রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

৫৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প: অর্ধযুগেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়কের কাজ, ভোগান্তি চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
৫৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প: অর্ধযুগেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়কের কাজ, ভোগান্তি চরমে

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগুরুত্বপূর্ণ সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার পাইকগাছা হয়ে কয়রা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অর্ধযুগেও শেষ হয়নি। তিন দফা মেয়াদ ও ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর পরও কাজের গতি ধীর হওয়ায় ওই অঞ্চলের লাখো মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে সর্বশেষ সংশোধিত মেয়াদ অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো অর্ধেকের বেশি কাজ বাকি রয়ে গেছে।

 

খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি ‘তালা-কয়রা ভায়া পাইকগাছা সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হয়। এরপর ৩৩৯ কোটি ৫৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোজাহার এন্টারপ্রাইজ’কে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

 

২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তিন দফায় সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। সময় বাড়ার সাথে সাথে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে দফায় দফায়। মূল ব্যয়ের সাথে প্রথমে ৪০ কোটি, এরপর তিন কিলোমিটার অংশের জন্য আরও ৫৫ কোটি এবং সর্বশেষ তালা থেকে পাইকগাছা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করার জন্য আরও ১০০ কোটি টাকা যুক্ত করা হয়েছে। ফলে মূল ৩৩৯ কোটি টাকার এই প্রকল্প ব্যয় এখন দাঁড়িয়েছে ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

খুলনা সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেনÑ “ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমার কারণে সময় বেশি লেগেছে। গত নভেম্বর থেকে আবারও কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে।”

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কাজের গতি অত্যন্ত মন্থর। সড়কের ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সোজা করার কাজ ৮০ ভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ ভাগ; অনেক এলাকায় ১০ ভাগ কাজও শেষ হয়নি। সড়কের এই বেহাল দশার কারণে শুকনো মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষায় কাদাপানিতে নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও হাসপাতালে যাতায়াতকারী রোগীরা তীব্র ঝুঁকিতে পড়েছেন।
মাইক্রোবাস চালক মনজুরুল ইসলাম জানান, আগে তালা থেকে কয়রা যেতে যেখানে দেড় ঘণ্টা সময় লাগত, এখন সড়কের বেহাল দশার কারণে চার ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। এতে জ্বালানি খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি যাত্রীদের ভাড়াও বেশি দিতে হচ্ছে।

মোবারকপুর এলাকার ভ্যানচালক হাসেম আলী সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এক রাস্তা সংস্কার করতে আর কত বছর লাগবে? তিন বছর ধরে শুকনোয় ধুলা আর বৃষ্টিতে কাদার মধ্যে নাকানিচুবানি খাচ্ছি। আমরা মহা বিপদে আছি।”

জানতে চাইলে তালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সড়কের উন্নয়ন। সড়কটি প্রশস্ত ও বাঁক সোজা হলে মানুষের অর্থ ও সময় দুই-ই সাশ্রয় হবে। তবে কাজে ধীরগতির বিষয়টি সত্য, আমরাও দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।”

কাজে ধীরগতির বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, “কাজের তদারকির জন্য আমি নিয়মিত এলাকা পরিদর্শন করছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যেন কাজটি শেষ হয়, সে জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

 

Ads small one

শ্যামনগরে পানিতে ডুবে শিশুর মত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে পানিতে ডুবে শিশুর মত্যু

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পানিতে ডুবে তালহা নামে ১৩ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার সৈয়াদালীপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। সে একই গ্রামের নুর মোহাম্মদ গাজীর ছেলে।

নিহত শিশুর স্বজনদের দাবি পরিবারের সদস্যরা গৃহস্থলীর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় বারান্দা তালহা গুমিয়ে ছিল। একপর্যায়ে সবার অজান্তে শিশুটি হামাগুড়ি দিয়ে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরক্ষনে বারান্দায় না পেয়ে শিশুটিকে পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।

সত্যতা নিশ্চিত করে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম জানান পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে শিশুটিকে দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

 

 

স্বদেশ ইযুথ গার্লস গ্রুপ সদস্যদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
স্বদেশ ইযুথ গার্লস গ্রুপ সদস্যদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

স্বদেশ ইযুথ গার্লস গ্রুপের আহবায়ক শাহানাজ পারভীন এর সভাপতিত্বে রবিবার (১৯ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটায় স্বদেশ অফিস হলরুমে ইয়ুথ গার্লস গ্রুপ সদস্যদের সাথে দ্বি-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় এলাকার মানবাধিকার পরিস্থিতি ও এলাকাতে সম্পতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি শিশু নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

 

সদস্যদের উদ্যোগে নির্যাতনের শিকার শিশুর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোজখবর নেওয়া সিদ্ধান্ত হয়। উক্ত সভায় গ্রুপের ১৮ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। স্বদেশ সংস্থার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রম অফিসার মো: আজাহারুল ইসলাম, প্যারালিগ্যাল মো: শরিফুল ইসলাম ও হিসাব রক্ষক তাপস বিশ^াস প্রমুখ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস: মহাকাশ গবেষণার আলোকবর্তিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস: মহাকাশ গবেষণার আলোকবর্তিকা

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানবসভ্যতার ইতিহাসে ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। নাসার অ্যাপোলো-১১ মিশনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মানুষ চাঁদের মাটিতে পদার্পণ করে এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মহাকাশ অনুসন্ধানে নতুন যুগের সূচনা করে। নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন চাঁদের বুকে পদচারণা করেন এবং মাইকেল কলিন্স কমান্ড মডিউলে থেকে কক্ষপথে অবস্থান করেন। এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে সম্মান জানাতে এবং মহাকাশ গবেষণার অগ্রগতিকে তুলে ধরতে প্রতি বছর ২০ জুলাই বিশ্বব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস’ পালিত হয়।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে, চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র স্থায়ী প্রাকৃতিক উপগ্রহ এবং সৌরজগতের পঞ্চম বৃহত্তম উপগ্রহ। প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর সঙ্গে এক বিশাল বস্তুর সংঘর্ষে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ থেকে এর জন্ম। প্রায় ৩,৪৭৪ কিলোমিটার ব্যাসের এই উপগ্রহটির নিজস্ব কোনো আলো নেই; এটি সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে এবং এর মহাকর্ষীয় টানের ফলে পৃথিবীতে জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়। পৃথিবী থেকে গড়ে প্রায় ৩,৮৪,৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চাঁদ প্রায় ২৭.৩ দিনে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে, আর এক পূর্ণ চন্দ্রকলার চক্র সম্পন্ন করতে সময় লাগে প্রায় ২৯.৫ দিন।

পবিত্র আল-কোরআনের বর্ণনায় চাঁদ সৃষ্টিকর্তার এক অনন্য সৃষ্টি ও তাঁর ক্ষমতার নিদর্শন। মানবজাতির সময় গণনার সুবিধার্থে চাঁদকে বর্ধনশীল ও ক্ষয়িষ্ণু বিভিন্ন পর্যায়ে পরিচালিত করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে চন্দ্রবর্ষ, মাস এবং হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের সময় নির্ধারিত হয়। চাঁদ একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ ও সুনির্দিষ্ট নিয়মে আবর্তিত হয়, যার প্রভাবে পৃথিবীতে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয় এবং মহাজাগতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। কোরআনে চাঁদকে ‘নূর’ বা প্রতিফলিত আলো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; এর নিজস্ব আলো নেই, বরং এটি সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। হাদিসেও নতুন চাঁদ দেখে ইসলামি মাস ও ইবাদতের সময় নির্ধারণের নির্দেশনা রয়েছে, যা সময়ানুবর্তিতা, কৃতজ্ঞতা, জ্ঞানচর্চা ও বিজ্ঞান গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে।

১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই কমান্ডার নিল আর্মস্ট্রং এবং লুনার মডিউল পাইলট বাজ অলড্রিন ‘ইগল’ নামক যান নিয়ে চাঁদের ‘সি অব ট্রাঙ্কুইলিটি’ অঞ্চলে অবতরণ করেন। প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদের মাটিতে পা রেখে আর্মস্ট্রং বলেছিলেন: “মানুষের জন্য এটি একটি ছোট পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিরাট লাফ।” ১৬ জুলাই কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে শুরু হওয়া এই মিশনটি চার দিন পর সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে, যা মানুষের সাহস ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার অনন্য নজির। আর্থার সি ক্লার্ক- (বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক) এর ভাষায়: “নক্ষত্রদের পথে হাঁটার প্রথম মাইলফলক হলো চাঁদ।”

চাঁদে মানুষের প্রথম পদার্পণের এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্বীকৃতি দিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর A/RES/76/76 প্রস্তাবের মাধ্যমে ২০ জুলাইকে ‘আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। মুন ভিলেজ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ২০২২ সালে প্রথম এই দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়। দিবসটির লক্ষ্য হলো মহাকাশ অনুসন্ধান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, চন্দ্রপৃষ্ঠের সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষায় উৎসাহিত করা।

জাতিসংঘের বাহ্যিক মহাকাশ বিষয়ক দপ্তর UNOOSA-এর তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেমিনার, মহাকাশ প্রদর্শনী ও আকাশ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে নাসার ‘আর্টেমিস’ মিশনসহ বিভিন্ন দেশের নতুন চন্দ্রাভিযান প্রমাণ করছে যে, চাঁদকে ঘিরে গবেষণা ও অনুসন্ধান এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই দিবস কেবল চাঁদে মানুষের প্রথম অবতরণের স্মারক নয়, বরং বিজ্ঞান, অনুসন্ধিৎসা ও বৈশ্বিক সহযোগিতার এক অনুপ্রেরণামূলক আহ্বান। চাঁদে পা রেখেই আর্মস্ট্রং তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন: “That’s one small step for [a] man, one giant leap for mankind.” (এটি একজন মানুষের জন্য ছোট একটি পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিশাল বড় লাফ।)