কলারোয়ায় চুমকিখচিত দুর্গাপ্রতিমা: দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু
0-4024x1784-0-0-{}-0-12#bokehtype:0#;ts:198369938942000;appts:1791785407044;qlty:1;;illum:2 scene:1 humanIn:0;
কলারোয়া প্রতিনিধি: শারদীয় দুর্গাপূজায় নতুনত্ব ও নান্দনিকতার ছোঁয়া দিতে কলারোয়া পৌরসভার দক্ষিণ মুরারিকাটি কাঠের পুলসংলগ্ন পূজাম-পে এবার তৈরি করা হয়েছে চুমকিখচিত দুর্গাপ্রতিমা। রঙিন চুমকির ঝলমলে কারুকাজে সজ্জিত প্রতিমা ইতোমধ্যে উপজেলার অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়ার সাদা তিলে নির্মিত প্রতিমার পাশাপাশি দক্ষিণ মুরারিকাটির চুমকিখচিত প্রতিমাও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে।
ম-পের প্রতিটি প্রতিমায় চুমকি বসিয়ে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে রাতের আলোর রোশনাইয়ে চুমকির ঝিলিক প্রতিমাগুলোকে করে তুলছে আরও অপরূপ ও দৃষ্টিনন্দন। এর আগে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম দক্ষিণ মুরারিকাটির এই চুমকিখচিত পূজাম-প পরিদর্শন করেন।
ম-প কমিটির সভাপতি নির্মল ম-ল জানান, প্রতিবছরের চেয়ে এবার ব্যতিক্রম কিছু করার চিন্তা থেকেই দুর্গাপ্রতিমায় চুমকি বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যশোর থেকে প্রতি কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে মোট ১২ কেজি চুমকি কেনা হয়েছে। এতে চুমকি কিনতেই ব্যয় হয়েছে ১৯ হাজার ২০০ টাকা।
তিনি আরও জানান, আশাশুনির ভাস্কর সঞ্জয় ম-ল নিজের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিটি প্রতিমায় চুমকি বসানোর পাশাপাশি রঙের কাজও সম্পন্ন করেছেন। তাঁর নিবিড় প্রচেষ্টায় প্রতিমাগুলো পেয়েছে অনন্য শৈল্পিক রূপ। ম-প কমিটির উদ্যোগে এবারই প্রথম বিশেষভাবে চুমকি বসিয়ে প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে এই নান্দনিক শিল্পকর্ম।
ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে নির্মিত দক্ষিণ মুরারিকাটির এই চুমকিখচিত দুর্গাপ্রতিমা এবারের শারদীয় উৎসবে কলারোয়ার পূজাম-পগুলোর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। সোমবার দুপুরে কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে নির্মল ম-ল ও অনিমেষ পাল জানান, প্রতিবারই পূজার সময় তাঁদের ম-পসহ আশপাশের ম-পে বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থী আসেন। কিন্তু তাঁদের ম-পসংলগ্ন বেত্রবতী নদীর কাঠের সাঁকোটি নড়বড়ে ও অপ্রশস্ত হওয়ায় মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এ অবস্থায় সাঁকোটির স্থলে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানান তাঁরা।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, কলারোয়া উপজেলা শাখার সভাপতি প্রকাশ চন্দ্র হালদার ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাস দেবু দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিবেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবার উপজেলার ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি দাবি করে তাঁরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো থাকায় পূজাম-পে নিরাপত্তা সমুন্নত থাকবে। তাঁরা মুরারিকাটি উত্তর ও দক্ষিণÑউভয় ম-পের বিশেষ প্রতিমা নির্মাণের ক্ষেত্রে আয়োজক কমিটিকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। সর্বোপরি আপামর মানুষের প্রাণঢালা ভালোবাসায় আনন্দঘন পরিবেশে এবার দুর্গোৎসব উদযাপিত হতে যাচ্ছেÑএমনটি মনে করেন কলারোয়া উপজেলা কল্যাণ ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।












