সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোমরা বন্দর জাহাঙ্গীর মার্কেটে ডেঙ্গুর হানা: আক্রান্ত ১৫, চিকিৎসায় অনেকেই সুস্থ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
ভোমরা বন্দর জাহাঙ্গীর মার্কেটে ডেঙ্গুর হানা: আক্রান্ত ১৫, চিকিৎসায় অনেকেই সুস্থ

এম শফিকুল ইসলাম: সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর হানা থেকে মুক্তি মিলছে না কোথাও। জেলা শহর থেকে গড়িয়ে শহরতলী গ্রাম ও গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। বন্দর নগর ভোমরার জাহাঙ্গীর মার্কেটে হানা দিয়েছে ডেঙ্গু। মার্কেটের ১৫ জন দোকান মালিক ও কর্মচারী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই সাতক্ষীরার মেডিকেল হাসপাতাল,সদর হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। আবার কেউ কেউ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাহাঙ্গীর মার্কেটের নিধি ফ্যাশনের মালিক আব্দুল কাদের জানান,মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সর্বপ্রথম মশা বাহিত ভাই রাগে আক্রান্ত হন। প্রায় ১৫ দিন আগে জ্বরের সঙ্গে শরীরে ভীষণ ব্যাথা হলে ডেঙ্গু সন্দেহে এনএস -১ টেস্ট করান। টেস্ট রিপোর্ট ডেঙ্গু পজেটিভ সনাক্ত হয়। এরপর পরপরই নেওয়া হয় নিবিড় চিকিৎসা সেবা। দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন তিনি সুস্থ। আব্দুল কাদের বলেন, দুই দিন আগে শরীর ভীষণ খারাপ লাগছিল। একপর্যায়ে রাতে জ্বরে আক্রান্ত হই। দিনে রাতে নিয়মিত মশারি টাঙিয়ে ঘুমায়। তারপরও কোথা থেকে যে মশা কামড়ালো বুঝতে পারিনি। বন্দর এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাহাঙ্গীর মার্কেটের আশেপাশে জায়গাগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা।

পরিচ্ছন্নকর্মীর অভাবে আশেপাশের জায়গাগুলোতে তৈরি হয়েছে ঝোঁপ-ঝাড়ে আর ময়লা আবর্জনার স্তুপ। আর এখানে এই বর্ষার পানিতে জমে থাকা নোংরা জায়গা থেকে এডিস মশার বংশ বৃদ্ধি হচ্ছে। বন্দর এলাকা জুড়ে চলছে ভয়াবহ ডেঙ্গু আতঙ্ক। বিশেষ করে জাহাঙ্গীর মার্কেটের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীরা ডেঙ্গু আতঙ্ক উদ্বিগ্ন। ডেঙ্গু সহ ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন রাহা ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী রায়হান, মোল্লা ভ্যারাইটি সেন্টারের স্বত্তাধিকারী আলামিন ও আলাউদ্দিন, কাপড় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম, সততা বস্তালয়ের স্বত্তাধিকারী তৌহিদ হোসেন, মাইন ফ্যাশনের মামুন হোসেন, মের্সাস সুমাইয়া ফ্যাশানের আমির হামজা ও হানজালা, মেসার্স সোহানা বস্ত্রালয়ের ফিরোজ হোসেন, মেসার্স জিম ফ্যাশনের আজমির হোসেন, মেসার্স সিটিগোল্ড সেন্টারের অনিত, এবং মেসার্স আলাউদ্দিন বস্ত্রালয়ের শামীম হোসেন। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবাই দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বলে মার্কেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

Ads small one

দেবহাটায় সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে মন্দিরের জমি দখলের হুমকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে মন্দিরের জমি দখলের হুমকি

সংবাদদাতা: জমি দখল করতে ৮৯ বছরের মন্দিরের সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে সংখ্যলঘুদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের পাইকাড়া সার্বজনীন কালীমাতা ও রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পাইকাড়া সার্বজনীন কালীমাতা ও রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ কুমার রায় জানান, ব্রিটিশ শাসনামলে জমিদার কৃষ্ণকিশোর বন্দোপাধ্যায় সিএস ৩২ খতিয়ানের ২৭৮৫ দাগের এক একর জমিতে ১৯৩৭ সালে এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। একতলা বিশিষ্ঠ মন্দিরের বারান্দার চারিধারে বাঁশের চটার রেলিং রয়েছে। মন্দিরের পূর্ব পাশে পাকা প্রাচীর দেওয়া ছিলো। মন্দিরের জায়গাটুকু বাদ দিয়ে বাকী জমিতে ক’টি মাছের ঘের রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই মন্দিরে পুজা অর্চনা ছাড়াও ঘেরে গলদা, বাগদা, রুই , কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছেন। ওই জমি ক্রয়সূত্রে দাবি করে বাবর আলী ফকির আদালতে দেঃ ১/৯৫ মামলা করলে ১৯৯৬ সালের ৩ এপ্রিল তা খারিজ হয়ে যায়।
অনিমেষ কুমার রায় আরো জানান, সম্প্রতি মন্দিরের ৯৯ শতক জমির মধ্যে ৮৫ শতক জমি মাটিকুমড়া গ্রামের কলিমউদ্দিনের ছেলে আজিবর রহমান ও মুজিবর রহমানের কাছ থেকে পাইকাড়া গ্রামের বাবুরালী গাজীর ছেলে মাহামুদুল হাসান, জামাল ফারুক ও জামাল ফারুকের স্ত্রী রওশানারা খাতুন কিনেছেন দাবি করে মন্দির কর্তৃপক্ষকে জমি ছেড়ে দিতে বলে। প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ওই জমি দখলে নেওয়ার হুমকি দেয় বাবুরালী গাজী ও তার ছেলেরা। বাধ্য হয়ে তার (অনিমেষ) জ্যাঠাত ভাই তপন রায় বাদি হয়ে গতবছরের ৬ মার্চ সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পিটিশন ৩৩৩/২৫ নং মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাবুরারী গাজীসহ তার ছেলে মাহামুদুল হাসান, জামাল ফারুক ও জামাল ফারুকের স্ত্রী রওশানারাসহ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৫ মার্চ গভীর রাতে জনাব আলী গাজীর ছেলে বাবুরালী গাজীর নেতৃত্বে তার ছেলে জামাল ফারুক, মাহামুদুল হাসান, নজরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫/৪০ জন সন্ত্রাসী হাতে দা, লাঠি, শাবল, লোহার রড, বাঁশের লাঠি নিয়ে মন্দিরের চারিপাশের বাঁশের বেড়া ও পূর্ব পাশের ইটের প্রাচীর ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। পরে তারা বেড় জাল দিয়ে গলদা ও বাগদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধিক টাকার মাছ লুটপাট করে। ভাংচুর ও লুটপাটে বাধা দেওয়ায় তিনজন নারীসহ ছয়জনকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে গতবছরের ১৫ জুলাই মন্দিরের পুকুর ও ঘের থেকে তাদের চাষকৃত মাছ ধরে নিলে জামাল ফকির বাদি হয়ে আদালতে সিআরপি-১৪৬/ ২৬ নং মামলা করা হয়। মামলায় হীরুলাল,প্রভাস রায়সহ চারজনকে বিবাদী করা হয়।পিবিআই কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান দুটি দলিলের ফটোকপি মূলে জালাল ফারুক ৫৮০৩ দাগের ৩৫ শতক জমি দাবি করলেও ওই জমি ও পুকুরে বিবাদীগণ মাছ চাষ ও বিক্রি করে বলে উল্লেখ করেন। এরপরও তিনি ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিকার আইনের তিনটি ধারায় ও পেনাল কোর্ড এর ১৪৩ ও ৫০৬ ধারা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিলে সমন পেয়ে সোমবার আদালত থেকে জামিন নেন। এতে ক্ষুব্ধ জামাল ফারুক, মহিদ, বাবর আলী, মিন্টু, এলা ঢালীসহ ১০/১২ জন সোমবার বিকেলে মন্দিরের সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে জমি জবরদখলের হুমকি দিয়ে চলে যায়। ৯৯৯ এ ফোন দিলে দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক বিপ্লবের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাইকাড়া গ্রামের জামাল ফারুক বলেন, জমি কিনেছেন তাই দখল করতে সাইনবোর্ড তুলে ফেলেছেন।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনজীবীর স্ত্রী ও শালিকাসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আইনজীবীর স্ত্রী ও শালিকাসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে এক আইনজীবীর স্ত্রী ও শালিকাসহ পাঁচজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ৫ অক্টোবর বিকেলে পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত গৃহবধূ সোনিয়া আফরিন (৩০) ও তাঁর বোন সাফিও খাতুনকে (৩২) সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোনিয়া আফরিনের স্বামী আইনজীবী মো. সাইফুল্লাহ গণী বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল সকালে পুরাতন সাতক্ষীরা মাদ্রাসাপাড়া এলাকার ফারুক হোসেন, তাঁর স্ত্রী উম্মে কুলসুম, ছেলে ফাহিম ও রবিউল ইসলামসহ আসামিরা বাদীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। ওই ঘটনায় ৩ মে আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হলে আদালতের নির্দেশে পরদিন সদর থানা পুলিশ সেটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে। ওই মামলার জের ধরে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ৫ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে সোনিয়া আফরিন ও তাঁর বড় বোন সাফিয়া খাতুন বাড়ির সামনের রাস্তায় বের হলে ওত পেতে থাকা আসামিরা ধারালো দা, লোহার রড ও শাবল নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। হামলায় সোনিয়া ও সাফিয়া গুরুতর জখম হন। এ সময় তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে মিজান ও মইনুল ইসলামকে পিটিয়ে জখম করা হয়। বাধা দিতে গেলে মিজানের স্ত্রী মমতাজকেও (৩০) লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। এ ছাড়া হামলাকারীরা সোনিয়া আফরিনের গলা থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা স্থান ত্যাগ করেন। গুরুতর আহত সোনিয়া আফরিন ও সাফিয়া খাতুনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে মমতাজ, মিজান ও মইনুল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটিতে থানায় মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

আশাশুনিতে নবাগত ওসি শাহিদুর রহমানের যোগদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে নবাগত ওসি শাহিদুর রহমানের যোগদান

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদান করেছেন শাহিদুর রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি আশাশুনি থানায় যোগদান করেন। আশাশুনিতে ওসি হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি সাতক্ষীরা সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিসাবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি’র দায়িত্বে ছিলেন। নবাগত অফিসার ইনচার্জ যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার কৃতি সন্তান। (ওসি) শাহিদুর রহমান ২০১২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। নবাগত (ওসি) সোমবার বিকাল ৪টায় আশাশুনি থানায় পৌঁছে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই লক্ষণ চন্দ্র দাসের কাছ থেকে চার্জ বুঝিয়ে নেন। এসময় থানার এসআই ফিরোজ আলম, আনজির হোসেন, কামরুল ইসলাম কাছেদ মুন্সী, মিনহাজ উদ্দিনসহ পুলিশ সদস্যরা নবাগত ওসিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। যোগদানের পর ওসি শাহিদুর রহমানের বলেন, পুলিশ ও জনতার সম্পর্ক হবে বন্ধুর মতো। জনসাধারণের যে কোনো প্রয়োজনে পুলিশ সহায়তা দিতে বদ্ধপরিকর। আশাশুনি থানা এলাকায় সকল অপরাধমূলক কর্মকা-সহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম কর্মীসহ সকল শ্রেণীপেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।