বেতগ্রাম-কয়রা সড়ক উন্নয়ন: ৫৩৫ কোটি টাকার প্রকল্পে আশার আলো
এম.এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বেতগ্রাম থেকে তালা-পাইকগাছা হয়ে কয়রা পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণ কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ৫৩৫ কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। দরপত্রের মাধ্যমে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোজাহার এন্টারপ্রাইজ’-এর ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও চার দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়।
প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আঠারো মাইল (বেতগ্রাম) থেকে তালা উপজেলার মধ্যবর্তী অংশ এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বিলম্ব হওয়ার পর গত জুনে পাইকগাছার কপিলমুনি বাজার অংশে বাঁক সরলীকরণের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে কপিলমুনি ফকিরবাসা ও পাইকগাছা গোলাবাটি মোড়ের বাঁক সরলীকরণে পিচঢালাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে।
পথচারী মনিরুজ্জামান মনির ভাষ্যমতে, দেরিতে হলেও কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে রয়েছে। বর্ষায় বড় বড় গর্ত আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির যে যন্ত্রণা ছিল, তা অবসান হতে চলেছে।
সওজের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পে ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সোজা করতে ১১.২৪ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ৭১ কোটি ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। তবে কপিলমুনি, গোলাবাটি, গোপালপুরসহ ১০টি পয়েন্টে জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগীদের চেকের অর্থ হস্তান্তরের পর বর্তমানে কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
পাইকগাছা নাগরিক কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর এবং সুজন কয়রা শাখার সভাপতি মোস্তফা শফিকুল ইসলাম জানান, এই সড়কটি যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় উন্নয়নকাজে স্থানীয়রা সার্বিক সহায়তা দিয়েছেন।
মোজাহার এন্টারপ্রাইজের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাজন আহমেদ ও সওজের খুলনা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক জানান, চলতি মাসের মধ্যেই অবশিষ্ট সব কাজ শেষ করে সড়কটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।












