বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ: সুন্দরবনের কোলঘেঁষে ‘কমিউনিটি ট্যুরিজম’: স্বাবলম্বী হচ্ছেন উপকূলবাসী
নিজস্ব প্রতিনিধি: সরাসরি সড়কপথে সুন্দরবনের কাছাকাছি পৌঁছানোর সুবিধা তৈরি হওয়ায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘কমিউনিটি ট্যুরিজম’। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় মানুষ এখন নিজেদের বাড়িতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা (হোম-স্টে) করে বিকল্প আয়ের মুখ দেখছেন।
শ্যামনগরের দাতিনীখালী ও বুড়িগোয়ালিনী গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, বড় বাণিজ্যিক হোটেলের বদলে দর্শনার্থীরা স্থানীয় বনজীবীদের মাটির ও গোলপাতার ঘরে থাকছেন। এর মাধ্যমে পর্যটকেরা গ্রামীণ জীবনযাত্রা, লোকজ সংস্কৃতি এবং খাঁটি দেশি খাবারের অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন।
সাতক্ষীরা বনজীবী বাড়ির তরুণ উদ্যোক্তা শামীম হোসেন বলেন, নতুন সড়ক যোগাযোগের কারণে দর্শনার্থীরা সরাসরি গ্রামে অবস্থান করছেন। ঘরের পরিবেশের পাশাপাশি তাঁদের জন্য পারমিট সংগ্রহ, গাইড ও ট্রলারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
একই এলাকায় নদীবাঁধের ওপর বাস করা আদিবাসী মু-া সম্প্রদায়ও এই পর্যটনকে কেন্দ্র করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ‘সুন্দরবন আদিবাসী মু-া সংস্থা’র মাধ্যমে তৈরি করা ইকো-হোমস্টেতে অতিথিদের সামনে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া গান ও নাচ পরিবেশন করছেন তারা। সংগঠনের সদস্য অনন্দিনী মুন্ডা জানান, এই উদ্যোগের ফলে একদিকে তাদের নতুন প্রজন্ম নিজেদের হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা দূর হচ্ছে।
সংগঠনটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র মু-া বলেন, নোনা পানির কারণে প্রথাগত কৃষিকাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তারা সংস্কৃতির চর্চাকে কেন্দ্র করে এই বিকল্প জীবিকা বেছে নিয়েছেন। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক তানভীর আহমেদও জানান, ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ পরিবেশে থাকার অনুভূতি আধুনিক হোটেলের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
তবে স্থানীয় পরিকাঠামোর অভাবের বিষয়টি তুলে ধরে স্থায়ী বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, মধু, শুঁটকি কিংবা হস্তশিল্প বিক্রির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘ট্যুরিজম মার্কেট’ বা পর্যটন বাজার গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বনবিভাগও এই সামাজিক মডেলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) এরফান উদ্দীন বলেন, স্থানীয় মানুষ পর্যটন থেকে সরাসরি আয় করতে পারায় বনের ওপর নির্ভরতা কমছে। ফলে তারা নিজেরাই এখন সুন্দরবন সুরক্ষায় পাহারাদারের ভূমিকা পালন করছেন।









