মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

সংগীত মানুষের মনে নাড়া দেয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
সংগীত মানুষের মনে নাড়া দেয়

প্রকাশ ঘোষ বিধান

সংগীত মানুষের মনে নাড়া দেয় কারণ এর সুর ও ছন্দ সরাসরি মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশে প্রভাব ফেলে। গান শোনার সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মনের ভেতর আনন্দ, বিষণ্ণতা বা নস্টালজিয়ার মতো গভীর অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

সংগীত মানুষের জীবনে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিয়মিত গান শুনলে মানসিক চাপ কমে, অবসাদ দূর হয়, সৃজনশীলতা বাড়ে।সংগীত মানুষের মনে আনন্দের মুহূর্তে উচ্ছ্বাস বাড়ায় এবং বেদনার মুহূর্তে সান্ত¡না খুঁজে পেতে সাহায্য করে। সুর ও ছন্দ মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমকে উদ্দীপ্ত করে, যা আবেগ ও স্মৃতি নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রবিন্দু।

 

শ্রবণের পাশাপাশি শব্দ তরঙ্গ আমাদের শরীরে শারীরিক কাঁপুনি তৈরি করে, যা গভীর আবেগের সৃষ্টি করে।
সংগীত মানুষের মনে প্রভাব ফেলে। একটি ভালো গান বা সুর মুহূর্তের মধ্যে মানুষের ভেতর লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা, স্মৃতি বা নস্টালজিয়া জাগিয়ে তুলতে পারে। মন খারাপের সময় গান শোনা মানসিক চাপ ও রাগ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। সুর ও লয় মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক হরমোন নিঃসরণ বাড়ায়, যা মানুষকে আনন্দ ও প্রশান্তি দেয়। প্রিয় কোনো গানের তালে হৃৎপিন্ডের গতি ও রক্তচাপ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। এই কারণেই সংগীত কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের আত্মার খোরাক এবং অনুভূতির শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ। এটি ভাষা ও সংস্কৃতির সীমানা পেরিয়ে মানুষকে একে অপরের সাথে আবেগগতভাবে সংযুক্ত করে।

২১ জুন বিশ্ব সংগীত দিবস। শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিখ্যাত ফ্রান্স বিশ্ব সংগীত দিবস উদ্যাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৮১ সালে ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাং এই উৎসবকে একটি আন্তর্জাতিক রূপ দেয়ার চেষ্টা করেন। এই দিবসটির সঙ্গে ফ্রান্সের উৎসব ফেট ডে লা মিউজক উৎসবের যোগসূত্র রয়েছে। ১৯৮২ সালে বিশেষ এই সংগীত উৎসবের দিনটিই ওয়ার্ল্ড মিউজিক ডে হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পৃথিবীতে শান্তি ও ইতিবাচক চিন্তাকে ছড়িয়ে দেয়াই দিবসটির উদ্দেশ্য। সংগীত ও সুর নির্দিষ্ট কোনো দেশের গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাই গানের এই ভাষাকে সর্বজনীন ভাষাও বলা হয়ে থাকে।

সংগীতের মূল ভিত্তি হলো ধ্বনি বা নাদ। নিখুঁত ও শ্রুতিমধুর শব্দ এবং নির্দিষ্ট ছন্দ বা বিন্যাসের মাধ্যমে সংগীত সৃষ্টি হয়। সংগীত হলো স্বর, ধ্বনি ও সুসংবদ্ধ শব্দের এক শিল্পিত সমন্বয়, যা মানুষের মনে আনন্দ ও ভাবের সঞ্চার করে। সাধারণত গীত, বাদ্য এবং নৃত্য- এই তিনের সংমিশ্রণকে সংগীত বলা হয়। সুর, তাল ও লয়ের মাধ্যমে মানুষের আবেগ ও অনুভূতি প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম সংগীত।

সংগীত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। সংগীত সরাসরি মানুষের মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশকে উদ্দীপিত করে মানুষের মনে ও শরীরে গভীর নাড়া দেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, সংগীত কেবল আমাদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাই পরিবর্তন করে না, বরং এটি আমাদের হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ এবং হরমোন নিঃসরণকেও সরাসরি প্রভাবিত করে।

গান শোনার সময় মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা অংশটি সক্রিয় হয়ে আমাদের আনন্দ, দুঃখ বা উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। ধীরলয়ের বা পরিচিত কোনো সুর মস্তিষ্কে প্রোল্যাকটিন হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে, যা পুরনো স্মৃতিকে সতেজ করে দ্রুত তাল বা রক মিউজিক শুনলে হার্ট রেট ও রক্তচাপ বাড়ে। শান্ত ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক রক্তচাপ কমিয়ে শরীরকে আরামদায়ক অবস্থায় নিয়ে আসে। গান শোনার মাধ্যমে মানসিক অবসাদ, রাগ, ক্ষোভ ও হতাশা অনেকাংশে দূর হয়।

সংগীত মানুষকে নিজের ব্যক্তিত্ব, অনুভূতি ও জীবনের লক্ষ্য নিয়েতোলে। গবেষণায় দেখা গেছে যে সংগীত মানুষের কাজের একাগ্রতা, চিন্তাশক্তি ও শেখার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। সংগীতের এই জাদুকরী ক্ষমতার কারণেই মন খারাপের দিনে একটি সাধারণ গানও আমাদের মুহূর্তে চাঙ্গা করে তুলতে পারে।

গান সবার জীবনের শান্তি কামনা করা হয়। সংগীতের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে এখন চিকিৎসাও করা হয়। সারা বিশ্বেই নানা ভাষায় সমান তালে সংগীতের চর্চা চলছে। সংগীত হোক মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন দুপুর) বেলা ২টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির দুই নম্বর বিল্ডিং এর তিনতলায় লাইব্রেরী হলরুমে উক্ত সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক এড. মোঃ আকবর আলী।

 

সংগঠনের সদস্য সচিব এড. নুরুল আমিন’র সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অংশ গ্রহণ করেন এড. এবিএম সেলিম, এড. আবু সাইদ রাজা, এড. শহীদ হাসান, এড. সিরাজুল ইসলাম, এড. শাহরিয়ার হাসীব, এড. জিএম ফিরোজ আহমেদ, এড. সরদার সাইফ, এড. মিজানুর রহমান বাপ্পি, এড. এবিএম ইমরান হোসেন শাওন, এড. আবদুল জলিল, এড. সোহরাব হোসনে বাবলু, এড. শামীমা পারভীন মিঠু, এড. সুনীল কুমার, এড. নজরুল ইসলাম, এড. তারিক ইকবাল অপু, এড. আইয়ুব আলী, এড. মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ অলি, এড. আজিজুল হক প্রমুখ।

 

সভায় সিদ্ধান্ত হয় আগামী ০৫ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ আইনজীবীদের মধ্যে বৃক্ষ বিতরণ করা হবে এবং সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দদের উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুর ইসলাম হাবিবকে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া নবাগত আইনজীবীদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ফরম বিতরণ করা হবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার জন্য কয়েকটি উপকমিটি করা হয়েছে।

 

ধুলিহরে কৃষকের সেচ মটর চুরি, বিপাকে ভুক্তভোগী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
ধুলিহরে কৃষকের সেচ মটর চুরি, বিপাকে ভুক্তভোগী

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর ইউনিয়নের বালুইগাছা গ্রামের গ্রামডাক্তার আলতাফ হোসেনের সেচের কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক মারকুইজ কোম্পানির মটর (পাম্প) চুরি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (২৯ জুন) গভীর রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা মটরটি চুরি করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে মটরটি যথাস্থানেই ছিল। কিন্তু পরদিন সকালে এসে দেখা যায়, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মটরটি নিয়ে গেছে চোর চক্র। ঘটনাস্থলে পাম্পের পাইপ ও অন্যান্য অংশ পড়ে থাকলেও মূল মটরটি উধাও। এর সাথে থাকা কিছু যন্ত্রাংশ ও ক্যাবলও কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

মোটরের অভাবে সেচ কাজ বন্ধ হলে চরম বিপাকে পড়বেন ভুক্তভোগী। এই চুরির ঘটনায় এলাকায় সাধারণ কৃষক ও ঘের মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রতিনিয়ত এলাকায় এরুপ মটর চুরি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। লাগামহীন চুরির মহোৎসব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনি শিথিলতা, দাবি ভুক্তভোগী মহলের।

স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় রাতে পুলিশি টহল জোরদার করা এবং দ্রুত এই চোর চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

এই বিষয়ে স্থানীয় সুপারিঘাটা পুলিশ ফাঁড়ি এবং সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। এলাকায় মদ, গাজার, ইয়াবার রমরমা ব্যবসা চলছে যুব সমাজ নেশার টাকা, জুয়ার টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ: জাসদ সভাপতি ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধ: জাসদ সভাপতি ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

 

মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

 

প্রসিকিউশনের তদন্ত দল ইনুর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তদন্ত শুরু করে প্রতিবেদন দাখিল করে ১১ সেপ্টেম্বর। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। শুনানি নিয়ে গত বছরের ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

 

সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২২ জুন রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করে দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরপরই ২৬ অগাস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় হেফাজতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

 

ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ জানান, বর্তমানে তার মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানো মামলার সংখ্যা ৮৭টি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।