মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

স্বপ্নের কফিন কাঁধে স্বজনদের আহাজারি: লেবাননে নিহত সাতক্ষীরার দুই প্রবাসীর বাড়িতে শোকের মাতম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
স্বপ্নের কফিন কাঁধে স্বজনদের আহাজারি: লেবাননে নিহত সাতক্ষীরার দুই প্রবাসীর বাড়িতে শোকের মাতম

ঋণ শোধের আগেই ফিরল লাশ, দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে অথই সাগরে পরিবার

আসাদুজ্জামান সরদার: বুকভরা আশা আর পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে মাত্র এক মাস আগে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্থায়ী হলো না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রের নির্মম বাস্তবতায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে, দীর্ঘ ২৭ দিন পর যখন বাড়ি ফিরলেন, তখন তিনি আর জীবন্ত মানুষ নন—একটি নিথর মরদেহ। একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে আশাশুনির তরুণ নাহিদুল ইসলাম নাহিদকেও।

লেবাননের দক্ষিণ অঞ্চলের জেবদিন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত এই দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ যখন সাতক্ষীরায় তাঁদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছায়, তখন আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে শুরু হয় স্বজনদের শোকের মাতম। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে প্রিয়জনকে হারানো দুটি পরিবার এখন যেন অথই সাগরে ভেসেছে।

 

 নির্বাক পিতা, বিলাপ করছেন স্ত্রী

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামে শফিকুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। হঠাৎ এই বিপুল শোক সহ্য করতে না পেরে শফিকুলের বৃদ্ধ বাবা আফসার আলী বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন। একদৃষ্টে ছেলের লাশের দিকে তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলছেন, “কয় রে শফিকুল, সবাইকে জায়গা দেয়। দেখ কত মানুষ আসছে। ওভাবে শুয়ে থাকলে হবে? উঠো, এই গরমে সবার যেন কষ্ট না হয়।”

 বৃদ্ধ পিতার এই অবুঝ আকুতি উপস্থিত প্রতিবেশীদের চোখের জল ধরে রাখতে দেয়নি।

পাশেই দুই কন্যাসন্তানকে জড়িয়ে ধরে বিলাপ করছিলেন শফিকুলের স্ত্রী। স্বামীর লাশের উদ্দেশ্যে তাঁর কান্নাভেজা কণ্ঠের প্রশ্ন, “দেখো তোমার বাড়িতে কত মানুষ! তুমি যখন বেঁচে ছিলে আমি কোথাও যাইনি। আজকে তুমি নেই, তোমাকে ঢাকা থেকে নিয়ে আসতে কত বড় বড় মন্ত্রী-এমপিরা ছিল। তুমি আমাদের কোথায় রেখে গেলে? এই মেয়ে দুটোকে আমি কীভাবে বড় করব? কী স্বপ্ন ছিল তোমার?” বাবার লাশ দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিল তাঁর নাবালক মেয়ে দুটি।

 

সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মিঠু বলেন,“শফিকুল আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যখন লেবাননে যায়, তখন সে খুবই হাসি-খুশি ও সদালাপী একটা ছেলে ছিল। কিন্তু হুট করেই আমরা জানতে পারি, সেখানে যাওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় সে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখের মধ্যেও আমাদের একটুকু স্বস্তি যে, তাঁর মরদেহটি আমরা দেশে ফেরত পেয়েছি। দ্রুততম সময়ে লাশটি দেশে আনার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

 

 তিনি আরও বলেন, “এই পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র এবং শফিকুলই ছিল তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অনেক টাকা ঋণ-দেনা করে সে বুকভরা আশা নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল। বর্তমানে তাঁর বৃদ্ধা মা এবং দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার মধ্যে বড় মেয়েটি নবম শ্রেণিতে পড়ে এবং সে যথেষ্ট মেধাবী। আমি এলাকাবাসী ও আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যেন পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ওই মেয়েটির জন্য একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়। তাহলে এই অসহায় পরিবারটি অন্তত বেঁচে থাকার একটা অবলম্বন পাবে।

 

খুলনা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, “লেবাননে নিহত সাতক্ষীরার দুই প্রবাসী—নাহিদুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলামের লাশ দেশে আসার পর তাঁদের পরিবারকে যে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়, সে বিষয়ে অনেকেই খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রবাসী কর্মীর লাশ দেশে আসার পরপরই জরুরি খরচ ও দাফন বাবদ তাঁর পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করা হয়। এছাড়া বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার কারণে ওই পরিবারগুলো পরবর্তীতে আরও ১৩ লক্ষ টাকা আর্থিক সুবিধা পাবেন। যার মধ্যে ৩ লক্ষ টাকা দেওয়া হয় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এবং বাকি ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয় জীবন বীমা কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে।

ক্লিয়ারেন্স ও ফ্লাইট সাপেক্ষে লেবাননে নিহত কলারোয়ার অপর প্রবাসী শুভ কুমার দাসের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, “এই সুবিধাটি শুধু নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের যেকোনো প্রবাসী কর্মীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ২০২৩ সালের ১লা জানুয়ারির পর যারা বৈধভাবে দেশের বাইরে গিয়েছেন, তাঁদের পরিবার এই ১৩ লক্ষ টাকার পুরো সুবিধাটি পাচ্ছেন। তবে এই তারিখের আগে যারা বিদেশ গিয়েছিলেন, তাঁরা জীবন বীমার ১০ লক্ষ টাকা পাবেন না, শুধুমাত্র সরকারের পক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকার অনুদানটি পাবেন। কারণ পূর্ববর্তী সময়ে জীবন বীমা কর্পোরেশনের এই বিশেষ সুবিধাটি চালু ছিল না।

এদিকে আশাশুনির কাদাকাটি দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জানাজা নামাজ শেষে নাহিদকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। আল হাদিস জামে মসজিদের মাওলানা আব্দুল মালেক গাজী জানাজা নামাজ পড়ান।

 

উল্লেখ্য, দক্ষিণ লেবাননের জেবদিন এলাকায় ইজরাইলি ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে নিহত শফিকুল ইসলাম (৪৮)এবং  আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে নাহিদুল ইসলাম নাহিদের (২০)।

Ads small one

নীলডুমুরে প্রায় ৩২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
নীলডুমুরে প্রায় ৩২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন ১৭ বিজিবি কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে আটককৃত মালিকবিহীন ৩১ কোটি ৯৪ লক্ষ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন ১৭ বিজিবি এর প্রশিক্ষণ মাঠে ‘আটককৃত মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন এর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মাসুদুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ লায়েকুজ্জামান, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ-সাতক্ষীরার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শিশির চন্দ্র দাস, পশ্চিম সুন্দরবনের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ মশিউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার-ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধি চিফ পেটি অফিসার শেখ মোঃ জাকারিয়া এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ।

উল্লেখ্য, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, দেবহাটা এবং কালীগঞ্জ উপজেলাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় বিদ্যমান বিওপিসমূহ এবং ব্যাটালিয়ন সদর কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪১ জন আসামীসহ ৫১ কোটি ৮৫ লক্ষ ৭৯৭ হাজার ৫৫০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানী পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৩১ কোটি ৯৪ লক্ষ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত মালামালের মধ্যে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন প্রকার মদ ৪০৬ বোতল, ফেন্সিডিল ও সমগোত্রীয় নেশাজাতীয় মাদক ১৫০৭৮ বোতল, ইয়াবা ১৮৬৫৪ পিস, ভারতীয় পাতার বিড়ি ৭৫৭৬৬ প্যাকেট, গাঁজা ৩.৮১ কেজি, বিভিন্ন প্রকার অবৈধ ঔষধ ২১৭৬২৫৭ পিস, সুখি বড়ি ১৪৭০ পাতা, বিভিন্ন প্রকার মাদক জাতীয় ট্যাবলেট ১৫৭৪৬ পিস, হেরোইন ০১ কেজি ধ্বংস করা হয়। এছাড়াও অতি মূল্যবান মাদকের মধ্যে ছিল, এলএসডি (১০০ এমএল) ০৮ বোতল, এলএসডি (৫০ এমএল) ০৬ বোতল, ক্রিস্টাল মেথ আইস/আইস মেথ ২.৪০০ কেজি।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মাদকমুক্ত দেশ গঠনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বিজিবির প্রতিটি সদস্য সীমান্তে দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাদক একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

প্রধান অতিথি নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের সদস্যদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং নিজ হাতে মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উপস্থিত বক্তিগণ সকলেই মাদকের বিরুদ্ধে দৃঢ় হস্তে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকান্ড প্রতিরোধে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

 

আশাশুনির আনুলিযায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনির আনুলিযায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে ওয়াইফাই সংযোগের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আশরাফুল হাওলাদার (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আনুলিয়া ইউনিয়নের ভোলানাথপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত আশরাফুল হাওলাদার আশাশুনি উপজেলার বাগালি গ্রামের মৃত বাবর আলী হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকালে আশরাফুল আনুলিয়া ইউনিয়নের ভোলানাথপুর গ্রামের গৌতম সরকারের ঘরের পেছনের একটি বৈদ্যুতিক খুটিতে উঠে ওয়াইফাই লাইনের কাজ করছিলেন। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত হঠাৎ বিদ্যুৎ লাইনের তারে স্পর্শ করায় বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং পিলারের সাথে থাকা সেফটি বেল্টে ঝুলতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন পিলারে থাকা সেফটি বেল্ট কেটে আশরাফুলের মরদেহ নিচে নামিয়ে আনেন।

আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম আহমেদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সাতক্ষীরায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিজিবি’র ত্রাণ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিজিবি’র ত্রাণ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্তবর্তী গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবির উদ্যোগে বৈকারী সীমান্তের হতদরিদ্র ৫০টি পরিবারের মাঝে শুষ্ক খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, উপ-অধিনায়ক শাদমান শাকিব, উপ-পরিচালক মাসুম বেগ ও মিডিয়া কর্মকর্তা মিলন হোসেনসহ বিজিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ সময় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিজিবি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত সুরক্ষার মূল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিজিবির পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমুখী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।