রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

পরিচ্ছন্ন বায়ু: স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
পরিচ্ছন্ন বায়ু: স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতিদিন আমরা যে অক্সিজেনযুক্ত বাতাসে শ্বাস নিই, সেটিই আমাদের জীবনের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। অথচ এই অপরিহার্য সম্পদ আজ বিশ্বের বহু অঞ্চলে নীরব সংকটের মুখোমুখি। বায়ুদূষণ শুধু পরিবেশের সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এই বাস্তবতা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে প্রতি বছর ৭ সেপ্টেম্বর পালিত হয় ‘নির্মল নীল আকাশের জন্য আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্ন বায়ু দিবস’।

২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই দিবস ঘোষণা করে এবং ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো এর আনুষ্ঠানিক উদযাপন শুরু হয়। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনেস্কো এবং ক্লাইমেট অ্যান্ড ক্লিন এয়ার কোয়ালিশন বায়ুদূষণ মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে পরিচ্ছন্ন বায়ুর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা, দূষণ কমাতে কার্যকর নীতি ও প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো এবং জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষায় সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকি। প্রতি বছর ঘরের ভেতর ও বাইরের বায়ুদূষণের কারণে আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যানসার, শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি রোগ এবং শিশুদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার সঙ্গে দূষিত বায়ুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ এমন বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে, যার দূষণের মাত্রা নিরাপদ সীমা অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং নি¤œ আয়ের জনগোষ্ঠী এই ঝুঁকির সবচেয়ে বড় শিকার।

বায়ুদূষণের প্রভাব কেবল মানুষের স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি কৃষি উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়, বন ও জলজ বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। দূষণজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয়, কর্মঘণ্টা হ্রাস এবং উৎপাদনশীলতার ক্ষতি একটি দেশের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে পরিচ্ছন্ন বায়ু নিশ্চিত করা শুধু পরিবেশগত নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।

বায়ুদূষণের উৎস বহুমাত্রিক। নগরায়ণ ও শিল্পায়নের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইটভাটা, নির্মাণকাজ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। খোলা স্থানে বর্জ্য ও প্লাস্টিক পোড়ানো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অন্যদিকে দাবানল, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এবং ধূলিঝড়ের মতো কিছু প্রাকৃতিক কারণও বায়ুম-লে দূষক কণা ছড়িয়ে দেয়। তবে বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রধান উৎস মানবসৃষ্ট কার্যক্রমই।

বিজ্ঞান দেখিয়েছে যে বায়ুদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে একদিকে যেমন ক্ষতিকর বায়ুদূষক সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে তেমনি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে ত্বরান্বিত করে। ফলে বায়ুদূষণ কমানোর উদ্যোগ একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এই কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘পরিচ্ছন্ন বায়ু’ এবং ‘জলবায়ু কর্মসূচি’কে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে দেখার প্রবণতা বাড়ছে।

২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্ন বায়ু দিবস এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিকেই নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। এ বছরের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে পরিচ্ছন্ন বায়ু ও জলবায়ু কর্মসূচির অর্থনৈতিক সুবিধা। ইউএনইপি এবং সিসিএসি-এর গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ শুধু পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে বিপুল অর্থনৈতিক সাশ্রয়ও নিশ্চিত করে। গবেষণায় বিভিন্ন নীতি ও উদ্যোগের ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে যে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এবং কার্যকর বায়ু ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতের জন্য লাভজনক বিনিয়োগ।

প্রকৃতির নিজস্ব ব্যবস্থাও বায়ুর গুণগত মান উন্নত করতে সহায়তা করে। বৃষ্টিপাতের পর বাতাস সাধারণত অনেক বেশি সতেজ ও নির্মল অনুভূত হয়। বৈজ্ঞানিকভাবে এই প্রক্রিয়াকে ‘ওয়েট ডিপোজিশন’ বলা হয়। বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা, ধোঁয়া এবং ক্ষতিকর কণাগুলো মাটিতে নেমে আসে। ফলে বায়ুর মান সাময়িকভাবে উন্নত হয়। বৃষ্টির পরে যে সোঁদা গন্ধ অনুভূত হয়, সেটি ‘পেট্রিচোর’ নামে পরিচিত, যা মাটির জীবাণু এবং উদ্ভিদের নির্গত রাসায়নিক উপাদানের কারণে সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পরিচ্ছন্ন বায়ু নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত নগরায়ণ, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পকারখানার বিস্তার এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বায়ুদূষণকে জটিল করে তুলছে। তবে একই সঙ্গে এটি একটি সুযোগও তৈরি করেছেÑসবুজ প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, গণপরিবহন উন্নয়ন, নগর পরিকল্পনা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পনীতির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের পথকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ।

পরিচ্ছন্ন বায়ু কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের মৌলিক অধিকার এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম শর্ত। নির্মল আকাশ, সুস্থ জীবন এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে ব্যক্তি, সমাজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং রাষ্ট্রÑসবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কারণ বায়ুদূষণ কোনো সীমানা মানে না; এর প্রভাব সবার ওপরই পড়ে। তাই পরিচ্ছন্ন বায়ু নিশ্চিত করার সংগ্রামও হতে হবে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ।

নির্মল নীল আকাশের জন্য আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্ন বায়ু দিবস আমাদের সেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তাই স্মরণ করিয়ে দেয়Ñপরিবেশ, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সুরক্ষায় পরিচ্ছন্ন বায়ুতে বিনিয়োগ করা আজ আর কোনো বিকল্প নয়, বরং একটি অপরিহার্য বৈশ্বিক দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ মানবজাতির অস্তিত্ব।

 

Ads small one

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বিএনপির ৩১সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বিএনপির ৩১সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আশেক এলাহী মুন্নার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত কমিটিতে গাজী আবিদ হাসানকে আহ্বায়ক এবং জি এম রুস্তম আলীকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নতুন কমিটির নেতাদের আগামী দিনে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলীয় কার্যক্রম জোরদার, নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং দলের সাংগঠনিক কর্মকা- আরও বেগবান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। নবগঠিত কমিটির নেতারা দলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
৩১ সদস্যের অনুমোদিত কমিটিতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব ছাড়াও বিভিন্ন পদে ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির পূর্ণাঙ্গ সদস্যদের নামসহ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলায় বাড়ছে মাদক ও অনলাইন জুয়ার আসক্তি, সামাজিক অপরাধ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
জেলায় বাড়ছে মাদক ও অনলাইন জুয়ার আসক্তি, সামাজিক অপরাধ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা

জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরার শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে গ্রামপর্যায়ে যুবসমাজসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ মাদক ও অনলাইন জুয়ার আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাবে জেলায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি গভীর উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকেরা। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, মাদক ও জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই অপরাধমূলক কর্মকা-ে যুক্ত হচ্ছে। এতে রাতে চুরির আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপ নগর গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোনাওয়ার হুসাইন জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে কিশোর ও যুবকেরা সহজেই জুয়ার ফাঁদে পা দিচ্ছে। দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনাকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে এবং কীভাবে সময় কাটাচ্ছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান এবং ইসলামি সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শেখ আবদুল ওয়াদুদ বলেন, তরুণদের মেধা ও শক্তিকে শিক্ষা, খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকা-ে কাজে লাগাতে হবে। বর্তমানে সব বয়সের মানুষের মধ্যে মাদক ও জুয়ার আসক্তি দেখা যাচ্ছে, যা সামাজিক অপরাধ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি এলাকায় শিক্ষক, পুলিশ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। মাদক কেনাবেচা বন্ধ করতে পারলে অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে।

শ্যামনগর হাসপাতালে ৩৬ দিনে ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর হাসপাতালে ৩৬ দিনে ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিগত ৩৬ দিনে ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসে ১২ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত ৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া জুলাই মাসে ১ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। তাঁরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে হাসপাতালে অনেকেই চিকিৎসাধীন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জিয়াউর রহমান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ শয্যার একটি ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। তবে শয্যাসংখ্যা কম হওয়ায় রোগীদের সাধারণ শয্যা ও কক্ষে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে এবং তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বসতবাড়ির আশপাশে যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা এবং চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেন তিনি।