মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

তালায় নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
তালায় নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন

 

‎তালা প্রতিনিধি: ‎তালায় নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক বৈষম্য বিলোপ এবং সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় ক্যাম্পেইন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নেটজ বাংলাদেশের ও বিএমজেড এর সহযোগিতায় এবং রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব) – হোপ প্রকল্পের উদ্যোগে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।
‎উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ক্যাম্পেইনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। তালা উপজেলা সিএসও সভাপতি শাহনাজ পারভীনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ডাক্তার শেখ মাহমুদুল হক, তালা মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেখ শফিকুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আলাউদ্দিন জোয়ারদার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আশুতোষ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি এমএ হাকিম, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম, সাংবাদিক মো. আকবর হোসেন, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক অফিসের প্রশিক্ষক আলেয়া খাতুন, এরিয়া সমন্বয়কারী তাহেরা সিদ্দিকা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য ও প্রকল্পের কার্যক্রমের উপস্থাপন করেন রিইব- হোপ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী খালিদ হাসান। এর আগে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিল্পকলা একাডেমিতে এসে শেষ হয়। এ সময় সচেতনতামূলক নাটক প্রদর্শন, সিগনেচার ক্যাম্পেইন, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ এবং মানবাধিকার বিষয়ক স্টল প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
‎ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জেন্ডার সমতা, মানবাধিকার এবং নারী ও কিশোরদের সামাজিক অংশগ্রহণ বিষয়ে সমাজের সকল শ্রেনী বিশেষত তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কর্মসূচিতে শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। যার মধ্যে কর্মএলাকার ৬টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, ৬টি ইউনিয়ন ও উপজেলার সিএসও প্রতিনিধি, উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক এবং স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

ধুলিহরে ব্যবসায়ীর বাড়িতে চেতনা দিয়ে সকলকে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
ধুলিহরে ব্যবসায়ীর বাড়িতে চেতনা দিয়ে সকলকে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট

‎নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে পরিবারের সবাইকে অজ্ঞান করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ সর্বস্ব লুট করে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার দিবাগত রাতে ধূলিহর সরদারবাড়ি এলাকার মুদি ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম খোকনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—ব্রহ্মরাজপুর বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী শেখ রবিউল আলম (পুটু), তাঁর ছেলে আশরাফুল আলম খোকনসহ পরিবারের চার সদস্য।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গতকাল রাতেও পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ঘরের ভেতরে চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। পরে তারা ঘরে থাকা নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা, স্বর্ণের গহনা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। আজ মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে খোঁজ নিতে যান। এ সময় তাঁরা ঘরের দরজা ভাঙা ও আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান এবং পরিবারের চার সদস্যকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে স্থানীয় গ্রাম চিকিৎসক বিকাশ দেবনাথকে ডেকে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আশরাফুল আলমের মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে সাতক্ষীরা ইসলামী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখনো তাঁর জ্ঞান ফেরেনি। বাকিদের জ্ঞান ফিরেছে বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে স্থানীয় সুপারিঘাটা পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, অপরাধীরা সমাজ ও দেশের শত্রু। এই চক্রটিকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

আশাশুনিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের নৈকাটি এলাকায় ভূগর্ভ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে এই কার্যক্রম বন্ধ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নৈকাটি উত্তরপাড়ার একটি মৎস্য ঘের থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিলেন গোদাড়া গ্রামের সাগর হোসেন। এতে আশপাশের জমি ও পরিবেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এলাকাবাসী বিষয়টি ইউএনও শ্যামানন্দ কুন্ডুকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

বুধহাটা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জানান, নির্দেশ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলনের মেশিন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এটি পরিবেশের জন্য বড় অপরাধ। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

সাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ: গণপিটুনি থেকে বাঁচাতে অভিযুক্ত কিশোরকে থানায় সোপর্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ: গণপিটুনি থেকে বাঁচাতে অভিযুক্ত কিশোরকে থানায় সোপর্দ

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ষষ্ঠ শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এদিকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচাতে অভিযুক্ত কিশোরকে কালিগঞ্জের নলতা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে এনে মঙ্গলবার বিকেলে থানায় সোপর্দ করেছেন স্বজনেরা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে বাড়ির পাশে বন্ধুদের সঙ্গে খেলছিল ওই শিশু। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রতিবেশী ওই মাদ্রাসাছাত্র খাবার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়ির ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে নিচে নামিয়ে আনার সময় স্থানীয় এক নারী বিষয়টি দেখে ফেললে শিশুটি চিৎকার করে। এ সময় অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় ওই রাতেই শিশুটিকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সুদেষ্ণা সরকার জানান, শিশুটির যৌনাঙ্গে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং রক্তক্ষরণ হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত কিশোর কালিগঞ্জে পালিয়ে গিয়েছিল। ক্ষুব্ধ জনগণের হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে পরামর্শ করে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

তবে আদালত চত্বরে অভিযুক্ত কিশোর নিজের ভুল স্বীকার করে জানায়, মানুষের মারধরের ভয়ে সে ইউপি সদস্যের সঙ্গে এসে থানায় ধরা দিয়েছে। পুলিশ তাকে ব্যাংদহা বাজার থেকে গ্রেপ্তারের যে দাবি করছে, তা সঠিক নয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক সুশান্ত কুমার ঘোষ জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর আসামিকে মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে ব্যাংদহা বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশু সুস্থ হলে তার জবানবন্দি ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. মঈনুদ্দিন জানান, অভিযুক্ত কিশোরকে মঙ্গলবার বিকেলে সাতক্ষীরা শিশু আদালতে হাজির করা হলে বিচারক (জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ) তাকে যশোরের পুলেরহাট শিশু ও কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।