ইসরায়েলকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি জেলেনস্কির
রুশ দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড থেকে রাশিয়া কর্তৃক ‘চুরি করা’ শস্য ইসরায়েলি বন্দরে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার অভিযোগ তুলে ইসরায়েলের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কিয়েভ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, এমন শস্য বহনকারী আরেকটি জাহাজ ইসরায়েলের একটি বন্দরে পৌঁছেছে এবং তা খালাসের প্রস্তুতি চলছে। তিনি লিখেছেন, কোন জাহাজ বন্দরে আসছে এবং তারা কী পণ্য বহন করছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে অবগত নয়, এমনটি হওয়ার সুযোগ নেই।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বেড়েছে। গত মঙ্গলবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিলেন। ইসরায়েলের সংবাদপত্র হারেৎজর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকৃত এলাকা থেকে শস্য বহনকারী সন্দেহে প্যানোরমিটিস নামের একটি জাহাজ হাইফা বন্দরে নোঙরের অনুমতির অপেক্ষায় আছে। চলতি বছর এমন চারটি চালান ইতোমধ্যে ইসরায়েলে খালাস করা হয়েছে।
তবে ইউক্রেনের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, শস্য যে চুরি করা, সেটির কোনও প্রমাণ ইউক্রেন দিতে পারেনি। একই সঙ্গে তিনি কিয়েভের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কূটনীতি পরিচালনার অভিযোগ করেছেন।
জেলেনস্কির দাবি, রাশিয়া সুপরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল থেকে শস্য লুট করছে এবং তা ‘দখলদারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের’ মাধ্যমে রফতানি করছে। তিনি বলেন, এই ধরনের ‘পরিকল্পনা’ ইসরায়েলি আইনের লঙ্ঘন। জেলেনস্কি জানান, এই চালানগুলো ঠেকাতে ইউক্রেন কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিলেও এখনও এমন একটি জাহাজকে আটকানো সম্ভব হয়নি।
জেলেনস্কি আরও জানান, কিয়েভ এখন নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ তৈরির কাজ করছে। এই নিষেধাজ্ঞা মূলত ‘যারা সরাসরি এই শস্য পরিবহন করছে এবং যারা এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে, এমন ব্যক্তি ও আইনি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে’ প্রয়োগ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের জন্য ইউক্রেন ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করবে। গত রাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নও একইভাবে ইসরায়েলে রাশিয়ার শস্যবাহী জাহাজ নোঙরের প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সতর্ক বার্তা দিয়েছে।
জেলেনস্কি লিখেছেন, ইউক্রেন প্রতিটি রাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। আমরা আশা করি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইউক্রেনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে এবং আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষুণ্ণ করে, এমন কাজ থেকে বিরত থাকবে।












