কাজ শেষ না হতেই খালে নেট-পাটা, রেকর্ডীয় জমিতে মাটি ফেলে ভরাট
বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে সরকারি খাল খনন প্রকল্পে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই খালে নেট-পাটা (বাঁশের বেড়া ও জাল) দিয়ে মাছ চাষের পাঁয়তারা চলছে। অন্যদিকে, খাস জমি ছেড়ে সাধারণ মানুষের ভোগদখলীয় ও রেকর্ডীয় জমিতে জোরপূর্বক মাটি ফেলে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নষ্ট করা হচ্ছে। রহস্যজনক কারণে এই খননকাজের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা গভীরতা কতÑতা জানেন না খোদ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়দল ইউনিয়নের জেল পাতুয়া বৈরাগী বাড়ির পাশ থেকে গোয়ালডাঙ্গার ইউপি সদস্য ভুট্টোর ঘের পর্যন্ত ‘সাতপোয়া খাল’ খননের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। অথচ কাজ সমাপ্ত হওয়ার আগেই প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় বৈরাগী বাড়ি সংলগ্ন খালে আড়াআড়িভাবে নেট-পাটা দিয়েছেন দিলীপ সানা নামের এক ব্যক্তি। এর ফলে খালের স্বাভাবিক গতিপথ ও পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খননকৃত খালের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী খালের কোনো সংযোগ দেওয়া হয়নি, যা মূলত নির্বিঘেœ মাছ চাষের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
একই চিত্র দেখা গেছে ইউনিয়নের ‘পাঙ্গাসমারি খালে’। জেল পাতুয়া পাঙ্গাসমারি খালে খাস জমি চিহ্নিত না করে এবং খাস খালের ওপর থাকা বসতবাড়ি উচ্ছেদ না করে যেনতেনভাবে খননকাজ চালানো হচ্ছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার সত্য রঞ্জন বৈরাগীর নিকটাত্মীয় রঞ্জন মন্ডলসহ (পিতা: জগদীশ মন্ডল) বেশ কয়েকজন খাস খাল দখলে থাকলেও তা উচ্ছেদ করা হয়নি। উল্টো নিয়ম অনুযায়ী খালের মাটি সরকারি খাস জমিতে ফেলার কথা থাকলেও, প্রভাবশালীদের সুবিধা দিতে সাধারণ মানুষের রেকর্ডীয় জমির ওপর ইচ্ছেমতো মাটির স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে এবং অনেকেই ঘরবাড়ি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই খননকাজ চালানো হচ্ছে। সরকারি এই প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি খালের দৈর্ঘ্য কতটুকু, কতখানি চওড়া কিংবা কতটা গভীর করে খনন করার কথা—তার ন্যূনতম তথ্যও জানানো হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তা সম্পূর্ণ গোপনে, নিজেদের খেয়ালখুশিমতো দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সত্য রঞ্জন বৈরাগী বলেন, “আমাদের এই খননকাজের কোনো সিডিউল বা নকশা দেখানো হয়নি। কতটুকু গভীর বা চওড়া হবে, তা বারবার জানতে চেয়েও কোনো সদুত্তর পাইনি। সাধারণ মানুষের রেকর্ডীয় জমিতে মাটি ফেলে তাঁদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আফজাল সানা বলেন, সরকারি বরাদ্দের টাকা লোপাট এবং সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল করে মাটি ফেলার এই হরিলুট কোনোভাবেই কাম্য নয়। খালের নেট-পাটা উচ্ছেদ করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে এবং এই অনিয়ম বন্ধে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের জরুরি ও আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।