মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

নুনগোলায় রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
নুনগোলায় রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ লুট

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের নুনগোলা গ্রামে রাতের আঁধারে একটি পুকুরে বিষাক্ত ওষুধ দিয়ে সব মাছ ধরে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। লিজ নেওয়া পুকুরে এই বর্বরোচিত চুরির ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও মৎস্য চাষি মো. কুরমান আলী।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুনগোলা গ্রামের গোপাল সাধুর মালিকানাধীন একটি বড় পুকুর লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছিলেন বর্তমান ইউপি সদস্য মো. কুরমান আলী। প্রতিদিনের মতো রোববার রাতেও পুকুরটি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। কিন্তু রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা পুকুরের পানিতে বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করে। এতে পুকুরের সব মাছ নিমিষেই মারা যায় এবং ভেসে ওঠে। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা অধিকাংশ মাছ ধরে নিয়ে পালিয়ে যায়।
সোমবার ভোরে স্থানীয় এক ব্যক্তি পুকুরপাড় দিয়ে যাওয়ার সময় মাছ ভেসে উঠতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে লিজগ্রহীতা কুরমান আলীকে খবর দেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বিষ প্রয়োগের ফলে পুকুরের ছোট-বড় সব ধরনের মাছ মারা গেছে। এতে তাঁর লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পূর্বশত্রুতার জেরে নাকি কেবলই মাছ চুরির উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইউপি সদস্য মো. কুরমান আলী। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মৎস্য চাষিদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Ads small one

বৃষ্টিতে পারখাজুরা-নলতা ঘাট সড়ক ধস, বাইপাস নির্মাণের উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
বৃষ্টিতে পারখাজুরা-নলতা ঘাট সড়ক ধস, বাইপাস নির্মাণের উদ্যোগ

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা বাজার থেকে নলতা ঘাট অভিমুখী পাকা সড়কের প্রায় ৩০ ফুট অংশ ধসে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
সড়ক ধসে পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মণিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী এ. এস. এম. খালেকুজ্জামান। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত জনদুর্ভোগ লাঘবে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জনগণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে একটি বিকল্প (বাইপাস) সড়ক নির্মাণ করা হবে, যার কাজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মূল সড়কটি দ্রুত সংস্কারের লক্ষ্যে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী এ. এস. এম. খালেকুজ্জামান ধসে যাওয়া অংশের পরিমাপ সম্পন্ন করেছেন। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটির মূল সংস্কারকাজ শুরু করার আশ্বাস দেন।
জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এলাকাবাসীকে কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ধসে যাওয়া সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলেও জানানো হয়।

বিডিএফ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, বিভিন্ন সংগঠনের শুভেচ্ছা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
বিডিএফ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, বিভিন্ন সংগঠনের শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর, ধুলিহর ও ফিংড়ী (বিডিএফ) প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন কমিটির সভাপতি জি এম আমিনুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরশাদ আলীর কাছে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়।
সাবেক সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেন বাবু, আহ্বায়ক এস এম ইসমাইল হোসেন, সদস্যসচিব মো. মুকুল হোসেন ও সদস্য মো. মেহেদী হাসান শিমুল নতুন কমিটির কাছে এই দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ সময় বিডিএফ প্রেসক্লাবের সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এম এ হাসান, সাধারণ সম্পাদক নাসিম বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল গালিব, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. সলেমান মোড়ল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আব্দুল আহাদসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা।
এ ছাড়া ফয়জুল্যাপুর ফ্রেন্ডস ক্লাবের পক্ষ থেকেও নতুন কমিটিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ক্লাবের সভাপতি মো. মোস্তাকিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবু ওবায়দা গাজীর নেতৃত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এম এম জাহাঙ্গীর আলম, মো. রাসেল হোসেন রাহী ও এম এ রাসেলসহ সংগঠনের অন্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

সম্পাদকীয়/সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা ও স্থায়ী সমাধানের তাগিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা ও স্থায়ী সমাধানের তাগিদ

সাতক্ষীরায় স্বাভাবিক বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে জেলার ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং আউশ ধান ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার খবরটি অত্যন্ত উদ্বেগের। রোববার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভায় জানানো হয়েছে, অতিবৃষ্টির কারণে ৬ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভেসে গেছে ১২৭টি মাছের ঘের। এতে প্রাথমিকভাবে মৎস্য খাতেই প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন যদিও আশ্বস্ত করেছে যে এই মুহূর্তে বড় ধরনের কোনো বন্যার আশঙ্কা নেই এবং তারা যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত, তাও মাঠপর্যায়ের এই ক্ষয়ক্ষতি ও জনদুর্ভোগকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
একটি জেলায় একসঙ্গে ৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকার অর্থ হলো হাজার হাজার শিশুর নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া। এমনিতেই নানাবিধ কারণে প্রাথমিক শিক্ষায় যে ক্ষতি হয়, তা পুষিয়ে নেওয়া কঠিন; তার ওপর যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জলাবদ্ধতার কারণে দিনের পর দিন বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অন্যদিকে আউশ ধান ও মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার ঘটনাটি সরাসরি স্থানীয় অর্থনীতি এবং কৃষকের জীবিকার ওপর বড় আঘাত। সাতক্ষীরার মতো উপকূলীয় ও অর্থনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় এই ধরনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের দীর্ঘ সময় লড়াই করতে হয়।
এই সংকটের মূল কারণটি কিন্তু নতুন নয়। সাতক্ষীরা অঞ্চলে অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের তৈরি, নদী-নালার নাব্যতা হ্রাস এবং পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথগুলো ভরাট বা দখল হয়ে যাওয়ার কারণেই সামান্য অতিবর্ষণে এমন তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই এই অঞ্চলের মানুষকে একই ধরণের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কারের মতো বিষয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা ইতিবাচক। তবে আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, এই ধরণের সিদ্ধান্ত অনেক সময়ই কেবল সভার কার্যবিবরণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন খুব কমই দেখা যায়।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরার এই জলাবদ্ধতা ও ফসলি জমির ক্ষতি থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে হলে শুধু জরুরি ত্রাণ বা সাময়িক প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা। কপোতাক্ষসহ স্থানীয় নদী ও খালগুলোর খনন কাজ দ্রুত শেষ করা, পানি নিষ্কাশনের অবৈধ প্রতিবন্ধকতা ও স্লুইসগেটগুলোর দখলদারিত্ব দূর করা এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কেবল ‘প্রস্তুত আছি’ বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, বন্ধ হওয়া বিদ্যালয়গুলো যাতে দ্রুত চালু করা যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিরা যেন প্রয়োজনীয় সরকারি প্রণোদনা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। উপকূলের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে প্রতিবছর প্রকৃতির দয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। দুর্যোগের এই দুষ্টচক্র ভাঙতে টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।