কাগজে সংগঠন, মাঠে দুর্বলতা: সাতক্ষীরায় ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে
গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে ২০২৬ সালের নির্বাচনে একটি আসন অর্জন করেছে। আলহামদুলিল্লাহ, ত
সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে সক্রিয় ও বেগবান হয়েছে এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এটি তাদের রাজনৈতিক অগ্রগতির একটি ধাপ।
কিন্তু সাতক্ষীরার বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্বাধীনতার পর থেকেই সাতক্ষীরা জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম শক্তিশালী সাংগঠনিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। জেলার অধিকাংশ এলাকায় তাদের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তি, জনসম্পৃক্ততা ও ভোটব্যাংক রয়েছে। এমন বাস্তবতায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যদি সাতক্ষীরায় নিজেদের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়, তাহলে সেই দাবি বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষায় টিকে না। কারণ রাজনীতিতে জনসমর্থনই সবচেয়ে বড় পরিচয়।
এর চেয়েও আলোচনার বিষয় হলো, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাতক্ষীরা জেলাকে সাংগঠনিকভাবে পূর্ব ও পশ্চিম-এই দুই জেলায় ভাগ করার উদ্যোগ নিয়েছে। অথচ ভৌগোলিকভাবে সাতক্ষীরা উত্তর-দক্ষিণ বিস্তৃত একটি জেলা।
আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো যে জেলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচনী সক্ষমতা এখনো সীমিত, যেখানে একটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার মতো শক্ত অবস্থানও তারা গড়ে তুলতে পারেনি, সেখানে দুটি সাংগঠনিক জেলা পরিচালনার সিদ্ধান্ত কতটা বাস্তবসম্মত? একটি সাংগঠনিক ইউনিটকে শক্তিশালী করার আগেই আরেকটি নতুন ইউনিট সৃষ্টি করা কি সত্যিই সংগঠনের সক্ষমতা বাড়ায়, নাকি বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাকেই আরও স্পষ্ট করে?
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরার প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলেও একটি জেলা কাঠামোর মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেই বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা করলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
বাস্তব শক্তি, জনভিত্তি ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি না করে শুধু সাংগঠনিক ইউনিটের সংখ্যা বাড়ালেই কোনো দল শক্তিশালী হয়ে যায় না। বরং জনগণের আস্থা অর্জন, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর সংগঠন গড়ে তোলাই একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তির পরিচয়।
রাজনীতিতে বাস্তবতা কখনো ঘোষণায় বদলে যায় না; বদলে যায় জনগণের রায়ে। তাই সাতক্ষীরায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে। লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা












