রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

দেশের উন্নয়নে বিএনপির প্রতি আস্থা রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
দেশের উন্নয়নে বিএনপির প্রতি আস্থা রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

দেশের উন্নয়নে বিএনপি সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ পৌঁছে পাকুন্দিয়ায় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী জনগণের উদ্দেশে এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। আপনারা আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছিলেন। তাই পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, ইনশাআল্লাহ আপনারা আস্থা ধরে রাখুন; বিএনপি আপনাদের সঙ্গে ছিল, পাশে আছে এবং থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের জন্যই কাজ করবে। যতদিন বিএনপি টিকে থাকবে, দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনও কাজ করবে না।’

পাকুন্দিয়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় ব্রক্ষপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। পরে অনুষ্ঠানস্থলে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে হাজার হাজার নেতাকর্মী তাকে করতালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। জবাবে তিনিও তাদের হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।

বিশৃঙ্খলাকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু সংখ্যক ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। বিশৃঙ্খলা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণ। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হয়। তাদের চাকরি-বাকরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের জীবনযাপত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু উপকৃত হয় বিশৃঙ্খলাকারীরা।’

তিনি বলেন, ‘আজকে শপথ গ্রহণ করি, প্রতিজ্ঞা করি যে, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, যারা জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, তাদের জনগণ সব শক্তি নিয়ে প্রতিরোধ করবে। এখন দেশের মানুষ শান্তি চায়। মানুষ এখন আইনের শাসন চায়, কর্মসংস্থান চায়, সন্তানদের জন্য শিক্ষা চায়, পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চায়। এই কাজগুলো করতে হলে আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে তাদের ব্যাপারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামীতে একটি ওয়েলফেয়ার স্টেট গঠন করা। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা। সে কারণে আমরা নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আমরা শুরু করেছি; যা আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আপনারা হাজার হাজার মানুষ সমর্থন দিয়ে বলেছেন, এই পরিকল্পনাগুলো যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে। তাই তো নাকি? ঠিক। আপনাদের বলতে চাই, আপনারা যে সমর্থন দিয়েছিলেন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে, সেই সমর্থনের ওপরে আপনারা আস্থা ধরে রাখুন।’

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

সাতক্ষীরায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন, বিভিন্ন উপজেলায় পালিত নানা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন, বিভিন্ন উপজেলায় পালিত নানা কর্মসূচি

পত্রদূত ডেস্ক: ‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’Ñএই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন স্থানে তিন দিনব্যাপী জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ১৬ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবারে জেলা সদরসহ কলারোয়া, শ্যামনগর, আশাশুনি, খুলনার কয়রা, যশোরের কেশবপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় পৃথক শোভাযাত্রা, জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, আলোচনা সভা এবং সফল মৎস্যচাষীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর এখানে তুলে ধরা হলো।

কলারোয়া: কলারোয়ায় সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও সফল মৎস্যচাষীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ সাইদুর রহমান রেজা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এইচএম শাহীন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুজ্জামান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুরাদ হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম এনামুল ইসলাম, প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর আবু মুসা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন নাহার আক্তার, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর ও প্রেসক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ সাজেদ। মৎস্যচাষীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আতিয়ার রহমান, রফিকুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠান শেষে উপজেলার ৪জন সফল মৎস্যচাষী ও উদ্যোক্তার হাতে বিশেষ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

দেবহাটা: জেলার শ্রেষ্ঠ কার্প জাতীয় মাছ চাষির পুরস্কার অর্জন করেছেন দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের মাছ চাষি মো. রিয়াজুল ইসলাম। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, শ্রম ও আধুনিক পদ্ধতির সমন্বয়ে মাছ উৎপাদনে বিশেষ অবদান রাখায় তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রিয়াজুল ইসলাম কেবল সফল উদ্যোক্তাই নন, অত্যন্ত বিনয়ী ও সদালাপী মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাঁর কর্মনিষ্ঠা এলাকার তরুণদের মধ্যে মৎস্য চাষে নতুন আগ্রহ তৈরি করছে। নিজের অর্জন সম্পর্কে রিয়াজুল ইসলাম জানান, সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে মৎস্য খাতকে একটি অত্যন্ত লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। জেলার শ্রেষ্ঠ চাষির স্বীকৃতিকে তিনি নিজের দীর্ঘদিনের শ্রমের ফল হিসেবে দেখছেন। তাঁর এই অর্জনে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় চাষিরা অভিনন্দন জানিয়েছেন।

আশাশুনি: আশাশুনিতে উপজেলা পরিষদ লেকে মাছ অবমুক্তকরণের পর মডেল মসজিদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কু-ুর সভাপতিত্বে ও সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহমদ খান, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ আব্দুর রশিদ ও আজহারুল ইসলাম মন্টু, জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি জেলা সদস্য সচিব খাইরুল আহসান, প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিএম মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ হোসেন ও মৎস্যচাষী জাহেদুল ইসলাম বাবু।

অনুষ্ঠান শেষে উপজেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষী হিসেবে মিশ্র কার্প চাষে গুণাকরকাটি গ্রামের মো. সেফাতুল্লাহ, বাগদা চাষে শ্রীউলার কোহিনুর ইসলাম এবং গলদা চাষে বড়দলের আজহারুল ইসলাম মন্টুকে সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

শ্যামনগর: শ্যামনগরে র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ পুকুরে ২০ কেজি রুই জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এরপর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌহিদ হাসান।

অনুষ্ঠানে উপজেলার শ্রেষ্ঠ চার মৎস্যচাষীকে চারটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন—বাগদা চিংড়ি উৎপাদনে পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমজাদুল ইসলাম, কার্প মিশ্র চাষে ঈশ্বরীপুর গ্রামের রিজভী আহম্মেদ, রুই জাতীয় মাছ উৎপাদনে ভূরুলিয়া গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম এবং নদীতে খাঁচায় মাছ উৎপাদনে শ্রেষ্ঠ দল বিশ্বজীত সরদার ও তাঁর দল। আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদ হোসাইন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জিয়াউর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এসএম দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলায়মান কবীর, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, শ্যামনগর থানার সেকেন্ড অফিসার বিপ্লব হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আমজাদুল ইসলাম, মৎস্যচাষী ফিরোজ হোসেন এবং বুড়িগোয়লিনী নৌ থানা পুলিশের প্রতিনিধি।

কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ কুমার রায়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম, এনপিপির প্রধান সমন্বয়ক সম্রাট হোসেন ও পৌর জামায়াতের আমির প্রভাষক জাকির হোসেন। সভা শেষে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৫ জন মৎস্যচাষীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

কয়রা (খুলনা): খুলনার কয়রায় উপজেলা পরিষদ থেকে বের হওয়া বর্ণাঢ্য র‌্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মৃন্ময় কুমার ম-লের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কয়রা-পাইকগাছা আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. হাসানুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার জিএম মাওলা বকস, কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আমিন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এমএ হাসান, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইস্তিয়াক আহমেদ, কয়রা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াছাদ আলী, মৎস্যচাষী ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম খোকা, মিনারুল ইসলাম, মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ আকবার হোসেন, রোকনুজ্জামান ও নিরঞ্জন ম-ল। আলোচনা শেষে মৎস্য খাতে অবদানের জন্য ৩ জন মৎস্যচাষীকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের পুকুরে রুই জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

শ্যামনগরে অভিযানে পাঁচ লাখ টাকার মাদক জব্দ, গ্রেপ্তার ১৩

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে অভিযানে পাঁচ লাখ টাকার মাদক জব্দ, গ্রেপ্তার ১৩

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর থানা পুলিশ জুলাই মাসে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকার মাদকদ্রব্য ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শ্যামনগর থানা সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসের ১ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নেতৃত্বে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সহ পুলিশের বিভিন্ন দল গাঁজা, ইয়াবা ও ফেনসিডিল উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ১৫০ গ্রাম গাঁজা, ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৭০৩ পিস ইয়াবা এবং ২ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের ১৮৩ বোতল কোরেক্স ফেনসিডিল।

অভিযানকালে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি নম্বরবিহীন কালো রঙের ইয়ামাহা মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদক ও মোটরসাইকেলসহ জব্দ করা মোট সম্পদের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা।

উপজেলার কাশিমাড়ী, সোয়ালিয়া, আটুলিয়া, নকিপুর, বল্লার টোপ, বংশীপুর, মুন্সিগঞ্জ ডেলমা ফিলিং স্টেশন এলাকা, নওয়াবেঁকী, কৈখালী পরাণপুর, নুরনগর ও মাদিয়া সহ বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং গ্রেফতার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

এসব ঘটনায় শ্যামনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ১২টি মামলা করা হয়েছে (মামলা নম্বর: ১, ১৬, ১৮, ২৭, ৩০, ৩১, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪৪, ৪৫ ও ৪৬)।

অভিযান পরিচালনা করেন শ্যামনগর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আব্বাস আলী, খন্দকার আনোয়ার হোসেন, অনিরুদ্ধ রায়, আসাদুজ্জামান নূর, মোহাম্মদ বিপ্লব হোসেন, চিরঞ্জিত গাইন এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কৈখালী ক্যাম্পের কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান।

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, মাদক প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিক, সামাজিক ও যুবসংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদক ব্যবসা ও পাচারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।

 

জাতীয় কালো বিড়াল মূল্যায়ন দিবস: কুসংস্কার ভেঙে সহমর্মিতার বার্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
জাতীয় কালো বিড়াল মূল্যায়ন দিবস: কুসংস্কার ভেঙে সহমর্মিতার বার্তা

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর ১৭ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ন্যাশনাল ব্ল্যাক ক্যাট অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে বা জাতীয় কালো বিড়াল মূল্যায়ন দিবস। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো কালো বিড়ালকে ঘিরে প্রচলিত কুসংস্কার দূর করা, তাদের প্রতি মানুষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা এবং আশ্রয়কেন্দ্রে অবহেলিত কালো বিড়ালদের দত্তক নিতে উৎসাহিত করা। একটি প্রাণীর গায়ের রঙের কারণে তাকে ভয়, ঘৃণা বা অবহেলার চোখে দেখার প্রবণতার বিরুদ্ধে এটি একটি মানবিক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ।

এই দিবসের সূচনা করেন মার্কিন নাগরিক ওয়েন এইচ. মরিস। ২০১১ সালে তিনি তাঁর প্রয়াত বোন জুন এবং তাঁর প্রিয় কালো বিড়াল ‘সিনবাদ’-এর স্মরণে ১৭ আগস্ট দিনটিকে কালো বিড়াল মূল্যায়ন দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের গ-ি পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করে এবং প্রাণীপ্রেমীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতা দিবসে পরিণত হয়।

কালো বিড়ালকে ঘিরে কুসংস্কারের ইতিহাস বহু পুরোনো। মধ্যযুগীয় ইউরোপে ডাইনি শিকার ও ধর্মীয় উন্মাদনার সময় কালো বিড়ালকে ডাইনিদের সঙ্গী কিংবা শয়তানের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। ১২৩৩ সালে পোপ গ্রেগরি নবমের একটি ঘোষণার পর ইউরোপে কালো বিড়ালের বিরুদ্ধে ভীতি ও বিদ্বেষ আরও বেড়ে যায়। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার বহু সমাজে আজও বিশ্বাস করা হয়, কোনো কালো বিড়াল সামনে দিয়ে রাস্তা পার হলে যাত্রা অশুভ হতে পারে। অথচ এসব ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই; এগুলো মূলত শতাব্দীপ্রাচীন লোকবিশ্বাস ও সামাজিক কুসংস্কারের ফল।

বিজ্ঞান বলছে, বিড়ালের কালো রঙের পেছনে কাজ করে মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ এবং কিছু নির্দিষ্ট জিনগত বৈশিষ্ট্য। কালো বিড়াল অন্য যেকোনো বিড়ালের মতোই স্বাভাবিক, বুদ্ধিমান ও স্নেহপ্রবণ প্রাণী। বরং কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কালো লোমের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিন তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে কালো রঙের সঙ্গে দুর্ভাগ্য, অশুভ শক্তি বা অলৌকিক ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।

মজার বিষয় হলো, পৃথিবীর সব সংস্কৃতি কালো বিড়ালকে নেতিবাচকভাবে দেখে না। জাপানে কালো বিড়ালকে মানেকি’ বা সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখানে বিশ্বাস করা হয়, অবিবাহিত নারীর কাছে কালো বিড়াল থাকলে তা শুভফল বয়ে আনে। স্কটল্যান্ডে ঘরের দরজায় অচেনা কালো বিড়ালের আগমন সমৃদ্ধির বার্তা হিসেবে ধরা হয়। প্রাচীন ব্রিটিশ নাবিকদের মধ্যেও জাহাজে কালো বিড়াল রাখা সৌভাগ্য ও নিরাপদ সমুদ্রযাত্রার প্রতীক ছিল।

 

আবার প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় বিড়াল ছিল অত্যন্ত সম্মানিত প্রাণী; দেবী বাস্টেটের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্থাপন করা হতো এবং বিড়াল হত্যা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও কালো বিড়ালকে অশুভ বলার কোনো সুস্পষ্ট ভিত্তি নেই। ইসলামে বিড়ালকে পরিচ্ছন্ন ও স্নেহের প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয় এবং কুসংস্কারকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সনাতন ধর্মেও বিড়ালকে দেবী ষষ্ঠীর বাহন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ফলে কালো বিড়ালকে অপয়া মনে করার ধারণা মূলত লোকবিশ্বাসের অংশ, ধর্মীয় সত্য নয়।

বর্তমানে প্রাণীকল্যাণ সংস্থাগুলোর অন্যতম উদ্বেগের বিষয় হলো, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে কালো বিড়াল অন্য রঙের বিড়ালের তুলনায় কম দত্তক নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা দীর্ঘদিন আশ্রয়কেন্দ্রে থেকে যায় বা অবহেলার শিকার হয়। তাই এই দিবসে মানুষকে কালো বিড়াল দত্তক নিতে, তাদের যতœ নিতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে উৎসাহিত করা হয়।

জাতীয় কালো বিড়াল মূল্যায়ন দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—কোনো প্রাণীর মূল্য তার গায়ের রঙে নয়, তার জীবনের মর্যাদায়। কুসংস্কার নয়, বিজ্ঞান, সহমর্মিতা ও মানবিকতাই হওয়া উচিত আমাদের পথপ্রদর্শক। কালো বিড়ালও অন্য সব বিড়ালের মতোই ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখে। এই উপলব্ধিই দিবসটির সবচেয়ে বড় বার্তা।