানুষের বিবেকের বিকল্প হতে পারে না। একজন পুলিশ বা প্রশাসনের কর্মকর্তা সবসময় পাশে থাকতে পারেন না। একজন বিচারক প্রতিটি কাজের সাক্ষী হতে পারেন না। কিন্তু একজন মানুষের বিবেক সবসময় তার সঙ্গে থাকে।সেই বিবেককে জাগ্রত রাখাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমরা যদি সত্যিই নিজেদের বুদ্ধিমান মনে করি, তাহলে সেই বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হওয়া উচিত আমাদের আচরণে। কথায় নয়, কাজে; প্রদর্শনে নয়, চরিত্রে; অন্যকে বিচার করার মধ্যে নয়, নিজেকে বিচার করার সাহসে।শেষ পর্যন্ত মানুষ অন্যের চোখে যতটা ভালো, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সে নিজের চোখে কতটা সৎ। কারণ অন্য সবাইকে কিছু সময়ের জন্য বোঝানো সম্ভব, কিন্তু নিজের বিবেককে দীর্ঘদিন ফাঁকি দেওয়া যায় না।তাই সময় এসেছে অন্যকে প্রশ্ন করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করারÑবিবেক যা বলছে, আমি কি সত্যিই তা শুনছি। লেখক: সংবাদকর্মী

গণতন্ত্রের প্রাণ হোক নাগরিকের প্রশ্ন করার অধিকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
গণতন্ত্রের প্রাণ হোক নাগরিকের প্রশ্ন করার অধিকার

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
প-িত জওহরলাল নেহরুকে ঘিরে একটি প্রচলিত উপাখ্যান রয়েছেÑসংসদ ভবন থেকে বের হওয়ার সময় এক বয়স্কার নারী তাঁর কলার ধরে স্বাধীন দেশের প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। জবাবে নেহরু বলেছিলেন, “পেয়েছেন তো! প্রধানমন্ত্রীর কলার ধরার স্বাধীনতা।” ঘটনাটি ইতিহাসের অকাট্য সত্য না হলেও উপাখ্যানটির ভেতরে লুকিয়ে আছে এক গভীর গণতান্ত্রিক দর্শন। গণতন্ত্র মানে শুধু ভূখ- বা পতাকার স্বাধীনতা কিংবা নির্দিষ্ট সময় পর ভোট দেওয়া নয়; এর মূল কথা হলো নাগরিকের মর্যাদা, অধিকার এবং নির্ভয়ে কথা বলার স্বাধীনতা।
গণতন্ত্রে রাষ্ট্র ক্ষমতার মূল উৎস জনগণ। এখানে সরকার জনগণের ওপর কর্তৃত্ব করতে নয়, বরং সেবা দিতে ক্ষমতা পায়। অথচ বাস্তবে গণতন্ত্রকে কেবল নির্বাচনকেন্দ্রিক করে ফেলা হয়। প্রকৃতপক্ষে প্রকৃত গণতন্ত্রের সূচনা হয় নির্বাচনের পর। একজন কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য, শ্রমিক যথাযথ মজুরি, শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষা আর সাধারণ নাগরিক নাগরিক সুবিধার বিষয়ে প্রশ্ন তুলবেনÑএটাই গণতন্ত্রের প্রাণ। কোনো সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা মানেই রাষ্ট্রের শত্রু হওয়া নয়, বরং ভিন্নমত রাষ্ট্র ও সমাজকে সমৃদ্ধ করে।
একই সঙ্গে কলার ধরে টান দেওয়া বা আইন নিজের হাতে নেওয়াও গণতন্ত্র নয়। এর প্রকৃত শিক্ষা হলো ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করার সাহস এবং একই সঙ্গে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। আইনের শাসন তখনই সার্থক হয়, যখন তা ক্ষমতাবান ও সাধারণ নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়।
গণতন্ত্রের অন্যতম অপরিহার্য শর্ত স্বাধীন সংবাদমাধ্যম। স্থানীয় পর্যায়ে খালের দখল, সরকারি সেবায় অনিয়ম বা মানুষের দুর্ভোগের কথা যখন সাংবাদিকরা তুলে ধরেন, তখন তাঁরা মূলত সাধারণ মানুষের হয়ে প্রশ্নগুলো রাষ্ট্রের দরজায় পৌঁছে দেন। তাই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রকারান্তরে নাগরিকেরই অধিকার।
বর্তমানে প্রয়োজন এমন এক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি:
সেবামুখী প্রশাসন: রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক হবে সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতার, প্রভু ও প্রজার নয়।
জবাবদিহিতা: জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাকে তাঁর কাজের কৈফিয়ত জনগণের কাছে দিতে হবে।
ভিন্নমতের শ্রদ্ধা: অন্যায়ের প্রতিবাদ বা ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে না দেখে ভুল সংশোধনের সুযোগ হিসেবে নেওয়া।
দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ: ভাতা পাওয়া, সেচের পানি পাওয়া কিংবা নিরাপদ সড়কের মতো দৈনন্দিন মৌলিক অধিকার পাওয়ার মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হবে প্রকৃত গণতন্ত্র।
ক্ষমতার কেন্দ্র যত ওপরেই থাকুক, সাধারণ নাগরিকের কণ্ঠস্বর যেন চাপা না পড়ে। রাষ্ট্র ও নাগরিক পরস্পরের অধিকার, মর্যাদা ও দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেই গণতন্ত্র ব্যালট পেপার ছাড়িয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে।