বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

তালায় কুল চাষে সাফল্য, সরবরাহ হচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
তালায় কুল চাষে সাফল্য, সরবরাহ হচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় কুল চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা। উৎপাদিত কুল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এ অঞ্চলে কুলের আবাদ।

স্থানীয় বাজারগুলোতে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে কুল কেনাবেচা জমে উঠেছে। এ অঞ্চলে বিলাতি মিষ্টিকুল, থাই আপেল, বল সুন্দরী, কাশ্মীর আপেল, দেশি আপেল, নারিকেল, বোম্বাই ও টকজাতের কুলের চাষ হচ্ছে। গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব কুলের চাহিদা বাড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছে। ২০১৯ সালে জেলায় কুলের আবাদ ছিল প্রায় ৫৫০ হেক্টর। বর্তমানে তালা ও কলারোয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি কুল উৎপাদিত হচ্ছে। জেলায় বছরে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ হাজার মেট্রিক টন কুল উৎপাদিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উৎপাদিত কুল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।

তালা উপজেলার কুলচাষি পাঞ্জাব আলী জানান, গত আট বছর ধরে তিনি কুল চাষ করছেন। অন্যের জমি ইজারা নিয়ে সাত বিঘা জমিতে আপেলকুল, বল সুন্দরী, বিলাতি মিষ্টিকুল, কাশ্মীর আপেল, দেশি, নারিকেল ও বোম্বাই জাতের কুল চাষ করেছেন। গত ছয় বছর ধরে তাঁর বাগানে নিয়মিত কুল উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতি মৌসুমে তিনি ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকার কুল বিক্রি করেন। চলতি মৌসুমেও বিক্রি শুরু হয়েছে। স্থানীয় ও খুলনার ব্যবসায়ীরা তাঁর বাগান থেকে কুল কিনছেন।

কুলচাষি ও শিক্ষক লাল্টু বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে নিজের জমিতে কুল চাষ করছেন তিনি। গত বছর ১০ বিঘা জমিতে আপেলকুল চাষ করে ছয় লাখ টাকা লাভ করেছেন। তাঁর মতে, অন্য ফসলের তুলনায় কুল চাষ বেশি লাভজনক। মাত্র সাড়ে তিন মাসের মধ্যে ফসল পাওয়া যায় এবং ঝুঁকিও তুলনামূলক কম।

পাইকারি কুল ব্যবসায়ী ও আড়তদার রাসেল হোসেন জানান, সাতক্ষীরায় উৎপাদিত কুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। খুলনা ছাড়াও বরগুনা, পটুয়াখালী, মাদারীপুর, বরিশাল ও পিরোজপুরে কুল সরবরাহ করেন তাঁরা। প্রতি মণ আপেলকুল ও বিলাতি মিষ্টিকুল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা দরে কেনেন তিনি। প্রতি মৌসুমে সাত থেকে আট হাজার মণ কুল কেনাবেচা করেন বলেও জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, অল্প সময়ে ভালো লাভ পাওয়া যায় বলে জেলায় কুল চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বছরে জেলায় ১৭ থেকে ১৮ হাজার মেট্রিক টন কুল উৎপাদিত হয় বলে জানান তিনি।

কুল চাষের এ সাফল্যে উপকৃত হচ্ছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু কৃষক। উৎপাদন আরও বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তালার চাষিরা।

Ads small one

প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন আজ, উদ্বোধন করবেন ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন আজ, উদ্বোধন করবেন ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প 

পত্রদূত ডেস্ক: দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আবারও মোংলা বন্দরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে তিনি বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নতুন দুটি কনটেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণের পাশাপাশি পণ্য ওঠানামায় ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৪৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। বাকি অর্থ দেবে সংশ্লিষ্ট চীনা প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্প বাস্তবায়নে গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে এ-সংক্রান্ত উন্নয়ন চুক্তি করেন।

মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বন্দরের চ্যানেলের নাব্যতা বাড়াতে পরিকল্পিত ড্রেজিং, সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন, ফয়লা বিমানবন্দর চালু এবং আকরাম পয়েন্টে এলএনজি স্টেশন নির্মাণের দাবি জানান।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী নতুন দুটি কনটেইনার জেটির নির্মাণকাজ উদ্বোধনের পাশাপাশি ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে রেলপথ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করবেন। এর ফলে মোংলা বন্দরে কনটেইনার পরিবহনে রেল যোগাযোগ চালুর সুযোগ তৈরি হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেড. এইচ. সিকদার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা, প্রদর্শিত ৪০ প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ
জেড. এইচ. সিকদার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা, প্রদর্শিত ৪০ প্রকল্প

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে জেড. এইচ. সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) আয়োজিত এ মেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৪০টি বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শন করেন।

‘উদ্ভাবন, অনুসন্ধান ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত মেলায় শরীয়তপুরের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তাঁদের প্রকল্পে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৃজনশীল প্রয়োগ এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানের নানা ধারণা তুলে ধরা হয়।

মেলা পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল খালেক, রেজিস্ট্রার খন্দকার তাহমিনা নিষাদ এলিনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রকল্পের ধারণা, কার্যপদ্ধতি ও সম্ভাব্য ব্যবহার তুলে ধরেন। অতিথিরা তাঁদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং গবেষণায় উৎসাহ দেন।

আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণায় আগ্রহ তৈরি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরিতে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে। এতে নির্বাচিত সেরা প্রকল্পের শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হবে।

মেলার আয়োজনে সহযোগিতা করেছে বেসিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, অ্যালবাট্রস এডুকেশন ও ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

বল্লীতে মসজিদের রাস্তা সংস্কারে পরিমাপ ও পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
বল্লীতে মসজিদের রাস্তা সংস্কারে পরিমাপ ও পরিদর্শন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের বরাদ্দে সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোচড়া জামে মসজিদে যাওয়ার রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে রাস্তার মাপজোখ ও কারিগরি পরিদর্শন সম্পন্ন করে।

এ সময় বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ মিজানুর রহমান (পিকলু) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। এতে মসজিদের মুসল্লি ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হতো। রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। পরিদর্শনকালে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, মুসল্লি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।