রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

রবীন্দ্রনাথ-নজরুল: সম্প্রীতির উত্তরাধিকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ
রবীন্দ্রনাথ-নজরুল: সম্প্রীতির উত্তরাধিকার

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

‘হিন্দু না ওরা মুসলিম?’-প্রশ্নটি করেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তু তাঁর প্রশ্নের উত্তরও তিনি নিজেই দিয়েছিলেন-‘কা-ারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মা’র!’ প্রায় এক শতাব্দী আগে উচ্চারিত এই পঙ্ক্তি আজও আমাদের সামনে একটি মৌলিক সত্য তুলে ধরেÑমানুষের পরিচয় কোনো সংকীর্ণ ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের দুই মহীরুহ। তাঁদের সাহিত্যিক স্বর আলাদা, জীবনদর্শনের প্রকাশভঙ্গি আলাদা, সময়ের অভিজ্ঞতাও আলাদা। কিন্তু তাঁদের মানবিক বোধের একটি জায়গায় গভীর মিলÑমানুষকে ছোট করে এমন কোনো বিভাজন তাঁরা মেনে নেননি।

নজরুলের সাহিত্য পড়লে বোঝা যায়, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও সাহসী। তিনি লিখেছেনÑ‘মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম/ হিন্দু-মুসলমান।’ এটি নিছক সম্প্রীতির কবিতা নয়; এটি ছিল বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ।

‘হিন্দু-মুসলমান’, ‘মন্দির ও মসজিদ’, ‘রুদ্র-মঙ্গল’-এর মতো লেখায় নজরুল ধর্মের নামে বিদ্বেষ, হিংসা ও বিভাজনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাঁর কাছে ধর্ম মানুষের আত্মপরিচয়ের অংশ হতে পারে, কিন্তু মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর অস্ত্র হতে পারে না।

এই জায়গাতেই নজরুলের কবিতার শক্তি আজও প্রাসঙ্গিক। যখন ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করা হয়, তখন নজরুল আমাদের মনে করিয়ে দেন-প্রথম পরিচয় মানুষ।

রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যজুড়ে মানুষের মুক্তি, মর্যাদা, আত্মপরিচয় ও বিশ্বমানবতার কথা রয়েছে। তাঁর ‘ধর্ম’ মানুষের অন্তর্গত সত্যের অনুসন্ধান; তাঁর চিন্তায় সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সতর্কতা ছিল প্রবল। তাঁর সাহিত্য বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের সীমা অতিক্রম করে মানুষই হয়ে উঠেছে প্রধান বিষয়। তাই রবীন্দ্রনাথকে এক সম্প্রদায়ের কবি এবং নজরুলকে আরেক সম্প্রদায়ের কবি বানানো-দুজনকেই ছোট করে দেখা।

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের মধ্যে সাহিত্যিক পার্থক্য ছিল। বয়সের ব্যবধান ছিল প্রায় চার দশক। সাহিত্যিক প্রজন্মও ছিল আলাদা। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের কবিতার ভাষা ও প্রকাশভঙ্গিতে পার্থক্য থাকবে। কিন্তু পার্থক্যকে শত্রুতায় রূপ দেওয়ার কোনো কারণ নেই।

বরং তাঁদের সম্পর্কের নানা ঘটনাই পারস্পরিক শ্রদ্ধার ইঙ্গিত দেয়। নজরুলের ধূমকেতু প্রকাশের সময় রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাদ, নজরুলের অনশনের সময়ে তাঁর উদ্বেগ এবং পরে বসন্ত গীতিনাট্য নজরুলকে উৎসর্গÑএসব ঘটনা তাঁদের সম্পর্ককে নতুন করে ভাবার সুযোগ দেয়।

রবীন্দ্রনাথ বসন্ত উৎসর্গ করেছিলেনÑ‘শ্রীমান কবি নজরুল ইসলাম স্নেহভাজনেষু’ লিখে। একজন অগ্রজ কবি যদি একজন নবীন কবির প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেন, তাঁকে নিজের সৃষ্টিকর্ম উৎসর্গ করেন, তাঁর জীবন ও সাহিত্যচর্চা নিয়ে উদ্বিগ্ন হনÑতাহলে তাঁদের সম্পর্ককে নিছক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্পে পরিণত করার যুক্তি কোথায়?

নজরুল ছিলেন প্রবল আত্মবিশ্বাসী, বিদ্রোহী এবং স্বতন্ত্র কণ্ঠের কবি। তিনি রবীন্দ্রনাথের অনুকরণ করতে আসেননি। তাঁর কবিতায় বিদ্রোহ, সাম্য, প্রেম, মানবতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির নিজস্ব ভাষা তৈরি হয়েছিল। নজরুল রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য পড়েছেন, তাঁর গান জানতেন এবং তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন। তাঁকে ‘গুরুদেব’ বলে সম্বোধনের ঘটনাও তাঁর শ্রদ্ধাবোধের পরিচয় বহন করে।
অতএব, দুজনের সাহিত্যিক স্বাতন্ত্র্যকে স্বীকার করা যেমন জরুরি, তেমনি তাঁদের মধ্যে কৃত্রিম শত্রুতার গল্প তৈরি না করাও জরুরি।

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো-অনেকেই মূল সাহিত্য বা ইতিহাসের দলিল পড়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে মত তৈরি করেন। একটি ছবি, কয়েকটি উদ্ধৃতি কিংবা একটি উত্তেজক ভিডিও দেখে তৈরি হয়ে যায় ইতিহাসের নতুন সংস্করণ।
রবীন্দ্রনাথ আমাদের দিয়েছেন মানবমুক্তির বিস্তৃত দৃষ্টি। নজরুল দিয়েছেন বিদ্রোহ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার দুর্দমনীয় কণ্ঠ। একজনের ভাষা কখনো শান্ত ও গভীর, অন্যজনের ভাষা কখনো বজ্রের মতো তীব্র। কিন্তু দুজনের সৃষ্টির কেন্দ্রে মানুষ।

কে বড়Ñরবীন্দ্রনাথ না নজরুল? এই প্রশ্নেরও কোনো প্রয়োজন নেই। বাংলা সাহিত্য তাঁদের দুজনকেই ধারণ করেছে। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনকে বোঝা যেমন কঠিন, তেমনি তাঁদের একজনকে ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ ঘরে বন্দি করাও অন্যায়।

আজকের সমাজে তাঁদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এখানেই। বিভাজনের সময়ে রবীন্দ্রনাথ আমাদের মিলনের ভাষা দেন; অন্যায়ের সময়ে নজরুল আমাদের প্রতিবাদের ভাষা দেন। সাম্প্রদায়িকতার অন্ধকারে দুজনেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেন।

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে নিয়ে আমাদের নতুন করে কোনো বিরোধ তৈরি করার প্রয়োজন নেই। বরং তাঁদের সাহিত্য থেকে এমন একটি বাংলাদেশ নির্মাণের শিক্ষা নিতে হবে, যেখানে ধর্ম যার যার, কিন্তু মানবিক মর্যাদা সবার।

রবীন্দ্রনাথ শুধু হিন্দুর নন, নজরুল শুধু মুসলমানের নন। তাঁরা কোনো ধর্মীয় শিবিরের সম্পত্তিও নন। তাঁরা বাংলা ভাষা, বাঙালির সংস্কৃতি এবং সর্বোপরি মানবতার সম্পদ।

আজ যখন নানা পরিচয় মানুষকে আলাদা করে দিতে চায়, তখন নজরুলের সেই আহ্বান আবার মনে রাখা দরকারÑ‘ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মা’র।’

এই মানুষকে বাঁচানোই যদি লক্ষ্য হয়, তবে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে মুখোমুখি দাঁড় করানো নয়; পাশাপাশি বসিয়ে পড়ার সময় এখনই।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বিএনপির ৩১সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বিএনপির ৩১সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আশেক এলাহী মুন্নার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত কমিটিতে গাজী আবিদ হাসানকে আহ্বায়ক এবং জি এম রুস্তম আলীকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নতুন কমিটির নেতাদের আগামী দিনে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলীয় কার্যক্রম জোরদার, নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং দলের সাংগঠনিক কর্মকা- আরও বেগবান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। নবগঠিত কমিটির নেতারা দলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
৩১ সদস্যের অনুমোদিত কমিটিতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব ছাড়াও বিভিন্ন পদে ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির পূর্ণাঙ্গ সদস্যদের নামসহ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলায় বাড়ছে মাদক ও অনলাইন জুয়ার আসক্তি, সামাজিক অপরাধ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
জেলায় বাড়ছে মাদক ও অনলাইন জুয়ার আসক্তি, সামাজিক অপরাধ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা

জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরার শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে গ্রামপর্যায়ে যুবসমাজসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ মাদক ও অনলাইন জুয়ার আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাবে জেলায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি গভীর উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকেরা। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, মাদক ও জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই অপরাধমূলক কর্মকা-ে যুক্ত হচ্ছে। এতে রাতে চুরির আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপ নগর গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোনাওয়ার হুসাইন জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে কিশোর ও যুবকেরা সহজেই জুয়ার ফাঁদে পা দিচ্ছে। দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনাকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে এবং কীভাবে সময় কাটাচ্ছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান এবং ইসলামি সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শেখ আবদুল ওয়াদুদ বলেন, তরুণদের মেধা ও শক্তিকে শিক্ষা, খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকা-ে কাজে লাগাতে হবে। বর্তমানে সব বয়সের মানুষের মধ্যে মাদক ও জুয়ার আসক্তি দেখা যাচ্ছে, যা সামাজিক অপরাধ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি এলাকায় শিক্ষক, পুলিশ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। মাদক কেনাবেচা বন্ধ করতে পারলে অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে।

শ্যামনগর হাসপাতালে ৩৬ দিনে ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর হাসপাতালে ৩৬ দিনে ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিগত ৩৬ দিনে ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসে ১২ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত ৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া জুলাই মাসে ১ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। তাঁরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে হাসপাতালে অনেকেই চিকিৎসাধীন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জিয়াউর রহমান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ শয্যার একটি ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। তবে শয্যাসংখ্যা কম হওয়ায় রোগীদের সাধারণ শয্যা ও কক্ষে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে এবং তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বসতবাড়ির আশপাশে যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা এবং চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেন তিনি।