বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত কামার পাড়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত কামার পাড়া

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত হচ্ছে কামার পাড়া। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাইকগাছার কামার পাড়া। চললে হাঁপর, পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। হাতুড়ি দিয়ে লোহা পিটিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। সারাদিন তপ্ত লোহা ও ইস্পাত গলিয়ে চলছে, দা, চাপাতি, বটি, ছুরি তৈরির কাজ।

বর্তমানে আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে কামার শিল্পে। বৈদ্যুতিক সান দিয়ে বিভিন্ন সরঞ্জাম সান দেওয়া হয় ও হাফর বা জাতা দিয়ে বাতাস দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে মটর। কাঁকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কর্মকান্ড। মূল কারিগরের সাথে একজন ভারী হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন আগুনরাঙ্গা লোহার দন্ড। কেউ পোড়া দা ও ছুরিতে দিচ্ছেন শান। ম্যাশিনের সাহায্যে কেউ বা হাঁপর টেনে বাতাস দিচ্ছেন। দিন-রাত সমান তালে লোহার টুং-টাং শব্দ আর হাফরের ফুঁসফাঁস শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার প্রতিটি কামারশালা। হারিয়ে যেতে বসা বাংলার প্রাচীন কামারশিল্প যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

আর কয়েক দিন পর ঈদুল-আযহা। কর্মব্যস্ত সময় পার করছে কামার শিল্পীরা। উপজেলা পৌর সদর, নতুন বাজার, গদাইপুর, আগড়ঘাটা, কপিলমুনি বাঁকা, চাঁদখালী, কাটিপাড়া, বোয়ালিয়ার মোড়সহ বিভিন্ন হাট বাজার এবং কামার শালায় কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের ছোরা, চাপাতি, চাকু, দা, বটি, কুড়াল সহ বিভিন্ন সরজ্ঞাম তৈরি করছে কামাররা। সারা বছর টুক-টাক কাজ থাকলেও কুরবানির ঈদের সময় কামার শিল্প মুখরিত হয়ে ওঠে।

নতুন বাজারে বিশ্ব কর্মকার জানান, এ সময় দোকানে পুরাতন ও নতুন ধারালো অস্ত্র বানানো ও মেরামত করার ভীড় শুরু হয়। ঈদের আগের দিন র্পযন্ত এই ব্যস্ততা থাকে। উপজলার গদাইপুর গ্রামের সন্তোস কর্মকার, রজ্ঞন কর্মকার জানান, কোরবানি ঈদে তারা প্রতিবছর দা, ছুরি, চাপাতিসহ কোরবানি বিভিন্ন উপকরণ তৈরি ও মেরামত করেন। বোয়ালিয়া মোড়ে অবস্থিত কামারশালার বিমল র্কমকার ও সুপম কর্মকার বলেন, লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে গেছে।

 

সাধারণ লোহা ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা ও গাড়ীর পাতি ৯০ টাকা দরে প্রতি কেজি ক্রয় করতে হয়। পশু জবাই করার ছোট-বড় বিভিন্ন সরজ্ঞাম সাইজের উপর দাম নির্ভর করে। গদাইপুরের রজ্ঞন কর্মকার বলেন, অর্ডার দিয়ে তৈরী করা নতুন চাপাতি তৈরীর মুজুরী ৫শ টাকা থেকে ৭শ টাকা, জবাই করা ছোরা ৩শ টাকা। আর তৈরী করা ছোট চাপাতি ৫শত টাকা, বড় চাপাতি ৭ শত থেকে ৮ শত, বড় ছোরা ৩ শত থেকে সাড়ে ৩ শত টাকা, চাকু ৫০ টাকা থেকে দেড় শত টাকা, বটি আড়াই শত থেকে ৩ শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকগাছার হরি গোপাল কর্মকার জানান, এই পেশায় আমরা খুব অবহেলিত। বর্তমান দ্রব্যমূল্য বেশী হলেও সেই অনুযায়ী দাম পাই না। ফলে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। সারা বছর তেমন কাজ না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে পৈতৃক এই পেশা পরিবর্তন করছে বলে জানান। উপজেলার বিভিন্ন কামারের দোকান ঘুরে দেখা যায়, দা, ছুরি, চাপাতি, চাকু ও বটির বেচাকেনা বেড়েছে। পৌর বাজারে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কিনতে আসা ক্রেতা আব্দুর রহিম জানান, ছুরি, চাকু, বটির দাম একটু বেশি। কোরবানি ঈদের কয়েক দিন বাকি। তাই একটু আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার জন্য এসেছি।

লোহা ও কয়লার দাম অনেক বেড়েছে। সে তুলনায় কামার শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি। কামার শিল্পীরা আশা করেন, সরকারি বা এনজিও এর পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

 

 

 

Ads small one

আশাশুনিতে ভূমি সেবা মেলা শেষ, কুইজে পুরস্কৃত ৩ শিক্ষার্থী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ভূমি সেবা মেলা শেষ, কুইজে পুরস্কৃত ৩ শিক্ষার্থী

আশাশুনি প্রতিনিধি: ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’ স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে তিন দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলা ২০২৬ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) (অতিরিক্ত দায়িত্বে) শ্যামানন্দ কুন্ডু। অনুষ্ঠানে মেলা উপলক্ষে আয়োজিত ভূমি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। কুইজে প্রথম স্থান অধিকার করেছে আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী নুসরত জাহান মিম।

 

দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে যথাক্রমে আশাশুনি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির সাদিয়া নওসিন এবং আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির সানজিদা সুলতানা। অনুষ্ঠানে আশাশুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি এস কে হাসান, সাধারণ সম্পাদক আকাশ হোসেন, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিএম মুজিবুর রহমানসহ স্থানীয় শিক্ষক ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

 

 

আশাশুনিতে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে জরুরি পরিস্থিতি ও দুর্যোগকালে জীবন রক্ষায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দিনব্যাপী ‘প্রাথমিক চিকিৎসা’ (ফার্স্ট এইড) বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার আশাশুনি উপজেলা মডেল মসজিদ প্রশিক্ষণ কক্ষে ইএসডিও ও মুসলিম এইডের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু। তিনি দুর্যোগকালীন সময়ে প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরে এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে কারিগরি সেশন ও ব্যবহারিক প্রদর্শনী পরিচালনা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিতীশ চন্দ্র গোলদার, মেডিকেল অফিসার ডা. এস এম নাঈম হোসাইন, সিপিপির সহকারী পরিচালক মুন্সি নুর মোহাম্মদ ও মুসলিম এইডের কর্মকর্তা এস এম মনোয়ার হোসেন। উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রাক ও পর মূল্যায়ন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণটি শেষ হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শামসুল হক মৃধা।

 

 

 

 

 

 

 

কেশবপুরে জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নে জমি দখলের চেষ্টা, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) ভুক্তভোগী জিয়াউর রহমান (৪২) বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় এই অভিযোগ করেন। তিনি সাগরদাঁড়ী গ্রামের মৃত ছফেদ আলী মোড়লের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৪৫ নম্বর সাগরদাঁড়ী মৌজার ১৪ দশমিক ৭৫ শতক জমির বৈধ মালিক জিয়াউর রহমান। এর মধ্যে ১০ শতক জমি তিনি পৈতৃক সূত্রে এবং আদালতের দেওয়ানি মামলার রায়ের মাধ্যমে পেয়েছেন। বাকি ৪ দশমিক ৭৫ শতক জমি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দলিলমূলে ক্রয় করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার মোস্তফা মুন্সি (৪৫), পলাশ মুন্সি (৪২), আনছার গাজী (৫৫) ও জসিম মুন্সিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।

জিয়াউর রহমানের অভিযোগ, বিবাদীরা প্রভাব খাটিয়ে গত তিন বছর ধরে জমিটি নিজেদের দখলে রেখেছেন। তিনি জমিতে যেতে চাইলে বিবাদীরা তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১৯ মে সকালে তিনি নিজের জমিতে গিয়ে আগাছা পরিষ্কার ও বেড়া মেরামতের কাজ শুরু করলে অভিযুক্তরা বাধা দেন এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে জমি থেকে বের করে দেন।
কেশবপুর থানা সূত্র জানায়, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অবশ্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী মোস্তফা মুন্সি দাবি করেন, “ওই জমিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে একটি কোম্পানির কাছ থেকে লিজ নিয়ে বিভিন্ন ফসল ও সবজি চাষ করে আসছি। উল্টো আমাদের অনেকগুলো গাছ কেটে নষ্ট করা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে আনা চাঁদা দাবি বা হুমকির অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”