আশাশুনিতে ইজারাকৃত জলমহাল দখলের অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে সরকারিভাবে ইজারাকৃত জলমহাল অবৈধভাবে দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিকার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মৎস্যজীবীরা। মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে আশাশুনি উপজেলার নাটানা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নজির উদ্দিন শেখ।
লিখিত অভিযোগে জানানো হয়, গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি আশাশুনি নাটানা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে কোদন্ডা মৌজার ‘হাড়িয়া নদী’ ও ‘সলুয়া নদী’ জলমহালের মোট ৬৭ বিঘা জমি তিন বছরের জন্য ইজারা দেয় সরকার। চুক্তি অনুযায়ী সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে বাংলা ১৪৩২ সনের পহেলা বৈশাখ থেকে সমিতির ২৫-২৬ জন সদস্য সেখানে মৎস্য চাষ শুরু করেন। কিন্তু গত ১৬ এপ্রিল আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হেদায়েতুল ইসলামের নেতৃত্বে তাঁর ছেলে বিএনপি নেতা সরোয়ার আলম লিটনসহ একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে সলুয়া ও হাড়িয়া নদীর নেট-পাটা কেটে ও বাসা ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে সেখানে পাহারায় থাকা মৎস্যজীবীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নজির উদ্দিন শেখ বলেন, “আমরাও জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ধারদেনা করে জলমহালটি ইজারা নিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের দলেরই কিছু ব্যক্তির লোভের কারণে আমরা এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছি। সমিতিতে কয়েকজন অন্ধ ও প্রতিবন্ধী সদস্যও রয়েছেন।”
ভুক্তভোগীরা জানান, এই ঘটনায় গত ২৭ এপ্রিল আশাশুনি থানায় একটি লিখিত এজাহার দেওয়া হলেও পুলিশ এখনো মামলাটি রেকর্ড করেনি। গত দুই মাস ধরে অভিযুক্তরা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার মাছ ধরে বিক্রি করে দিচ্ছে। এই অবস্থায় অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে জলমহাল উদ্ধার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীরা।







