মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতাশ বছরের শিক্ষকতা জীবন থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিলেন অনুজিত কুমার মন্ডল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
সাতাশ বছরের শিক্ষকতা জীবন থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিলেন অনুজিত কুমার মন্ডল

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে ঋতু বদলায়, বদলায় দৃশ্যপট। কিন্তু কিছু বিদায় শুধু নিয়মের বেড়াজালে আটকে থাকে না, তা হয়ে ওঠে এক পশলা বিষণ্ণতার নাম। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর (ডি.বি) মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের আঙিনায় বৃহস্পতিবার তেমনই এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ ২৭ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষে অবসরে গেলেন বিদ্যালয়ের প্রিয় শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক অনুজিত কুমার মন্ডল।
বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রবীণ শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠান।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এক ফাল্গুনি সকালে এই বিদ্যাপীঠে শিক্ষক হিসেবে পদার্পণ করেছিলেন অনুজিত কুমার মন্ডল। ২৭ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি কেবল একজন শিক্ষক নন, বরং বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও ‘বটবৃক্ষ’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সহকর্মীরা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, কনিষ্ঠ চারাগাছটি আজ যেমন ফলে-ফুলে সুশোভিত মহীরুহ, অনুজিত বাবুও ঠিক তেমনি সাতাশ বছর ধরে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এমাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “অনুজিত কুমারের মতো নিষ্ঠাবান শিক্ষক একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ। তার অভাব পূরণ হওয়ার নয়।”
সংবর্ধিত শিক্ষক অনুজিত কুমার মন্ডল তার আবেগঘন বক্তব্যে দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শিক্ষকতা আমার কাছে পেশা নয়, বরং একটি পবিত্র ব্রত ছিল। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।”
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এস. এম শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন মো. নজিবুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম, দেবব্রত ঘোষ, অরুণ কুমার মন্ডল, ভানুবতী সরকার, আসমাতারা জাহান, কনক কুমার ঘোষসহ অন্যান্য সহকর্মীবৃন্দ। ছাত্রীদের পক্ষ থেকে পাঠ করা হয় মানপত্র, যেখানে তাকে ‘কালজয়ী সারথি’ ও ‘আলোর দিশারি’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়।
বিদ্যালয়ের বিদায়ী শিক্ষার্থীরা অশ্রুসজল চোখে বলেন, “স্যার আমাদের শুধু পাঠ্যবই পড়াননি, শিখিয়েছেন জীবনের মানে। তিনি প্রদীপের মতো নিজেকে ক্ষয় করে আমাদের জীবনকে আলোকিত করেছেন।”
একদিকে নবীন ছাত্রীদের বরণ করে নেওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে প্রিয় শিক্ষক ও বড় বোনদের বিদায় জানানোর বেদনা-সব মিলিয়ে এক মিশ্র অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিদ্যালয় চত্বরে। অনুষ্ঠান শেষে প্রিয় শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
সবশেষে এক বিশেষ প্রার্থনায় তার অবসর জীবনের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাতিষ্ঠানিক বিচ্ছেদ ঘটলেও অনুজিত কুমার মন্ডলের আদর্শ ও স্মৃতি এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি ধূলিকণায় অমলিন থাকবে।

Ads small one

সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে কঠোর সতর্কাবস্থায় বিজিবি-জনতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে কঠোর সতর্কাবস্থায় বিজিবি-জনতা

আরিফ মাহমুদ: ভারত থেকে অবৈধভাবে পুশইন ঠেকাতে সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে সাধারণ জনতা। কিছু সীমান্তে বিজিবি ও এলাকাবাসীর যৌথ পাহারার খবর পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি কলারোয়া সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার স্বরূপনগর থানার হাকিমপুরসহ কয়েকটি সীমান্তে অবৈধভাবে পুশইন করতে বহু নারী-পুরুষকে জড়ো করা হয় বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পায়। এরই জের ধরে কলারোয়া সীমান্তজুড়ে কঠোর টহল, নজরদারী ও অবস্থান জোরদার করে বিজিবি। বিভিন্নভাবে বিজিবিকে সহায়তা করছেন স্থানীয় জনতাও।

বছরের পর বছর উপজেলার ১৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাটি মাদক ও চোরাকারবারীদের কাছে বিভিন্ন চোরাচালান, অবৈধভাবে মানুষ যাতায়াতের জন্য নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত বলে জানা যায়। এর সাথে যোগ হয়েছে সম্প্রতি পুশইনশংকা। ফলে সতর্কাবস্থনে বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থা। উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন স্থলভাগ ও নদী দ্বারা ভারতের সাথে বিভক্ত। এর মধ্যে কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের সিংহভাগ ও সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের পুরোটা সোনাই নদী দ্বারা ভারতের সাথে বিভক্ত, আর চন্দনপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ ইছামতি নদী ও বাকী অংশ স্থলভাগে বিভক্ত।

 

নদী সীমান্তের চেয়ে তুলনামূলক স্থলভাগ দিয়ে পুশইন সম্ভাবনা বেশি থাকায় উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী, সুলতানপুর ও গোয়ালপাড়ার স্থল সীমান্তে বিজিবির টহল ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

 

বিজিবির সুলতানপুর বিওপির কমান্ডার নায়েক সুবেদার কামরুজ্জামান জানান, ইতোমধ্যে ওই বিওপির অধীনে সাড়ে ৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। জনগণকে সাথে নিয়ে যেকোন অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করতে সার্বক্ষণিক কঠোর নজরদারী অব্যাহত রয়েছে।

সুলতানপুর ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবীর জানান, হ্যান্ড মাইকে সতর্কতা, সীমান্তে বিজিবি ও এলাকাবাসীর যৌথ পাহারা, রাতে টর্চলাইটের আলো এবং কঠোর অবস্থান রয়েছে।

সাতক্ষীরা, ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিডিয়া ইনচার্জ সার্জেন্ট মিলন জানান, এখন পর্যন্ত সাতক্ষীরা সীমান্তে অবৈধ পুশইন রোধ করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন ছাত্রদলের নেতারা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১টায় জেলা পরিষদের প্রশাসকের কার্যালয়ে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহিন ইসলামের নেতৃত্বে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদুল আলম, দিবা-নৈশ কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব তামিম রশিদ, সিটি কলেজ ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল হাসান, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আকবর হোসেন, আশাশুনি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়ারাজ হোসেন, শহর ছাত্রদলের সদস্য শরিফুল ইসলাম এবং ছাত্রনেতা মো. গোলাম রাব্বি।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে জেলা প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থেকে শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

কলারোয়ায় দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় দুটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে কলারোয়া হাসপাতাল রোডে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।

তিনি জানান, লাইসেন্স নবায়ন না থাকা, অপরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন কারণে মিতালী ডায়গনস্টিক সেন্টারকে ২০হাজার টাকা ও ডক্টরস ডিজিটাল ল্যাবকে ৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এসময় কলারোয়া থানার ওসি এইচএম শাহীন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.শফিকুল ইসলাম, বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।