মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনী অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনী অনুষ্ঠিত

জাতীয় মৎস্য পক্ষের মূল্যায়ন ও সমাপনী অনুষ্ঠান আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে খুলনা মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম।

জাতীয় মৎস্য পক্ষের এবারের প্রতিপাদ্য ‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি দেশের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার।

 

দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে মৎস্য উৎপাদন বাড়িয়ে নিজেদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি আয়ও বৃদ্ধি করতে হবে। শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, গুণগত মান বজায় রেখে নিরাপদ মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, বিশ্বের প্রায় সব মানুষই মাছ খায়, তবে অঞ্চলভেদে মাছ খাওয়ার পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে।

 

মাছ মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও পুষ্টিকর খাদ্য। বাংলাদেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্ভরশীল। মৎস্য চাষের মাধ্যমে একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন, প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি নিরাপদ ও টেকসই মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ করতে হবে।

 

মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ মাছ উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়িয়ে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরো স্বনির্ভর করে তুলতে হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: বদরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খুলনা মৎস্য অধিদপ্তরের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরির কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ম্যানেজার মো: মুক্তাদির খান, মৎস্য দপ্তরের উপপরিচালক বিপুল কুমার বসাক ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ.টি.এম. তৌফিক মাহমুদ বক্তৃতা করেন। দুই দিনব্যাপী মৎস্য পক্ষের মূল্যায়ন বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহকারী পরিচালক উজ্জ্বল কুমার রায়।

সমাপনীতে মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী, মৎস্য আহরণকারীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। তথ্যবিবরণী

Ads small one

সাতক্ষীরা পাওবো ভেড়িবাধের একদিকে সংস্কার চলছে, আর একদিকে ভাঙন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা পাওবো ভেড়িবাধের একদিকে সংস্কার চলছে, আর একদিকে ভাঙন

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ বছর জুড়েই চলমান। সরকারি অর্থ ব্যয়ে একের পর এক বাঁধ সংস্কার করা হলেও জেলার পাউবোর দুটি বিভাগের আওতাধীন ৬৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে বিভিন্ন পয়েন্ট এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও জোয়ারের পানির চাপে বাঁধে ধস নামছে, কোথাও দেখা দিয়েছে নতুন ফাটল ও ভাঙন। ফলে বাঁধ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সব সময়ই বিরাজ করছে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং পাউবো কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবের কারণে সংস্কারের পরও বাঁধ টেকসই হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সংস্কার শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যেই একই স্থানে ফের ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে উপকূলের জনবসতি, কৃষিজমি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ ও বিভাগ-২-এর আওতাধীন বিভিন্ন পোল্ডারের অন্তর্ভুক্ত মোট ৬৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে পাউবো বিভাগ-১ এর অধীনে ৩৮৩ কিলোমিটার এবং পাউবো বিভা-২ এর অধীনে ৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। কপোতাক্ষ নদ, খোলপেটুয়া, মাদার, চুনা, গলগেসিয়া, বেতনা, মরিচ্চাপ এবং সীমান্তবর্তী কালিন্দী ও ইছামতি নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এসব বাঁধ জেলার উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বর্ষা মৌসুমে বা যে কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় নদীর প্রবল স্্েরাত, জোয়ারের পানির চাপ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে এসব বাঁধের বিভিন্ন অংশ প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি মেরামত থেকে শুরু করে বড় ধরনের সংস্কারকাজও করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই বাঁধের ওই অংশে ফের দুর্বলতা দেখা দেয়।

প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামের সাবেক মেম্বার গোলাম রসুল জানান, বাঁধ সংস্কারের ক্ষেত্রে মাটি ভরাট, মাটি সংরক্ষণ, ঢাল সঠিকভাবে তৈরি করা এবং প্রয়োজনীয় স্থানে জিওব্যাগসহ অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা যথাযথভাবে না করায় বাঁধ দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপর নদীর জোয়ার-ভাটা ও গ্রোতের চাপে অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্কার করা অংশে ফের ভাঙন শুরু হয়। যে কারণে আমাদের উপকূলবাসীর দুর্ভোগ কমে না।

নওয়াবেকি গ্রামের ইকবাল হোসেন বলেন, “বেড়িবাঁধ ভাঙলে আমাদের আতঙ্ক শুরু হয়। সরকারি টাকা খরচ করে বাঁধ মেরামত করা হয়, কিন্তু কিছুদিন পর আবার সেই জায়গায় ভাঙন দেখা দেয়। কাজ যদি ঠিকভাবে করা হয়, তাহলে একই জায়গায় বারবার সংস্কার করতে হবে কেন? একই পয়েন্টে বারবার সংস্কারকাজের ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।”

উপকূলের বিছট গ্রামের আব্দুল হাকিম মোড়ল জানান, “সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে বেড়িবাঁধ শুধু একটি মাটির বাঁধ নয়, এটি তাদের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও জীবন-জীবিকার নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। বাঁধের কোনো অংশে ভাঙন দেখা দিলেই আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম, অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ার এবং নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের সময় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। বাঁধ ভেঙে বা উপচে লবণাক্ত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে কৃষিজমি ও মৎস্যঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়িও হুমকির মুখে পড়ে।

তবে বেড়িবাঁধ নির্মাণ বা সংস্কার কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম এবং পাউবো কতপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম জানান, তার বিভাগের অধীনে ৩৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৫ কিলোমিটার বাঁধের ১০/১৫ পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। তবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সংস্কার কাজ চলছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।

সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, “তার অধীনে ৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে আশাশুনির প্রতাপনগর ও আনুলিয়া এবং শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নটির ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে পাঁচ কিলোমিটার জায়গায় সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। বাকি ১০ দশমিক ৮৮ কিলোমিটারের জন্য বরাদ্দ পেলে সেখানেও সংস্কারকাজ করা হবে।

তিনি আরও জানান, “নদীর স্বাভাবিক স্্েরাত, জোয়ারের চাপ, বৃষ্টিপাত, জলোচ্ছ্বাস ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে উপকূলীয় বাঁধের ক্ষয় ও ভাঙন একটি চলমান প্রক্রিয়া।”

 

 

কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল আটক

পত্রদূত ডেস্ক: সোমবার ও মঙ্গলবার (১৭ ও ১৮ আগস্ট ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় শাড়ি ও ঔষধ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে র কলারোয়া থানার কেড়াগাছি হতে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে। এছাড়াও, মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার বড়ালি হতে ৪২ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

সাতক্ষীরায় নদী রক্ষা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নদী রক্ষা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় নদী রক্ষা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল দশটায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মিজ কায়সার আজিজের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান সিনিয়র সচিব মোঃ মোকসুমুল হাকিম চৌধুরী।

এ সময় জাতীয় পানি কমিশনের উপ-পরিচালক উপসচিব আব্দুল আল জাকি, জাতীয় পানি কমিশনের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুল হক, পানি প্রকৌশলী সহকারী প্রধান আহমদ শামস কাদিরসহ সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড এক ও দুইয়ের প্রকৌশলী, সাংবাদিক জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, মোঃ আব্দুল বারী এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাতক্ষীরার জলবদ্ধতা নিরসন, নদী ও খালের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

সভা শেষে অতিথিবৃন্দ সাতক্ষীরা প্রাণসায়র খাল, বেতনা নদীসহ বিভিন্ন নদীর পাড় পরিদর্শন করেন।