মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

দায়িত্বহীন সাংবাদিকতার ভিড়ে প্রশ্নবিদ্ধ মূলধারার সাংবাদিকতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
দায়িত্বহীন সাংবাদিকতার ভিড়ে প্রশ্নবিদ্ধ মূলধারার সাংবাদিকতা

এম. এম হায়দার আলী

সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়,এটি সমাজের বিবেক, সত্য অনুসন্ধানের একটি দায়িত্বশীল মাধ্যম এবং গণতন্ত্রের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ। রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের মধ্যে তথ্যের সেতুবন্ধন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিস্তারের ফলে বর্তমানে এমন এক বাস্তবতার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রকৃত সাংবাদিকতা ও দায়বদ্ধ সংবাদ পরিবেশন আজ নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

 

বেশ কিছুদিন যাবত দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো অসংখ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ফেসবুক ভিত্তিক তথাকথিত সংবাদ মাধ্যম গড়ে উঠেছে। যা কোন নেতা বা সরকারি-বেসরকারি প্রোগ্রামে ছবি ওঠানোর জন্য স্টেজের সামনে ভিড় করে থাকা এদের যন্ত্রণায় প্রকৃত সাংবাদিকরা তাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য একরকম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন কোন খবর নয়। যাদের অনেকেরই নেই সরকারি নিবন্ধন, নেই সম্পাদকীয় নীতিমালা, নেই কোনো পেশাগত জবাবদিহিতা ।

 

একটি স্মার্টফোন, একটি ফেসবুক পেজ কিংবা ইউটিউব চ্যানেল খুলেই কেউ কেউ নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। ফলে সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশেষ করে কিছু ভিউ ব্যবসায়ীরা দ্রুত খবর প্রকাশের প্রতিযোগিতায় অনেক ক্ষেত্রেই সত্যতা যাচাইয়ের পরিবর্তে গুজব, অর্ধসত্য কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রকৃত সংবাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার মতো ন্যাক্কারজনক কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে তাদের এহেনো কর্মকা-ের কারণে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় একটি ভুল বা উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ একজন মানুষের সম্মান, কর্মজীবন এমনকি সামাজিক অবস্থানও ধ্বংস করে দিতে পারে। অন্যদিকে প্রকৃত সাংবাদিকরা প্রতিটি তথ্য একাধিক সূত্র থেকে যাচাই করে, নীতিমালা মেনে এবং পেশাগত ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন।

 

তাঁদের কাজের পেছনে থাকে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। কিন্তু দায়িত্বজ্ঞানহীন কিছু অনলাইন ও ফেসবুক ভিত্তিক কার্যক্রমের কারণে সাধারণ মানুষ অনেক সময় প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রতিও সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকান। এতে পুরো সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাংবাদিকতা কখনো ব্যক্তিগত প্রচারণা, প্রতিপক্ষকে হেয় করা বা আর্থিক সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হতে পারে না। সংবাদ প্রকাশের মূল ভিত্তি হতে হবে সত্য, নিরপেক্ষতা, জনস্বার্থ এবং নৈতিকতা। যে সংবাদ মানুষের উপকারের পরিবর্তে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, সেটি সাংবাদিকতা নয়, বরং সমাজের জন্য ক্ষতিকর।

 

সময়ের দাবি হলো,অনলাইন সংবাদমাধ্যম পরিচালনার ক্ষেত্রে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন, নিবন্ধনবিহীন সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত মানোন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকেও সচেতন হতে হবে, যাতে তারা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সংবাদ বিশ্বাস বা প্রচার না করেন। প্রযুক্তির এই যুগে অনলাইন সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

 

বরং সঠিক নীতিমালা, জবাবদিহিতা ও পেশাগত মান বজায় রেখে পরিচালিত অনলাইন সাংবাদিকতাই ভবিষ্যতের শক্তিশালী গণমাধ্যম হতে পারে। তবে দায়বদ্ধতা, সত্যনিষ্ঠা ও নৈতিকতা ছাড়া কোনো সাংবাদিকতাই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। পরিশেষে বলা যায়, সাংবাদিকতার পরিচয় প্রেস কার্ডে নয়, বরং সত্য প্রকাশের সাহস, পেশাগত সততা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতায়।

 

ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন ও ফেঁসবুক সাংবাদিকতার ভিড়ে আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহি মূলক সাংবাদিকতা। কারণ, একমাত্র সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই পারে সমাজকে আলোকিত করতে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে। আর দিনশেষে সেটাই যেন হয় এমনটি আশা আমার।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের উপাধি ব্যবহার করতে পারবেন না

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের উপাধি ব্যবহার করতে পারবেন না

প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল ব্রিটিশ রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়ে ২০২০ সালে স্বাধীন জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ছয় বছর পর গত আগস্টে তারা তাদের দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেটকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে বসবাস শুরু করেন।

রাজপরিবারে তাদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে চলছিল গুঞ্জন। রাজা তৃতীয় চার্লস সেই গুঞ্জনের সমাপ্তি টেনেছেন। সোমবার জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়, রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য হিসেবে হ্যারি ও মেগানকে বিবেচনা করা হবে না। রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লর্ড চেম্বারলেনের জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, হ্যারি-মেগানের যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পর তাদের অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যেন কোনো ‘সন্দেহ বা বিভ্রান্তি’ না থাকে, সে কারণেই এই চিঠি দেওয়া হয়েছে।

রাজপরিবার থেকে জারি করা ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘২০২০ সালের জানুয়ারিতে হ্যারি ও মেগান রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে তারা এখন আর রাজপরিবারের অফিসিয়ালি ‘এইচআরএইচ’ উপাধি ব্যবহার করতে পারবেন না।

জানা যায়, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বা প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই হ্যারি ও মেগান আকস্মিকভাবে ২০২০ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন যে, তারা রাজপরিবারের ‘সিনিয়র’ সদস্যের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রানি এলিজাবেথ তখন একটি পারিবারিক বৈঠক ডাকেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় যে, হ্যারি-মেগান আর রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না এবং সরকারি কোনো অনুদান পাবেন না।

বিমান নিয়ে মন্তব্য, নোরার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
বিমান নিয়ে মন্তব্য, নোরার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের মামলা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উড়োজাহাজ নিয়ে মন্তব্য করে আইনি জটিলতায় পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহি। ডুন এভিয়েশন নামের একটি চার্টার্ড বিমান সংস্থাকে নিয়ে অসম্মানজনক ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ৩০ মিলিয়ন দিরহাম ক্ষতিপূরণ দাবি করে মানহানির মামলা করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ডিসেম্বরে। মুম্বাই থেকে জয়পুর যাওয়ার পথে সেসনা সাইটেশন সিজে-২ মডেলের একটি উড়োজাহাজে ওঠার সময় ভিডিও ধারণ করেন নোরা। পরে সেই ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন তিনি। ওই অ্যাকাউন্টে তার প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ অনুসারী রয়েছে।

ভিডিওতে উড়োজাহাজটির আকার ও চেহারা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে নোরা সেটিকে খেলনা কিংবা ‘লেগো বিমান’-এর সঙ্গে তুলনা করেন বলে অভিযোগ করেছে বিমান সংস্থাটি।

ডুন এভিয়েশনের দাবি, নোরার ওই মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ভিত্তিহীন। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে। সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজটি তার শ্রেণির একটি মানসম্মত বিমান।

এ ঘটনায় গত এপ্রিল মাসে গান্ধীনগরের একটি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটিতে ৩০ মিলিয়ন দিরহাম ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে ‘দিলবার’ ও ‘ও সাকি সাকি’র মতো জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া নোরা ফাতেহি সম্প্রতি ‘সারকে চুনার তেরি সারকে’ নামের একটি কন্নড় গানের কথার কারণেও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

ওই বিতর্কের পর নোরা জানিয়েছিলেন, গানটির ভাষা তিনি বুঝতে পারেননি। ভাষাগত বিষয়টি না বোঝার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি তখন বিতর্কের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেন।

বিশ্ববাজারে বেড়েই চলছে জ্বালানি তেলের দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে বেড়েই চলছে জ্বালানি তেলের দাম

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জাতীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি আরামকোর কয়েকটি স্থাপনায় ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলার ছুঁইছুঁই।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফিউচারস বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

ইয়েমেনের রিয়াদ-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সশস্ত্র সংঘাত তীব্র হওয়ার পাশাপাশি সৌদির কৌশলগত তেল অবকাঠামোতে সরাসরি হামলা তেলের বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা তৈরি করেছে।

এর আগে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দর বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ০৬ ডলারে পৌঁছেছিল। তবে দিনশেষে তা ৯৭ ডলারে স্থির হয়। একই সময়ে মার্কিন টেক্সাসের মানদণ্ড অক্টোবর ডেলিভারির ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েল ফিউচারস দরপ্রতি ৯৪ দশমিক ৪৭ ডলারে লেনদেন হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কোনো মীমাংসা না হওয়া এবং হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানির দাম ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।

এদিকে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় সাম্প্রতিক কয়েক দিনের সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে হুতিরা। সূত্র: আলজাজিরা