বেনাপোল বন্দরে ৪ মাস আগে ‘নিখোঁজ’ হওয়া ১৯ প্যাকেজ পণ্য উদ্ধার
Oplus_131072
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল বন্দর থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া উচ্চমূল্যের ১৯ প্যাকেজ ভারতীয় প্রসাধনী ও পোশাক উদ্ধার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সোমবার বিকেলে বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ৩৭ নম্বর শেডের ভেতরে থাকা পুরোনো নিলামের মাপা পণ্যের আড়াল থেকে এই পণ্যগুলো উদ্ধার করা হয়।
বন্দর ও কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ১২ মার্চ মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে একটি পণ্যচালান আমদানি করে যশোরের ‘সাফা ইমপেক্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। নথিতে পণ্য হিসেবে ‘বেকিং পাউডার’ ঘোষণা করা হলেও কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় ১০৮টি প্যাকেজে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, ফেসওয়াশ ও ক্রিমসহ বিভিন্ন দামি প্রসাধনী জব্দ করা হয়। জব্দকৃত চালানের মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা, যার মাধ্যমে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকারও বেশি রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে পণ্যগুলো বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডের জিম্মায় রাখা হয়।
গত ২ জুন কাস্টমস কর্মকর্তারা পুনরায় পণ্যের তালিকা যাচাই (ইনভেন্টরি) করতে গিয়ে দেখেন, জিম্মায় থাকা ১০৮ প্যাকেজের মধ্যে মূল্যবান ১৯টি প্যাকেজ গায়েব হয়ে গেছে। এই ঘটনায় থানায় একটি প্রতারণার মামলা হয়। সোমবার অন্য একটি পণ্যচালানের ইনভেন্টরি করার সময় কাস্টমস কর্মকর্তারা ভাগ্যক্রমে পুরোনো নিলামের মালামালের নিচে লুকিয়ে রাখা সেই প্যাকেজগুলোর সন্ধান পান। ধারণা করা হচ্ছে, ঈদুল আজহার ছুটির আগে পণ্যগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলো আগের জব্দ করা চালানেরই অংশ। এই ঘটনার পেছনে বন্দরের কারো কোনো অনিয়ম বা সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার তৌফিকুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলো পুনরায় গণনা ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






