রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সামাজিক সংহতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুব সমাজের সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ প্রশিক্ষণের মডিউল উন্নয়ন কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
সামাজিক সংহতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুব সমাজের সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ প্রশিক্ষণের মডিউল উন্নয়ন কর্মশালা

সোশ্যাল কোহেশন নেটওয়ার্ক (এসসিএন) এর পক্ষে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের আয়োজনে সামাজিক সংহতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুব সমাজের সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ প্রশিক্ষণের মডিউল উন্নয়ন কর্মশালা আজ (বৃস্পতিবার) খুলনা রূপান্তর সংস্থার সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

অতিথিরা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শান্তি প্রতিষ্ঠা, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সংহতি জোরদার করা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল গুজব, ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ফলে সমাজে অবিশ্বাস, বিভাজন ও উত্তেজনা বাড়ছে।

 

অনেক ক্ষেত্রে এসব পরিস্থিতি সংঘাতের দিকেও রূপ নিচ্ছে। তাই সময়োপযোগী আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। তারা আরও বলেন, এসসিএন মূলত সিভিল সোসাইটি, যুবসমাজ এবং স্থানীয় কমিউনিটিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। সংগঠনটি ডিজিটাল লিটারেসি বৃদ্ধি, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ, কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন সংঘাত নিরসন এবং কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি সরকার, গণমাধ্যম, একাডেমিক ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ ও সমন্বিত উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

কর্মশালায় জানানো হয়, সোশ্যাল কোহেশন নেটওয়ার্ক (এসসিএন) একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে দেশের আটটি বিভাগ ও ২৭টিরও বেশি জেলায় ৪১টি সিভিল সোসাইটি সংগঠন এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যেখানে রূপান্তর সেক্রেটারিয়েট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি এ নেটওয়ার্ককে ‘সামাজিক সংহতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সংগঠনের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ নামক প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন করছে।

কর্মশালায় খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. খান মেহেদী হাসান, সমাজ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. তুহিন রায়, অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক শেখ ফয়জান বিন হালিম, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভাসিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ মারুফুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তানভীর হোসাইন, খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের আইন ডিসিপ্লিনের প্রভাষক মুমতাহেনা ফেরদৌসী, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ রমজান আলী, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ, সাতক্ষীরা অগ্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো: আব্দুস সবুর বিশ^াস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কর্মশালায় বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে। তথ্যবিবরণী

Ads small one

শ্যামনগরে পানিতে ডুবে শিশুর মত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে পানিতে ডুবে শিশুর মত্যু

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পানিতে ডুবে তালহা নামে ১৩ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার সৈয়াদালীপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। সে একই গ্রামের নুর মোহাম্মদ গাজীর ছেলে।

নিহত শিশুর স্বজনদের দাবি পরিবারের সদস্যরা গৃহস্থলীর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় বারান্দা তালহা গুমিয়ে ছিল। একপর্যায়ে সবার অজান্তে শিশুটি হামাগুড়ি দিয়ে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরক্ষনে বারান্দায় না পেয়ে শিশুটিকে পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।

সত্যতা নিশ্চিত করে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম জানান পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে শিশুটিকে দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

 

 

স্বদেশ ইযুথ গার্লস গ্রুপ সদস্যদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
স্বদেশ ইযুথ গার্লস গ্রুপ সদস্যদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

স্বদেশ ইযুথ গার্লস গ্রুপের আহবায়ক শাহানাজ পারভীন এর সভাপতিত্বে রবিবার (১৯ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটায় স্বদেশ অফিস হলরুমে ইয়ুথ গার্লস গ্রুপ সদস্যদের সাথে দ্বি-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় এলাকার মানবাধিকার পরিস্থিতি ও এলাকাতে সম্পতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি শিশু নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

 

সদস্যদের উদ্যোগে নির্যাতনের শিকার শিশুর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোজখবর নেওয়া সিদ্ধান্ত হয়। উক্ত সভায় গ্রুপের ১৮ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। স্বদেশ সংস্থার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রম অফিসার মো: আজাহারুল ইসলাম, প্যারালিগ্যাল মো: শরিফুল ইসলাম ও হিসাব রক্ষক তাপস বিশ^াস প্রমুখ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস: মহাকাশ গবেষণার আলোকবর্তিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস: মহাকাশ গবেষণার আলোকবর্তিকা

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানবসভ্যতার ইতিহাসে ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। নাসার অ্যাপোলো-১১ মিশনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মানুষ চাঁদের মাটিতে পদার্পণ করে এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মহাকাশ অনুসন্ধানে নতুন যুগের সূচনা করে। নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন চাঁদের বুকে পদচারণা করেন এবং মাইকেল কলিন্স কমান্ড মডিউলে থেকে কক্ষপথে অবস্থান করেন। এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে সম্মান জানাতে এবং মহাকাশ গবেষণার অগ্রগতিকে তুলে ধরতে প্রতি বছর ২০ জুলাই বিশ্বব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস’ পালিত হয়।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে, চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র স্থায়ী প্রাকৃতিক উপগ্রহ এবং সৌরজগতের পঞ্চম বৃহত্তম উপগ্রহ। প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর সঙ্গে এক বিশাল বস্তুর সংঘর্ষে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ থেকে এর জন্ম। প্রায় ৩,৪৭৪ কিলোমিটার ব্যাসের এই উপগ্রহটির নিজস্ব কোনো আলো নেই; এটি সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে এবং এর মহাকর্ষীয় টানের ফলে পৃথিবীতে জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়। পৃথিবী থেকে গড়ে প্রায় ৩,৮৪,৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চাঁদ প্রায় ২৭.৩ দিনে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে, আর এক পূর্ণ চন্দ্রকলার চক্র সম্পন্ন করতে সময় লাগে প্রায় ২৯.৫ দিন।

পবিত্র আল-কোরআনের বর্ণনায় চাঁদ সৃষ্টিকর্তার এক অনন্য সৃষ্টি ও তাঁর ক্ষমতার নিদর্শন। মানবজাতির সময় গণনার সুবিধার্থে চাঁদকে বর্ধনশীল ও ক্ষয়িষ্ণু বিভিন্ন পর্যায়ে পরিচালিত করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে চন্দ্রবর্ষ, মাস এবং হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের সময় নির্ধারিত হয়। চাঁদ একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ ও সুনির্দিষ্ট নিয়মে আবর্তিত হয়, যার প্রভাবে পৃথিবীতে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয় এবং মহাজাগতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। কোরআনে চাঁদকে ‘নূর’ বা প্রতিফলিত আলো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; এর নিজস্ব আলো নেই, বরং এটি সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। হাদিসেও নতুন চাঁদ দেখে ইসলামি মাস ও ইবাদতের সময় নির্ধারণের নির্দেশনা রয়েছে, যা সময়ানুবর্তিতা, কৃতজ্ঞতা, জ্ঞানচর্চা ও বিজ্ঞান গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে।

১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই কমান্ডার নিল আর্মস্ট্রং এবং লুনার মডিউল পাইলট বাজ অলড্রিন ‘ইগল’ নামক যান নিয়ে চাঁদের ‘সি অব ট্রাঙ্কুইলিটি’ অঞ্চলে অবতরণ করেন। প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদের মাটিতে পা রেখে আর্মস্ট্রং বলেছিলেন: “মানুষের জন্য এটি একটি ছোট পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিরাট লাফ।” ১৬ জুলাই কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে শুরু হওয়া এই মিশনটি চার দিন পর সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে, যা মানুষের সাহস ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার অনন্য নজির। আর্থার সি ক্লার্ক- (বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক) এর ভাষায়: “নক্ষত্রদের পথে হাঁটার প্রথম মাইলফলক হলো চাঁদ।”

চাঁদে মানুষের প্রথম পদার্পণের এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্বীকৃতি দিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর A/RES/76/76 প্রস্তাবের মাধ্যমে ২০ জুলাইকে ‘আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। মুন ভিলেজ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ২০২২ সালে প্রথম এই দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়। দিবসটির লক্ষ্য হলো মহাকাশ অনুসন্ধান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, চন্দ্রপৃষ্ঠের সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষায় উৎসাহিত করা।

জাতিসংঘের বাহ্যিক মহাকাশ বিষয়ক দপ্তর UNOOSA-এর তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেমিনার, মহাকাশ প্রদর্শনী ও আকাশ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে নাসার ‘আর্টেমিস’ মিশনসহ বিভিন্ন দেশের নতুন চন্দ্রাভিযান প্রমাণ করছে যে, চাঁদকে ঘিরে গবেষণা ও অনুসন্ধান এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই দিবস কেবল চাঁদে মানুষের প্রথম অবতরণের স্মারক নয়, বরং বিজ্ঞান, অনুসন্ধিৎসা ও বৈশ্বিক সহযোগিতার এক অনুপ্রেরণামূলক আহ্বান। চাঁদে পা রেখেই আর্মস্ট্রং তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন: “That’s one small step for [a] man, one giant leap for mankind.” (এটি একজন মানুষের জন্য ছোট একটি পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিশাল বড় লাফ।)