সাব-কন্ট্রাক্টরের প্রতারণায় ধানদিয়ায় স্কুল ভবনের নির্মাণকাজ মাঝপথে বন্ধ, ক্ষতির মুখে প্রতিষ্ঠান
পত্রদূত রিপোর্ট: সরকারি বরাদ্দের ১ম শ্রেণীর একটি স্কুল ভবন নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় চরম প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক সাব-কন্ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও কাজ সম্পন্ন না করে উল্টো অতিরিক্ত অর্থ ও রড আত্মসাৎ করে কাজ ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে ওই সাব-কন্ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে। ফলে নির্ধারিত সময়ে স্কুলের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন মূল ঠিকাদার এবং স্থবির হয়ে পড়েছে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কাজ।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়া থানাধীন ঐতিহ্যবাহী ধানদিয়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের (স্থাপিত: ১৯১৫) একতলা স্কুল ভবন নির্মাণের সরকারি টেন্ডার পান সুলতানপুর বড় বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ১ম শ্রেণীর সরকারি ঠিকাদার মো. জবেদ আলী। পরবর্তীতে ভবনটির নিচতলা থেকে একতলা পর্যন্ত ঢালাইসহ রাজমিস্ত্রির মূল কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার সখিপুর এলাকার মো. হারুনর রশিদের সাথে একটি সাব-কন্ট্রাক্ট চুক্তি করেন তিনি।
২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মোট চুক্তিতে কাজটি শুরু করেন সাব-কন্ট্রাক্টর হারুনর রশিদ। চুক্তির শর্তানুযায়ী, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিলের মধ্যে কাজটি সম্পূর্ণ শেষ করার কথা ছিল। কাজ শুরুর আগেই তাকে অগ্রিম ও রানিং বিল বাবদ ২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, কাজ চলাকালীন সময়ে হারুনর রশিদ ও তার সহযোগীরা প্রজেক্টের মূল্যবান রড আত্মসাৎ করেন। এরপর দীর্ঘদিন সাইটে কাজ বন্ধ রেখে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না করেই তারা লাপাত্তা হয়ে যান।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, কাজ চলাকালীন সময়ে হারুনর রশিদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং বিভিন্ন অজুহাতে কাজ বাবদ প্রাপ্য টাকার চেয়ে আরও ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা অতিরিক্ত বুঝে নেন। শুধু তাই নয়, সাইটের জন্য কেনা মূল্যবান নির্মাণ সামগ্রী (রড) আত্মসাৎ করে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখেন তিনি।
চুক্তির নির্ধারিত মেয়াদ (৭ এপ্রিল, ২০২৬) পার হয়ে গেলেও কাজ শেষ না করে সাব-কন্ট্রাক্টর হারুনর রশিদ সাইট থেকে সটকে পড়েন। এতে মূল ঠিকাদার মো. জবেদ আলী চরম আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। সরকারি কাজ সময়মতো বুঝিয়ে দেওয়ার তাগিদে অবশেষে তিনি বাধ্য হয়ে গত ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখ থেকে নতুন আরেকজন সাব-কন্ট্রাক্টর মো. শাহিনুর আলমের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। হারুনর রশিদের ফেলে যাওয়া কাজ সম্পন্ন করতে মূল ঠিকাদারকে আগের চেয়ে দ্বিগুণ টাকা অর্থাৎ ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা চুক্তিতে নতুন করে কাজ দিতে হয়েছে, যা আগামী ২ জুন, ২০২৬-এর মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে।
সুলতানপুর কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এবং ধানদিয়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ যৌথ বিবৃতিতে জানান, মো. জবেদ আলী একজন সৎ ও সুনামধারী ব্যবসায়ী। সাব-কন্ট্রাক্টর হারুনর রশিদ কাজ শেষ না করে টাকা ও রড আত্মসাৎ করায় সরকারি এই প্রজেক্টটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিষয়টি শতভাগ সত্য এবং এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
চুক্তির ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, শর্ত ভঙ্গ এবং আর্থিক ক্ষতির কারণে প্রথম পক্ষ (মূল ঠিকাদার) এখন অভিযুক্ত সাব-কন্ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। সাব-কন্ট্রাক্টরের এমন দায়িত্বহীনতা ও জালিয়াতির কারণে মূল ঠিকাদার মো. জবেদ আলী বিপুল আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। সরকারি প্রজেক্টের সময়সীমা ঠিক রাখতে বাধ্য হয়ে তিনি গত ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখ থেকে নতুন আরেকজন সাব-কন্ট্রাক্টর তালতলা গ্রামের তায়জুল ইসলামের ছেলে মো. শাহিনুর আলমের সাথে নতুন চুক্তি করেন।
আগের সাব-কন্ট্রাক্টরের ফেলে যাওয়া কাজ শেষ করতে মূল ঠিকাদারকে এবার দ্বিগুণ টাকা গুনতে হচ্ছে। হারুনর রশিদের বকেয়া পাওনার দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা চুক্তিতে কাজটি শাহিনুর আলমকে দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ২ জুন, ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে।
গত ২৩ মে, ২০২৬ তারিখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক প্রত্যয়নপত্রে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলা হয়, সাব-কন্ট্রাক্টর হারুনর রশিদ টাকা ও রড আত্মসাৎ করায় এবং দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখায় মূল ঠিকাদার মো. জবেদ আলী মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলের উন্নয়নমূলক কাজ মাঝপথে আটকে যাওয়ায় এবং সরকারি বরাদ্দের মালামাল আত্মসাতের ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ঠিকাদার এই আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায় ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।












