শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা নিউজিল্যান্ডের
তৃতীয় টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউজিল্যান্ড ১১.৪ ওভারে ১০৪/৪ (জ্যাকবস ৬২*, ফক্সক্রফট ১৫* ; ক্লার্ক ১, ক্লিভার ১, রবিনসন ২৩, কেলি ১)
ফল: নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী
বাংলাদেশ ১৪.২ ওভারে ১০২/১০ (মেহেদী ৭*; সাইফ ১৬, তানজিদ ৫, পারভেজ ০, লিটন ২৬, শামীম ৩, হৃদয় ৩৩, সাইফউদ্দিন ০, রিশাদ ৫, শরিফুল ২, রিপন ০)
সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি জিতলে ইতিহাস গড়তে পারতো বাংলাদেশ। কোনও সফরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একাধিক সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়তো। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেটা হয়নি। শেষ ম্যাচ ৬ উইকেটে জিতে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে নিউজিল্যান্ড। প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশও ৬ উইকেটে জিতেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে।
অবশ্য ১০৩ রানের মামুলি লক্ষ্য দিয়েও ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করে দিয়েছিলেন পেসার শরিফুল ইসলাম। নতুন বলে কিউইদের ২৫ রানের মধ্যে তুলে নেন ৩ উইকেট। তার পর ৩৩ রানে মেহেদী চতুর্থ উইকেট তুলে নিলে তখনও ম্যাচে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তার পর পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচ কেড়ে নেন বেভন জ্যাকবস। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২৯ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। ফিফটির পর তার ঝড়েই ১১.৪ ওভারে ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ডিন ফক্সক্রফট। তিনি ১৫ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থেকেছেন। পঞ্চম উইকেটে এই জুটি যোগ করেছে ৭১ রান!
বল হাতে ১৯ রানে শরিফুল ৩ উইকেট নিলেও সেটা বৃথা গেছে শেষ পর্যন্ত। ২০ রানে একটি নেন মেহেদী হাসান।
মেহেদী এনে দিলেন চতুর্থ উইকেট
লক্ষ্য তাড়ায় কিউইদের স্বস্তিতে খেলতে দিচ্ছে না বাংলাদেশ। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ডট বলের চাপে ফেলছে। তাতে মিলছে সাফল্যও। শরিফুলের তিন উইকেট নেওয়ার পর পঞ্চম ওভারের শেষ বলে মেহেদী হাসানের শিকার হয়েছেন নিক কেলি। মেহেদীর ঘূর্ণিতে ১ রানে বোল্ড হয়েছেন তিনি। নিউজিল্যান্ড চতুর্থ উইকেট হারায় ৩৩ রানে।
শরিফুলের তৃতীয় শিকার রবিনসন
একপ্রান্ত নড়বড়ে হলেও শুরু থেকে চড়াও হচ্ছিলেন ওপেনার টিম রবিনসন। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে তাকেও থামিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন তিনি। রবিনসন ১৪ বলে ২৩ রানে ফিরেছেন। তার ইনিংসে ছিল দুটি ৪ ও একটি ছয়।
দ্বিতীয় ওভারে শরিফুলের জোড়া আঘাত
প্রথম ওভারে ৯ রান তুলেছে নিউজিল্যান্ড। তবে দ্বিতীয় ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে শুরুর জুটি ভেঙেছেন শরিফুল ইসলাম। ১.২ ওভারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ওপেনার কাটেনে ক্লার্ক (১)। একই ওভারের শেষ বলে আবারও আঘাত হানেন শরিফুল। এবার গ্লাভসবন্দি হন নতুন ব্যাটার ক্লিভার।
১০২ রানে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস
তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ১০৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ।
মূলত বৃষ্টি বিরতির পর খেই হারায় বাংলাদেশের ইনিংস। ম্যাচ ১৫ ওভারে নেমে আসায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে তারা। তাতে কাঙ্ক্ষিত স্কোরবোর্ড পায়নি। কিউইদের দারুণ বোলিংয়ে ১৪.২ ওভারে অলআউট হয়েছে ১০২ রানে।
মূলত প্রশ্ন বিরতিতে ব্যাটিংয়ে বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর পাশাপাশি বাজে শট সিলেকশন তাদের ডুবিয়েছে। যে কারণে শেষ দিকে গতি পায়নি ইনিংস। বাংলাদেশ শেষ ৬ উইকেট হারিয়েছে মাত্র ২৬ রানে!
এই সময় স্কোরবোর্ড সচলে মুখ্য ভূমিকা রাখেন তাওহীদ হৃদয়। লিটনের ২৬ রানের পর সর্বোচ্চ ৩৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে। হৃদয়ের ২৪ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছয়। লিটনের ১৭ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছক্কা।
কিউইদের হয়ে ২ ওভারে ৯ রানে ৩টি উইকেট নেন জশ ক্লার্কসন। দুটি করে নিয়েছেন নাথান স্মিথ ও বেন সিয়ার্স। একটি করে নেন জেইডেন লেনক্স ও ইশ সোধি।
শরিফুলের পর রিপনের আউটে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস
শতরান পার করার পর শরিফুলও আউট হয়েছেন ২ রানে। তাকে শেষ ওভারের প্রথম বলে বোল্ড করেছেন সিয়ার্স। পরের বলে রিপনও বোল্ড হলে ১৪.২ ওভারে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
রানআউটে ফিরলেন রিশাদ
শেষ দিকে এসে দ্রুত উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। রিশাদ হোসেনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৩.১ ওভারে রানআউটে ফিরেছেন। তার বিদায়ে বাংলাদেশ ৯৫ রানে হারায় অষ্টম উইকেট।
হৃদয়ের পর ফিরলেন সাইফউদ্দিনও
১৫ রানে জীবন পাওয়ার পর স্কোরবোর্ড সচল রাখছিলেন তাওহীদ হৃদয়। অন্যপ্রান্ত নড়বড়ে হলেও তিনি রান তুলছিলেন। ১২.১ ওভারে অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি। জশ ক্লার্কসনের বলে মেরে খেলতে গিয়ে ৩৩ রানে তালুবন্দি হয়েছেন হৃদয়। পরের বলে ক্যাচ আউট হন নতুন নামা সাইফউদ্দিনও (০)। বাংলাদেশ সপ্তম উইকেট হারায় ৮৯ রানে।
শামীম ফিরলেন ৩ রানে
আগের ম্যাচে রান তুলতে ভূমিকা ছিল শামীম হোসেনের। কিন্তু শেষ ম্যাচে ৩ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। ১১.৩ ওভারে সোধির বলে স্টান্স পরিবর্তন করে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।
কিপারের ভুলে বাঁচলেন হৃদয়
লিটন ফিরলেও রানের চাকা সচল রেখেছেন তাওহীদ হৃদয়। অবশ্য তিনি ১৫ রানেই ফিরতে পারতেন। কিন্তু ওই সময় কিপারের ভুলে বেঁচে যান তিনি। হৃদয় ক্রিজের বাইরে থাকলেও উইকেটকিপার বল গ্লাভসে নেওয়ার আগেই বেলস ফেলে দেন।
২৬ রানে থামলেন লিটন
বৃষ্টি বিরতির পর বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হয়েছে খেলা। কিন্তু বিরতির পর ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি লিটন দাস। বিরতির আগে যেভবে মেরে খেলছিলেন, ক্লার্কসনের বলে সেভাবে খেলার চেষ্টায় ৮.২ ওভারে ২৬ রানে ক্যাচ আউট হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায় ৬৩ রানে।
খেলা শুরু বিকাল সাড়ে ৪টায়
বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হচ্ছে খেলা। বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হচ্ছে ম্যাচ। ওভারও কমেছে। ২০ ওভারের বদলে খেলা হবে ১৫ ওভার করে।
মিরপুরে থেমেছে বৃষ্টি
মিরপুরে বৃষ্টিতে বন্ধ ছিল খেলা। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি থেমেছে। রোদের দেখাও মিলেছে। এখন আম্পায়ারদের মাঠ পর্যবেক্ষণের পরই জানা যাবে বিস্তারিত।
বাংলাদেশের পঞ্চাশ পূরণের পর মিরপুরে বৃষ্টি
৬.৩ ওভারে দলীয় পঞ্চাশ পূরণ হয়েছে বাংলাদেশের। ইশ সোধির চতুর্থ ডেলিভারির পরই মিরপুরে নেমেছে বৃষ্টি। ম্যাচ আপাতত বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাভারে ঢেকে রাখা হয়েছে উইকেট। বৃষ্টির আগে লিটন দাস আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রানের চাকা সচল রাখছিলেন। ১৩ বলে ২৫ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। সঙ্গে ২ রানে রয়েছেন তাওহীদ হৃদয়।
পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের ৪৩
পাওয়ার প্লেতে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ওপেনার সাইফ হাসান দারুণ ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু বেশি বড় করতে পারেননি ইনিংস। ১৬ রানে তার ফেরার পর টানা দুই বলে আউট হয়েছেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। তার পরও লিটন দাস আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলায় পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিক দল সংগ্রহ করেছে ৪৩ রান।
টানা দুই বলে আউট তানজিদ-পারভেজ
সাইফের আউট হওয়ার পরের ওভারে দ্রুত বিদায় নেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসানও। শুরু থেকে বাক্সবন্দি ছিলেন। তাকে পঞ্চম ওভারে বোল্ড করেছেন নাথান স্মিথ। তানজিদ সাজঘরে ফেরেন ৫ রানে। পরের বলে নতুন ব্যাটার পারভেজ হোসেনকেও (০) তুলে নেন কিউই পেসার। আপার কাট করতে গিয়ে পারভেজ ক্যাচ আউট হয়েছেন। দ্রুত তিন উইকেট পতনে মুহূর্তেই চাপে পড়ে গেছে বাংলাদেশ।
সাইফের বিদায়ে পড়লো প্রথম উইকেট
টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন ওপেনার সাইফ হাসান। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩ ওভারেই স্কোর দাঁড়ায় ২১। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে অবশ্য মেরে খেলার মাশুল দেন সাইফ। লেনক্সের বলে ক্যাচ তুলে ১৬ রানে কাটা পড়েন তিনি। বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায় ২১ রানে। সাইফের ১১ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার।
শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
মিরপুরে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস হেরেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড শুরুতে বোলিং নিয়েছে।
চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। তাই আজ শনিবার মিরপুরে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি হতে যাচ্ছে সিরিজ নির্ধারণী। প্রথম ম্যাচ জিতে এরই মধ্যে সিরিজে এগিয়ে আছে স্বাগতিক দল। তবে আজ সিরিজ জিতলে ইতিহাস গড়বে তারা। কিউইদের বিপক্ষে কোনো সফরে এর আগে একাধিক সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার সেই কীর্তি গড়ার সামনে লিটন দাসের দল।
একাদশে কারা
শেষ ম্যাচে একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। তানজিম সাকিব ইনজুরিতে বাদ পড়েছেন। তার বদলে এসেছেন সাইফউদ্দিন।
বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, রিপন মন্ডল ও শরিফুল ইসলাম।
নিউজিল্যান্ড একাদশ: টিম রবিনসন, কাটেনে ক্লার্ক, ডেন ক্লিভার, নিক কেলি (অধিনায়ক), বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, জেইডন লেনক্স ও বেন সিয়ার্স।









