বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কলারোয়ায় সাফল্য ছড়াচ্ছেন সাত্তার: ‘কৃষক দলগঠন’ মিটিংয়ে কৃষিতে বিপ্লব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় সাফল্য ছড়াচ্ছেন সাত্তার: ‘কৃষক দলগঠন’ মিটিংয়ে কৃষিতে বিপ্লব

সংবাদদাতা: একসময়ের সাধারণ কৃষক আব্দুস সাত্তার সানা এখন কলারোয়ার গ্রামীণ অর্থনীতির এক অনুকরণীয় রোল মডেল। নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি এখন নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এলাকার অন্য কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে। কলারোয়া উপজেলার যুগীখালী ইউনিয়নের কামারালী গ্রামের এই সফল কৃষকের উদ্যোগে এলাকায় শুরু হয়েছে নিয়মিত ‘কৃষক দলগঠন’ মিটিং ও কৃষি সমাবেশ, যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

শূন্য থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালে প্রথম কৃষিকাজে হাত দেন আব্দুস সাত্তার সানা। কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে তিনি এলাকায় গড়ে তোলেন এক বিশাল ‘সবজি সমারোহ মাঠ’। সবজি চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনের পর তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি। একে একে গড়ে তোলেন মৎস্য ঘের এবং গরু-ছাগলের খামার।

কৃষির উপার্জনেই তিনি মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেকে একটি মুদি দোকান করে দিয়ে স্বাবলম্বী করেছেন। শুধু তাই নয়, নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে নতুন কৃষি জমি ক্রয় ও বন্ধক রেখে বর্তমানে তিনি এলাকায় একজন প্রতিষ্ঠিত ও স্বাবলম্বী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত।

‘কৃষক প্রেমিক দল’ ও স্বেচ্ছাশ্রম নিজে স্বাবলম্বী হয়েই ক্ষান্ত হননি সাত্তার সানা। নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা কলারোয়ার সাধারণ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে তিনি গঠন করেছেন ‘কৃষক প্রেমিক দল’। এই দলের ব্যানারে তিনি নিয়মিত আয়োজন করছেন কৃষি পরামর্শ সভা ও সমাবেশ। তার সঠিক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পেয়ে এলাকার সাধারণ কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হয়ে মাঠের পর মাঠ সবজি চাষ শুরু করেছেন। ফলে পুরো যুগীখালী ইউনিয়ন এখন কৃষিখাতে এক উর্বর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

কৃষি বিপ্লবের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাশ্রমের কাজেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই কৃষক। সম্প্রতি যুগীখালী ইউনিয়নের ওফাপুর মাঠপাড়া মাঝের খালের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে ১৬৮০ মিটার দৈর্ঘ্য, ২৫ ফুট প্রস্থ এবং ৮ ফুট গভীরতার এক বিশাল খাল পুনঃসংস্কার করেন। এতে করে এলাকার শত শত একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এখন তিনি রিজারভার ও খাল খনন করে এলাকার চাষিদের পানির চাহিদা মেঠাচ্ছেন।

এছাড়া ৬বিঘা মিশ্র মৎস্য ঘেরের পাড়ে পড়ে থাকা আইল বা জমিতে ছিম সহ বিভিন্ন সবজির ফসল করে এলাকাবাসীর ত্যাগ লাগিয়েছেন। আর এ কাজে সার্বক সহযোগীতা করে আসছেন-টেকসই কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ এবং আন্তার্জাতিক সংস্থা সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আব্দুস সাত্তার সানার নিঃস্বার্থ পরামর্শ এবং খালের জলাবদ্ধতা দূর করার দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে তারা এখন নির্বিঘ্নে ফসল ফলাতে পারছেন। সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই একজন ব্যক্তি কীভাবে পুরো এলাকার কৃষির চিত্র বদলে দিতে পারেন, সাত্তার সানা তার বাস্তব প্রমাণ। এলাকার কৃষকরা এখন তাকে একজন ‘কৃষক বন্ধু’ হিসেবেই দেখছেন।

 

Ads small one

শ্যামনগরের নীলডুমুরে মুরগির ঘরে ১০ ফুটের অজগর, খেয়ে ফেলেছে ৬ হাঁস-মুরগি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরের নীলডুমুরে মুরগির ঘরে ১০ ফুটের অজগর, খেয়ে ফেলেছে ৬ হাঁস-মুরগি
এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন নীলডুমুর এলাকায় একটি মুরগির ঘর থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট লম্বা ও ২৫ থেকে ৩০ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ ও কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে নীলডুমুর এলাকার আতিয়ার রহমান গাজীর ছেলে মুক্তার গাজীর মুরগির ঘর থেকে অজগরটি উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা অজগরটিকে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া এলাকার কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে খাবারের সন্ধানে অজগরটি লোকালয়ে ঢুকে মুক্তার গাজীর মুরগির ঘরে আশ্রয় নেয়। এ সময় অজগরটি ঘরের মধ্যে থাকা হাঁস-মুরগির ওপর আক্রমণ করে। একপর্যায়ে ছয়টি হাঁস-মুরগি খেয়ে ফেলে বলে জানান বাড়ির মালিক।
মুক্তার গাজী বলেন, “রাতে আমার মুরগির ঘরের মধ্যে অজগরটি ঢুকে পড়ে। সকালে দেখি মুরগিগুলো ঘর থেকে বের হচ্ছে না। পরে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ঘরের ভেতরে তাকিয়ে দেখি বিশাল বড় একটি অজগর সাপ রয়েছে।
 বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগ ও সিপিজির সদস্যদের জানাই। খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে অজগরটি উদ্ধার করে।”
খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্য ও সিপিজির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে অজগরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে বন বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অজগরটিকে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া এলাকা থেকে কিছুটা দূরে বনের ভেতরে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নীলডুমুর এলাকার একটি মুরগির ঘর থেকে বড় আকৃতির একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। অজগরটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৮ থেকে ১০ ফুট এবং ওজন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কেজি। উদ্ধার শেষে এটিকে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া এলাকার কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা হয়েছে।”
সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় মাঝেমধ্যেই লোকালয়ে অজগরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনা ঘটে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, খাদ্যের সন্ধান কিংবা প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে এসব বন্যপ্রাণী কখনো কখনো লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে। এ ধরনের প্রাণী দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগকে খবর দেওয়ার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও বৃষ্টিতে পাইকগাছায় বেড়েছে জনদুর্ভোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও বৃষ্টিতে পাইকগাছায় বেড়েছে জনদুর্ভোগ

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছায় বিরামহীন হালকা ও ভারী বৃষ্টিপাতে স্বাভাবিক জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও বিরামহীন টানা বৃষ্টিপাতের ফলে খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

 

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে উপজেলার পৌর সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা এবং কাঁচা রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একটানা বৃষ্টির কারণে দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। এতে তারা চরম অর্থনৈতিক সংকটে ও খাদ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন।

 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কাঁচা ও নিচু সড়কগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়ায় এবং রাস্তায় কাদা জমে যাওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং স্বাভাবিক পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে নিচু এলাকার ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং জোয়ারের পানি ও বৃষ্টির কারণে পুকুর ও চিংড়ি ঘের ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে নিচু এলাকার অনেক বাড়ির উঠান এমনকি রান্নাঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। এতে গৃহিণীদের রান্নাবান্নাসহ স্বাভাবিক গৃহস্থালি কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে আমনের বীজতলা এবং মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চাষিরা। কিছু কিছু নিচু এলাকার সবজি খেত ইতোমধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

 

নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় শিবসা ও কপোতাক্ষ নদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

 

উপকূলীয় এলাকার মানুষ একদিকে বৃষ্টির পানি ও অন্যদিকে জোয়ারের তীব্রতার কারণে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা এই জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা শুরু করেছে ইরানে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা শুরু করেছে ইরানে

মার্কিন বিমান বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের দুই ট্যাংকার জাহাজে হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে ফের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা থেকে শুরু হয়েছে এ হামলা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনের এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ১২টা