সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক সংসদীয় দিবস: গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র ও জনগণের কণ্ঠস্বর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
আন্তর্জাতিক সংসদীয় দিবস: গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র ও জনগণের কণ্ঠস্বর

সাকিবুর রহমান বাবলা

৩০ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক সংসদীয় দিবস (International Day of Parliamentarism)। ২০১৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৭২/২৭৮ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে দিবসটির স্বীকৃতি দেয়। ১৮৮৯ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠিত হয় Inter-Parliamentary Union, যা আজ বিশ্বের জাতীয় সংসদগুলোর বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংগঠন। বর্তমানে আইপিইউ’র সদস্য ১৮৩টি জাতীয় সংসদ, যা বিশ্বের অধিকাংশ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে।
সংসদ গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এখানে আইন প্রণয়ন, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় নীতিনির্ধারণ করেন। জাতিসংঘের মতে; ঐক্যবদ্ধ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

বিশ্বে অধিকাংশ দেশেই কোনো না কোনো ধরনের সংসদীয় বা প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভা রয়েছে। তবে সব দেশ সমানভাবে গণতান্ত্রিক চর্চা নেই; কোথাও সংসদ কার্যকর, কোথাও তা সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন, এরমধ্যে হাতে গোনা দু-একটি দেশে গণতন্ত্র শুন্য হলেও সংসদ গঠন করা হয়। তবুও জনগণের মতামতকে রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সংসদীয় ব্যবস্থা আজও সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক কাঠামো হিসেবে বিবেচিত।

আন্তর্জাতিক সংসদীয় দিবসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপাদ্য হলো সংসদে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি। বিশ্বব্যাপী নারীদের প্রতিনিধিত্ব আগের তুলনায় বাড়লেও এখনো তা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। একইভাবে তরুণ জনগোষ্ঠী বিশ্বের মোট জনসংখ্যার বড় অংশ হলেও অধিকাংশ দেশের সংসদে তাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। অথচ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, আধুনিক প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা সম্পর্কিত ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে তরুণ প্রজন্মের ওপর। তাই সংসদে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো শুধু প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন নয়, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনেরও অপরিহার্য শর্ত।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণতন্ত্রের ভিত্তিকে শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, গঠনমূলক বিতর্কের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা, তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার এবং নাগরিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে সংসদকে আরও কার্যকর করা সম্ভব।

সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রধান সুফল হলো জনগণের অংশগ্রহণ, ক্ষমতার ভারসাম্য, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং শান্তিপূর্ণভাবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সুযোগ। তবে দলীয়করণ, রাজনৈতিক অচলাবস্থা, দুর্নীতি বা প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি এর কিছু চ্যালেঞ্জ। ইসলামের শূরা বা পরামর্শভিত্তিক শাসনব্যবস্থার সঙ্গে আধুনিক সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল হলোÑজনস্বার্থে আলোচনা, মতবিনিময় ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের নীতি।

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর সংবিধানে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর দায়িত্ব পালন করে।

প্রতি বছর আন্তর্জাতিক সংসদীয় দিবস নাগরিকদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে গণতন্ত্র কেবল নির্বাচন নয়; এটি অংশগ্রহণ, জবাবদিহি, অন্তর্ভুক্তি এবং জনগণের কণ্ঠস্বরকে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত করার একটি চলমান প্রক্রিয়া। তরুণ ও নারীদের অধিক অংশগ্রহণ, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সংসদ এবং মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার-ই ভবিষ্যতের সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

 

Ads small one

শ্যামনগরে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সংলাপ, সরকারি হাসপাতালের ওপর জোর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সংলাপ, সরকারি হাসপাতালের ওপর জোর

পত্রদূত ডেস্ক: শ্যামনগরে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের অংশগ্রহণে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’ এই সংলাপের আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে নেটজ-পার্টনারশিপ ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড জাস্টিস।

সংলাপে বক্তারা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক বা প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জয়িতাপ্রাপ্ত কৃষাণী শঙ্করী রানীর সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জি এম তরিকুল ইসলাম ও এনজিও সমন্বয় পরিষদের সদস্যসচিব গাজী আল ইমরান। বারসিকের ইউনিট ম্যানেজার মননজয় মন্ডলের সঞ্চালনায় সংবাদের শুরুতে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন প্রকল্প ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ।

পাইকগাছা থেকে অপহৃত কিশোরী খাগড়াছড়িতে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছা থেকে অপহৃত কিশোরী খাগড়াছড়িতে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা থেকে অপহৃত ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে খাগড়াছড়ির রামগড় থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত ইমনকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার ভোরে তাঁদের পাইকগাছায় নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুন প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পাহাড় দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাইকগাছার ঘোষাল এলাকার ওই কিশোরীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান খাগড়াছড়ির রামগড় থানার সোনাইপুল গ্রামের ইমনের। কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর ১১ জুন তার পরিবার পাইকগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করার পর গতকাল রোববার কিশোরীর মামী বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) মো. আমির হামজার দিকনির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়ার তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল রামগড় থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালায়। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইমনের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে এই অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও সড়ক প্রশস্ত করার দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও সড়ক প্রশস্ত করার দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ ডিগ্রি কলেজের সামনে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং তীব্র যানজট নিরসনে রাস্তা প্রশস্ত করার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল ১০টায় কলেজের সামনের সড়কে ‘স্থানীয় এলাকাবাসী’র ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের ভুক্তভোগী মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল ফটকের সামনে ফুটপাত ও সড়কের একাংশ দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে। গুটিকয়েক প্রভাবশালী মহলের স্বার্থে প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও পথচারীকে ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। কলেজ শুরু ও ছুটির সময়ে এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি যানবাহনও চলাচল করতে পারে না। প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে বুলডোজার দিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং সড়কটি দ্রুত প্রশস্ত করার দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও পৌর কর্তৃপক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেয় এলাকাবাসীর একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উচ্ছেদের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।