বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ভূমিকম্প রোধ: আগামী প্রজন্মের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতকল্পে দরকার সাজানো পরিবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
ভূমিকম্প রোধ: আগামী প্রজন্মের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতকল্পে দরকার সাজানো পরিবেশ

এম শফিকুল ইসলাম

আমাদের দেশে বিগত বছরগুলোতে বেশ কয়টি ছোট ছোট ভূমিকম্পন অনুভূত হয়েছিল। এই ভূমিকম্পের মাত্রা কম হওয়ায় কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রায় উপরে কোন ভূমিকম্প হলে বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ার সাথে সাথে গ্যাস লাইন, বিদ্যুৎ লাইন ও পানির লাইনে বিস্ফোরণসহ বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। ভূমিকম্পের লক্ষণ দেখে অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, বাংলাদেশে ও একদিন বড় ধরনের ভূমিকম্পে আক্রান্ত হয়ে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

অতীতেও এই অঞ্চলে বেশ বড় ধরনের কিছু ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছিল। প্লেট টেকটোনিক মতবাদ অনুযায়ী, বাংলাদেশ টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থিত। ইন্ডিয়ান টেকটোনিক প্লেট এর উপরে ইউরেশিয়ান প্লেট এবং পূর্বে বার্মিজ মাইক্রোপ্লেট অবস্থিত। ইন্ডিয়ার প্লেটটি ঘড়ির কাটার বিপরীতে ঘুরে তিব্বত ও হিমালয়ের দক্ষিণ কিনারায় বাঁকা হচ্ছে। এছাড়া বার্মিজ মাইক্রোপ্লেট প্রতিবছর ২০ মি.মি. গতিতে পশ্চিম দিকে এবং ইন্ডিয়ান প্লেট ৫০ মি.মি. গতিতে উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে ইন্ডিয়ান প্লেট বার্মিজ প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের নিচে ঢুকে যাচ্ছে।

 

এ তিন প্লেটের পারস্পরিক সংঘর্ষের ফলেই বাংলাদেশ ভূমিকম্প হচ্ছে। বাংলাদেশের অতি কাছাকাছি রয়েছে ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ ইন্দো অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ান প্লেট। চট্টগ্রাম শহর, কক্সবাজার ও মায়ানমার অবস্থান করছে রাখাইন ফল্ট লাইন, যা এশিয়ান প্লেটের অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে এ ফল্ট লাইনের অবস্থা বেশ নাজুক। এ ফল্ট লাইন জাপান ও চীনের প্লেটকে স্পর্শ করে বাংলাদেশের পাশ দিয়ে বঙ্গোপসাগর হয়ে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ মায়ানমার সীমান্তে একবার ভূমিকম্প হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের ওয়াইড কর্পোরেশন নামে জাপানি একটি সংস্থার সঙ্গে ভূমিকম্প বিষয়ে কমপ্রিহেনসিভ ডিসস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম নামক একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ মায়ানমার সীমান্তে যে কোন সময় ৮ পয়েন্ট পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প হবে। আর কম দূরত্ব হওয়াই চট্টগ্রামের প্রভাব পড়তে পারে ৭.৫ মাত্রা।

 

বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্বাঞ্চল এবং মিয়ানমারের কিছু অংশে প্রচন্ড শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হতে পারে। যদি বন্য অঞ্চলটির বিস্তর প্রায় ২৪ হাজার বর্গকিলোমিটার। এতে প্রায় ১৪ কোটি মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রায় ১২ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের একদল বিজ্ঞানী গবেষণা করে এ তথ্য পেয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রণয়নের সময় বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্পের ঝুঁকির মাত্রা হিসাব করে দেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছিলেন। সে অনুযায়ী সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, রংপুরের একাংশ পড়েছে সর্বোচ্চ ঝূকিপূণ অঞ্চলের মধ্যে, রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম পড়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোনে। বরিশাল খুলনাসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল পড়েছে কোন সুখীপূর্ণ জোনে।

 

কিন্তু তারা ঢাকাকে বিশ্বের কয়েকটি জনবহুল শহরের মধ্যে বিবেচনা করে ভূমিকম্পের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। চলতি মাসের ২২ দিনে অন্তত চারবার নানা মাত্রায় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। কয়েকদিনের মধ্যে বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এরকম একাধিকবার ভূমিকম্পে সর্বসাধারণের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সবশেষে বলবো জনগণকে সচেতন হতে হবে। আর জনগণ সতর্ক হলেই বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এজন্য সরকারকে বিভিন্ন কর্মসূচী পরিচালনা করতে হবে। আগামী প্রজন্মের বাসযোগ্য বাংলাদেশ আর নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতকল্পে ভূমিকম্পরোধী সাজানো পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

লেখক: নাট্যকর্মী

Ads small one

আশাশুনিতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের প্রস্তুতি সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এই সভা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) আশাশুনির যৌথ আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (আরডিও) আবুল কালাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাশ, খাদ্য নিয়ন্ত্রক সঞ্জয় কুমার রায়, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা পলাশ কান্তি রায়, বিআরডিবি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
সভায় আগামী ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, সমবায়ীদের পুরস্কার বিতরণ এবং সুফলভোগী সদস্যদের মাঝে গাছের চারা বিতরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দেবহাটায় পুওর ওয়েলফেয়ার ফোরামের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পুওর ওয়েলফেয়ার ফোরামের প্রস্তুতি সভা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটায় ‘পুওর ওয়েলফেয়ার ফোরাম’ (পফ)-এর নতুন কমিটি গঠন উপলক্ষে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার উপজেলার কামটাস্থ সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে এই সভা হয়।
সংগঠনের সাবেক সভাপতি সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম। সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহছান হাবীবের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেন, বেসরকারি সংস্থা ‘আইডিয়াল’-এর নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম, সাবেক কোষাধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান প্রমুখ। উল্লেখ্য, এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি স্থানীয় এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছে।

তালায় নগরঘাটা-মাছখোলা সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
তালায় নগরঘাটা-মাছখোলা সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন

তালা প্রতিনিধি: তালা উপজেলার নগরঘাটা আসননগর মোড় থেকে হরিণখোলা হয়ে মাছখোলা রোড পর্যন্ত নতুন রাস্তা নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার গোয়ালপাতা মন্দির প্রাঙ্গণে এই কাজের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তিনি বলেন, এই এলাকার মূল সমস্যা জলাবদ্ধতা। রাস্তাঘাট, মসজিদ ও মন্দিরের উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাটকেলঘাটা থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম, তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।