শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পথশিশুদের ঈদ আর বেঁচে থাকার লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
পথশিশুদের ঈদ আর বেঁচে থাকার লড়াই

প্রকাশ ঘোষ বিধান

ঈদ প্রত্যেক মুসলিমের জীবনে একটি বিশেষ ধর্মীয় উৎসব, যা সারা দেশজুড়ে সকলের হৃদয়ে আনন্দ ও ঐক্যের বার্তা বয়ে আনে। ঈদ উদযাপন শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি মানবতার ন্যায়বিচার ও সহমর্মিতার প্রতীক। পথশিশুদের কাছে ঈদ যেন হতাশার না হয়, সত্যিকারের অর্থে ঈদের আনন্দ প্রকাশ পায়।

 

ঈদ আসলে সবচেয়ে বেশী আনন্দ করে শিশুরাই। পথশিশুদের ঈদ আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যখন সমাজের প্রতিটি মানুষ তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। সুবিধাাবঞ্চিত এই শিশুদের ঈদের খুশি সাধারণ শিশুদের চেয়ে একদম আলাদা এবং অনেক বেশি কষ্টের ও প্রত্যাশার। পথশিশুদের কাছে ঈদ উৎসবের চেয়েও কঠিন বাস্তবতায় বেঁচে থাকার লড়াই।

 

পথশিশুদের কাছে ঈদ মানেই কেবল নতুন পোশাক বা উন্নত খাবার নয়, বরং দৈনন্দিন বেঁচে থাকার লড়াইয়ের বাইরে একটু স্বস্তি ও আনন্দের নিঃশ্বাস। পরিবারহীন বা সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের জন্য ঈদ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তাদের পাশে দাঁড়ায় এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্যোগ নেয়।

 

সাধারণ শিশুদের মতো পথশিশুদের নতুন জামা, জুতো এবং ঈদের উপহার পাওয়ার ইচ্ছা থাকে। ঈদের দিন সাধারণ শিশুদের মতো নতুন জামা, ভালো খাবার বা সালামি তাদের ভাগ্যে জোটে না। সাধারণ শিশুদের মতো পথশিশুদের কোনো ছুটির দিন থাকে না। ঈদ এলে তাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসে না, বরং অন্যান্য দিনের মতোই বেঁচে থাকার জন্য তাদের সংগ্রাম করতে হয়। নতুন পোশাক, মিষ্টি-সেমাই বা স্বজনদের সাথে সময় কাটানো তাদের জন্য একপ্রকার স্বপ্নের মতোই। তবে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী ও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের মাঝে নতুন জামা ও খাবার বিতরণ করে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

 

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে সমাজের অনেক মানুষ ও সংগঠন নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিশুদের পছন্দ অনুযায়ী নতুন জামা কিনে দেয়। ঈদের দিন বিভিন্ন এলাকায় পথশিশুদের জন্য উন্নত খাবার যেমন; বিরিয়ানি, পোলাও বা মিষ্টির আয়োজন করা হয়। নতুন পোশাকের সাথে শিশুদের খেলনা এবং ঈদের সালামি হিসেবে ছোট অঙ্কের টাকাও দেওয়া হয়। নতুন জামা পাওয়ার আনন্দ তাদের কাছে সবচেয়ে বড় উপহার। ঈদের দিন পেটপুরে পোলাও-মাংস খাওয়া তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পরিবারের অভাব বা অনুপস্থিতি তাদের ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দেয়।

 

পথশিশুদের কাছে ঈদ কোনো উৎসব নয়, বরং এটি তাদের নিত্যদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের আরেকটি কঠিন দিন। নতুন পোশাক, মিষ্টি সেমাই বা পরিবারের সান্নিধ্যের পরিবর্তে তাদের দিন কাটে ফুটপাতে বা ডাস্টবিনে খাবার খুঁজে, ফুল বিক্রি করে বা অন্যের করুণার ওপর নির্ভর করে।

 

পথশিশু, বাড়ি নেই, ঘর নেই ; পরিবার নেই, পরিচয় হিন নিঃসঙ্গ জীবনে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই। পরিবারের অভাব-অনটন, ভাঙন বা অন্য কোনো কারণে ঘরছাড়া এসব শিশুর ঠিকানা হয় রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল বা পার্কের বেঞ্চ। কোনো নির্দিষ্ট আয়ের উৎস না থাকায় প্রতিটি মুহূর্তই তাদের জন্য টিকে থাকার যুদ্ধ। বাংলাদেশে রাস্তার পথশিশুদের সংখ্যা নিয়ে সরকারি কোনো পরিসংখ্যান নেই, আর তাদের সংখ্যা স্পষ্ট করা প্রায় অসম্ভব, যা বছরে বাড়ছে।

 

২০২৪ সালে প্রকাশিত চিলড্রেন লিভিং ইন স্ট্রিট সিচুয়েশন ইন বাংলাদেশ ২০২৪ শীর্ষক ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে দেশে ন্যূনতম ৩৪ লাখ পথশিশু আছে বলে উল্লেখ করা হয়। ইউনিসেফের জরিপে দেখা যায়, ৯১ শতাংশ পথশিশু কাজ করে। ২০ দশমিক ৯ শতাংশ পথশিশু বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করে। পথশিশুদের ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভিক্ষাবৃত্তি ও ভিক্ষায় সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া হোটেল, রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান, ধোয়ামোছা ও হকার হিসেবেও কাজ করে।

 

পথশিশুদের ঈদের আনন্দের অংশীদারহতে বিত্তবানরা কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন। আপনার সাধ্যমতো নতুন বা পরিষ্কার পুরোনো পোশাক সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে বিতরণ করতে পারেন। ঈদের দিন কিছু প্যাকেট খাবার কিনে পথশিশুদের হাতে তুলে দিতে পারেন। কোনো নির্ভরযোগ্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে আয়োজিত ঈদ আনন্দ উৎসবে আর্থিক বা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে সহায়তা করতে পারেন।

 

পথশিশুদের জন্য ঈদের আনন্দ সাধারণত অন্য দশটা শিশুর মতো সহজ বা স্বাভাবিক হয় না, তবে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করা হয়। আমাদের সামান্য সহানুভূতি এবং একটুখানি ভাগাভাগি পথশিশুর ঈদকে চিরস্মরণীয় করে তুলতে পারে। পথশিশুদের ঈদের দিনটিকে একটু রঙিন ও আনন্দময় করে তুলতে আমাদের সকলেরই এগিয়ে আসা উচিত।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

না-এ কোনও ইতিহাস নয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
না-এ কোনও ইতিহাস নয়

মারিয়া নূর
কয়েক মিলিয়ন কষ্টের বরাদ্দ নেওয়া ছিলো
আগেই, অনেক আগেই।
এখন আর বাড়তি দেনার দায় নেই ভাগ্যলিপিতে।
সুখেরা তো বরাবরই মুখচোরা
তাই আর ঘাঁটাতে চাইনি ওদের নতুন করে।

ফিরে যাওয়া বসন্তের আক্ষেপ পত্রে
অভিযোগ ছিলো – অপয়া মুখদর্শনের।
এখন দফায় দফায় হাজিরা চলে
জজকোর্ট থেকে হাইকোর্টের বারান্দায়।

সানগ্লাসটা ছোট হতে হতে
এখন মোটা ফ্রেমের চশমায় পরিনত।
চোখের নিচে বয়সের পাটিগণিত।
নামতা ভুলে গেছি সেই কবে;
উপপাদ্য বা সম্পাদ্য যাই বলো
সকল সুত্রের কারসাজিতে এখন
চোখ রাঙানি দেখি ভীষণ রকম।

যারা একসময় স্বপ্নের পরিচয়ে
চোখের সমুদ্রে খেলতো গোল্লাছুট;
বৃদ্ধ বটের নুয়ে পড়া তর্জনী আঁকড়ে
ওরাও ঝুলে থাকে অলস দুপুরে।

এখন আর দিবাকরের হৃদপি-ে কামড় দিয়ে
রোদ চুরি করে না কেউ।

না – এ কোনও ইতিহাস নয়;
রবীঠাকুরের ছোট গল্প? না তাও না।
এ হলো সেই চমকপ্রদ উপন্যাস
যার বিশেষ ক’টা পৃষ্ঠা অলক্ষেই অন্তর্ধান।

নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

বাবুল চৌধুরী
খোলা চুলে বাইরে এসো না এই ঘোর পূর্ণিমা-রাতে
সনাতন চাঁদ আকাশে সওয়ার চাঁদের জোয়ার, তাই
জোছনায় আহত হতে পারো আমিও চন্দ্রগ্রস্থ বলে
এক শ’ বছর পেছনে তাকাই অথবা তারও বেশি
সময়ের উল্টো স্রোতে, তোমার মুখে দেখি দীঘল
ফসলের মাঠ, চুলে খরতর নদী, ও শাড়ির জমিনে
জড়ানো স্থির অথবা অনেক উড়ন্ত ফিঙের ডানা,
আঁচলে আদরে আগলে রেখেছ নাকি ধান স্বর্ণালী!
আরেক মানবীর মতো তখন তুমি, যে মুখ বহু বছর
আগে দেখেছি – সে ছন্দে নাচে, উঠোনে হেসে যায়

এখনি ঢেঁকির শব্দ উঠবে, ঢেঁকিতে পড়ছে তার পা
স্বপ্নের ভেতর তার ছন্দিত পা দেখি, ধান ভাঙা হলে
এখনই দেবে সে নবান্নের ডাক, এখন চাঁদের মতো
সব থালা ভরবে নতুন খাদ্য-কণায়, নিরন্ন লোকালয়

নবান্নের সাড়া পেয়ে যায়, আকাশে চাঁদের জোয়ার –
এ নবান্নে নিমগ্ন আমি – খোলাচুলে বাইরে এসো না

সুখের দিনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
সুখের দিনে

ফাহিম শাহরিয়ার রুমি
সুখের দিনে কেন এ হৃদয়
নিভৃতে কাঁদিতে চায়?
হাসির আড়ালে কার যেন বেদনা
নীরবে ভাসিয়া যায়।

রৌদ্রঝলমল প্রভাত-আকাশে
স্বর্ণরেখা খেলে যায়,
তবু মোর চিত্তে অকারণ ছায়া
নিভৃত ব্যথা বুনে যায়।

সবাই যখন গাহে আনন্দগান,
মিলন-সুরে মাতে প্রাণ,
আমি কেন শুনি বিরহের বীণা
অশ্রুর মৃদু তান?

ফুলে ভরা এ জীবনের বাগান,
গন্ধে ভরে চারিধার,
তবু কেন যেন মলিন হইয়া
ঝরে পড়ে অন্তর-হার।

হায়, সুখের মাঝে লুকায়ে থাকে
দুঃখের অচেনা রূপ,
মানব-হৃদয় তাই চিরদিন
বিরোধে গাঁথা এক সুরূপ।