শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

বাঘ, সাপ ও বনদস্যুর ভয় মাথায় নিয়েই সুন্দরবনে জীবিকার সন্ধানে উপকূলের মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
বাঘ, সাপ ও বনদস্যুর ভয় মাথায় নিয়েই সুন্দরবনে জীবিকার সন্ধানে উপকূলের মানুষ

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনে যেতে হয় উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের। বাঘের আক্রমণ, বিষধর সাপের দংশন, বনদস্যুদের অপহরণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয় মাথায় নিয়েই তারা নদী-খাল আর গভীর বনের ভেতর সংগ্রাম করে চলেছেন পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার আশায়।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কয়রা উপজেলার উপকূলীয় এলাকার অনেক পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস সুন্দরবন। মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, গোলপাতা কাটা, মধু সংগ্রহের জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে বন বিভাগ থেকে পাশ নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন তারা। তবে প্রতিটি যাত্রাই যেন অনিশ্চিত এক জীবনযুদ্ধ।

স্থানীয় জেলে ও মৌয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ভোরে নৌকাযোগে তারা বনের গভীরে প্রবেশ করেন। সেখানে দিনের পর দিন থাকতে হয় খালে ও জঙ্গলের ভেতরে। কখন কোথা থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণ আসবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবার নদীর চরে কিংবা গাছের নিচে লুকিয়ে থাকা বিষধর সাপের কামড়ের ঘটনাও প্রায় ঘটে।

শ্যামনগরের গাবুরা এলাকার জেলে আমজাদ শেখ জানান, “আমরা জানি বনে গেলে জীবিত ফিরে না-ও আসতে পারি। তারপরও সংসারের জন্য যেতে হয়। মাছ না ধরলে ঘরে খাবার জোটে না।”

অন্যদিকে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্যও এখন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় জেলে ও মৌয়ালদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কেউ কেউ মারধর ও নির্যাতনের শিকারও হন। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটান বনজীবীরা।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সুন্দরবন নির্ভর মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বনদস্যু দমনে নিয়মিত অভিযান, বনজীবীদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান, সহজ শর্তে ঋণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

এদিকে বনজীবীদের দাবি, সুন্দরবনে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তা বাড়ানো জরুরি। তারা বলেন, “আমরা দেশের সম্পদ রক্ষা করি, অথচ আমাদের জীবনই সবচেয়ে অনিরাপদ।”

প্রতিদিনের ভয় আর অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করেই সুন্দরবনের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন উপকূলের হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল পরিবার। সুন্দরবনে বনজীবিদের নিরাপত্তার বিষয়ে বন কর্মকর্তারদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, বনের ভিতরে আমাদের সদস্যরা সব সময় সুন্দরবনের বৈধ স্থানে জেলে বাওয়ালিদের নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।বন কর্মকর্তা আরো বলেন, কিছু অসাধু জেলে বাওয়ালি নিষিদ্ধ স্থানে ঢুকে মাছ, কাঁকড়া ধরতে যেয়ে বিপদগামী হয়ে থাকে।

 

 

Ads small one

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে যা জানালো আইভ্যাক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ণ
ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে যা জানালো আইভ্যাক

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)। ভিসা আবেদনের জন্য কিছু নির্দেশনা দিয়েছে তারা।

আইভ্যাক বলছে, সব আবেদনকারীকে অবহিত করা হচ্ছে যে, ঢাকার হাইকমিশন এবং চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় সহকারী হাই কমিশনের মাধ্যমে ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে রবিবার (২৮ জুন) থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হবে।

সোমবারের (২৯ জুন) ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লটগুলি রবিবার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলির (আইভিএসি) অফিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

ভিসার জন্য সাইন-আপ এবং ওয়েবফাইল আপলোডের সুযোগ দেওয়া হবে দুপুর ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং শুধু বিকাল ৫টায় খোলা হবে। শুধু যারা তাদের ওয়েবফাইলগুলো সফলভাবে আপলোড করেছেন তাদের জন্য স্লট খোলা থাকবে।

‘সামথিং বিগ’ নিয়ে আসছেন জাজের ‘ডানাকাটা’ পরী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
‘সামথিং বিগ’ নিয়ে আসছেন জাজের ‘ডানাকাটা’ পরী

ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমণি আবারও নতুন প্রজেক্টের ইঙ্গিত দিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে তার সম্ভাব্য নতুন কাজ ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। দীর্ঘ বিরতির পর এই খবর ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

পরীমণি ২০১৫ সালে বড়পর্দায় অভিষেক করেন। এরপর ২০১৬ সালে জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় নির্মিত ‘রক্ত’ চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে। অ্যাকশন-রোম্যান্টিক ঘরানার এই ছবিতে তার গ্ল্যামার ও পর্দার উপস্থাপনা তাকে ‘ডানাকাটা পরী’ ইমেজ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

এই ছবিরই সেই সাড়া জাগানো আইটেম গান— “স্ট্যাটাস আমার সিঙ্গেল দেখে, লাগায় হুড়োহুড়ি, হায়রে কি যে করি, আমি ডানা কাটা পরী”— দুই বাংলায় দেখিয়েছিল গ্ল্যামারের ঝলক। জাজ মাল্টিমিডিয়ার সাথে পরীমনির সে একটি চলচ্চিত্রের পর এবার ফের নতুন সম্ভাবনার ডাক এসেছে।

এরপর ধীরে ধীরে পরীমনির ক্যারিয়ারে আসে একাধিক উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। ২০১৮ সালে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর তিনি অভিনয় করেন ‘বিশ্বসুন্দরী’ (২০২০), ‘গুণিন’ (২০২১), ‘স্ফুলিঙ্গ’ (২০২১) এবং ‘মুখোশ’ (২০২২) চলচ্চিত্রে।

সবশেষে বড়পর্দায় তাকে দেখা যায় ‘অপারেশন সুন্দরবন’-এ, যার পর থেকে তিনি কিছুটা বিরতিতে থাকেন। ব্যক্তিগত জীবন, মাতৃত্ব এবং নানা চ্যালেঞ্জের কারণে চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি কমে যায়।

সম্প্রতি ‘বিশ্ব পরী দিবস’ উপলক্ষে জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজক আব্দুল আজিজ পরীমনির বাসায় যান। সেখানে পরীমনির সন্তান রাজ্যের সঙ্গে কেক কাটার মুহূর্তও দেখা যায়। পরীমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন— “সেলিব্রেটিং সামথিং বিগ! কামিং সুন!! জাজ মাল্টিমিডিয়া এক্স পরীমনি এগেইন”।

তবে নতুন এই প্রজেক্ট নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি নন জাজের প্রযোজক আব্দুল আজিজ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ বিষয়ে এখনই আমরা কিছু বলতে চাই না। অফিসিয়ালি ঘটা করে জানাবো।”

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জাজের সঙ্গে নতুন কাজের ইঙ্গিত পাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে— দর্শক যে ‘ডানাকাটা পরী’কে একসময় বড়পর্দায় দেখেছিল, তিনি কি আবারও স্বরূপে ফিরতে পারবেন?

পরীমণিও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এ বিষয়ে এখনই মুখ খুলছেন না তিনিও। তবে, ‘সামথিং বিগ’ কিছু যে আসছে, তার ইঙ্গিত তো তিনি দিয়েছেনই।

ভক্তদের প্রত্যাশা, নতুন এই প্রজেক্টের মাধ্যমে পরীমনি আবারও শক্তিশালী উপস্থিতি নিয়ে বড়পর্দায় ফিরবেন।

৩ বছর পর খুললো গাজার চোখের ক্লিনিক, তবু কাটছে না সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
৩ বছর পর খুললো গাজার চোখের ক্লিনিক, তবু কাটছে না সংকট

প্রায় তিন বছর পর আবার চালু হয়েছে গাজার একমাত্র কৃত্রিম চোখের ক্লিনিক। ক্লিনিকটি পুনরায় চালু হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য নিবন্ধন করেছেন শত শত মানুষ। তবে প্রয়োজনীয় কৃত্রিম চোখের সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক ইব্রাহিম আল-খালিলি জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় মাত্র ১৪০টি কৃত্রিম চোখ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অথচ ক্লিনিকটি পুনরায় চালু হওয়ার প্রথম দুই সপ্তাহেই চিকিৎসার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৮৫০ জনের বেশি রোগী।

কৃত্রিম চোখ বিশেষজ্ঞ সাবরি হাজাজ বলেন, যেসব কৃত্রিম চোখ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর কিছু রোগীদের প্রয়োজনীয় আকারের সঙ্গে মিলছে না। অনেক ক্ষেত্রে রঙও উপযুক্ত নয়।

ইবোলা শঙ্কায় বদলে গেল ভারতে প্রবেশের নিয়মইবোলা শঙ্কায় বদলে গেল ভারতে প্রবেশের নিয়ম
তিনি আরও জানান, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে চোখের গহ্বরের অবস্থান সামান্য ভিন্ন হওয়ায় কৃত্রিম চোখ ঠিকভাবে বসানো সম্ভব হচ্ছে না। আবার অস্ত্রোপচারের পর জটিলতার কারণে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কৃত্রিম চোখ লাগানোই সম্ভব হচ্ছে না।