মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সংগীত মানুষের মনে নাড়া দেয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
সংগীত মানুষের মনে নাড়া দেয়

প্রকাশ ঘোষ বিধান

সংগীত মানুষের মনে নাড়া দেয় কারণ এর সুর ও ছন্দ সরাসরি মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশে প্রভাব ফেলে। গান শোনার সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মনের ভেতর আনন্দ, বিষণ্ণতা বা নস্টালজিয়ার মতো গভীর অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

সংগীত মানুষের জীবনে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিয়মিত গান শুনলে মানসিক চাপ কমে, অবসাদ দূর হয়, সৃজনশীলতা বাড়ে।সংগীত মানুষের মনে আনন্দের মুহূর্তে উচ্ছ্বাস বাড়ায় এবং বেদনার মুহূর্তে সান্ত¡না খুঁজে পেতে সাহায্য করে। সুর ও ছন্দ মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমকে উদ্দীপ্ত করে, যা আবেগ ও স্মৃতি নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রবিন্দু।

 

শ্রবণের পাশাপাশি শব্দ তরঙ্গ আমাদের শরীরে শারীরিক কাঁপুনি তৈরি করে, যা গভীর আবেগের সৃষ্টি করে।
সংগীত মানুষের মনে প্রভাব ফেলে। একটি ভালো গান বা সুর মুহূর্তের মধ্যে মানুষের ভেতর লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা, স্মৃতি বা নস্টালজিয়া জাগিয়ে তুলতে পারে। মন খারাপের সময় গান শোনা মানসিক চাপ ও রাগ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। সুর ও লয় মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক হরমোন নিঃসরণ বাড়ায়, যা মানুষকে আনন্দ ও প্রশান্তি দেয়। প্রিয় কোনো গানের তালে হৃৎপিন্ডের গতি ও রক্তচাপ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। এই কারণেই সংগীত কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের আত্মার খোরাক এবং অনুভূতির শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ। এটি ভাষা ও সংস্কৃতির সীমানা পেরিয়ে মানুষকে একে অপরের সাথে আবেগগতভাবে সংযুক্ত করে।

২১ জুন বিশ্ব সংগীত দিবস। শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিখ্যাত ফ্রান্স বিশ্ব সংগীত দিবস উদ্যাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৮১ সালে ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাং এই উৎসবকে একটি আন্তর্জাতিক রূপ দেয়ার চেষ্টা করেন। এই দিবসটির সঙ্গে ফ্রান্সের উৎসব ফেট ডে লা মিউজক উৎসবের যোগসূত্র রয়েছে। ১৯৮২ সালে বিশেষ এই সংগীত উৎসবের দিনটিই ওয়ার্ল্ড মিউজিক ডে হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পৃথিবীতে শান্তি ও ইতিবাচক চিন্তাকে ছড়িয়ে দেয়াই দিবসটির উদ্দেশ্য। সংগীত ও সুর নির্দিষ্ট কোনো দেশের গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাই গানের এই ভাষাকে সর্বজনীন ভাষাও বলা হয়ে থাকে।

সংগীতের মূল ভিত্তি হলো ধ্বনি বা নাদ। নিখুঁত ও শ্রুতিমধুর শব্দ এবং নির্দিষ্ট ছন্দ বা বিন্যাসের মাধ্যমে সংগীত সৃষ্টি হয়। সংগীত হলো স্বর, ধ্বনি ও সুসংবদ্ধ শব্দের এক শিল্পিত সমন্বয়, যা মানুষের মনে আনন্দ ও ভাবের সঞ্চার করে। সাধারণত গীত, বাদ্য এবং নৃত্য- এই তিনের সংমিশ্রণকে সংগীত বলা হয়। সুর, তাল ও লয়ের মাধ্যমে মানুষের আবেগ ও অনুভূতি প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম সংগীত।

সংগীত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। সংগীত সরাসরি মানুষের মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশকে উদ্দীপিত করে মানুষের মনে ও শরীরে গভীর নাড়া দেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, সংগীত কেবল আমাদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাই পরিবর্তন করে না, বরং এটি আমাদের হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ এবং হরমোন নিঃসরণকেও সরাসরি প্রভাবিত করে।

গান শোনার সময় মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা অংশটি সক্রিয় হয়ে আমাদের আনন্দ, দুঃখ বা উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। ধীরলয়ের বা পরিচিত কোনো সুর মস্তিষ্কে প্রোল্যাকটিন হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে, যা পুরনো স্মৃতিকে সতেজ করে দ্রুত তাল বা রক মিউজিক শুনলে হার্ট রেট ও রক্তচাপ বাড়ে। শান্ত ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক রক্তচাপ কমিয়ে শরীরকে আরামদায়ক অবস্থায় নিয়ে আসে। গান শোনার মাধ্যমে মানসিক অবসাদ, রাগ, ক্ষোভ ও হতাশা অনেকাংশে দূর হয়।

সংগীত মানুষকে নিজের ব্যক্তিত্ব, অনুভূতি ও জীবনের লক্ষ্য নিয়েতোলে। গবেষণায় দেখা গেছে যে সংগীত মানুষের কাজের একাগ্রতা, চিন্তাশক্তি ও শেখার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। সংগীতের এই জাদুকরী ক্ষমতার কারণেই মন খারাপের দিনে একটি সাধারণ গানও আমাদের মুহূর্তে চাঙ্গা করে তুলতে পারে।

গান সবার জীবনের শান্তি কামনা করা হয়। সংগীতের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে এখন চিকিৎসাও করা হয়। সারা বিশ্বেই নানা ভাষায় সমান তালে সংগীতের চর্চা চলছে। সংগীত হোক মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় অ্যাডভান্স ও ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট কোর্সের পরীক্ষা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় অ্যাডভান্স ও ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট কোর্সের পরীক্ষা শুরু

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ বছর মেয়াদী অ্যাডভান্স সার্টিফিকেট ইন ফাইন আর্টস, কম্পিউটার টেকনোলজি ও ফিজিক্যাল এডুকেশন কোর্সের জানুয়ারি-ডিসেম্বর ২০২৬ সেশনের প্রথম পর্ব ও ভেটেরিনারি জুলায়-জুন ২০২৫-২০২৬ সেশনে দ্বিতীয় পর্বের সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষাটি শুরু হয়। এ কেন্দ্রে মোট ৩৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।

কেন্দ্র সচিব ফেরদাউস আরেফিন জানান, সকাল থেকেই সুন্দর ও শান্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষার সকল কার্যক্রম বোর্ডের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা ক্রিয়েটিভ ট্রেনিং এন্ড ভেটেরিনারি ইন্সটিটিউটের পরিচালক ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, আমার সব শিক্ষার্থী যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আশা করছি তারা ভালো ফলাফল করবে।

 

কয়রায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
কয়রায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রায় নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য রেলি বের হয়। সেটি উপজেলার সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদর্শন করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এসময় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মৃন্ময় কুমারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকি। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নির্বাচন অফিসার মোঃ আকবর হোসেন, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ, মদিনাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শহিদ সারোয়ার স্বর্ণকলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল আমিন প্রমুখ।

৩০ বছর পর সরকারি জমি উদ্ধারে নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
৩০ বছর পর সরকারি জমি উদ্ধারে নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মনিরামপুর পৌরসভা ভবন সংলগ্ন পাবলিক লাইব্রেরির পাশে প্রায় সাত শতক সরকারি জমি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর দখলমুক্ত করেছে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ওই জমি উদ্ধার করা হয়।দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিটি বিভিন্ন দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের অভিযানের পর জমিটি দখলমুক্ত হওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয় নাগরিক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর ভবন সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, পাবলিক লাইব্রেরি ও সরকারি প্রভাতি বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়। গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণ করায় দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের দিকে প্রভাবশালী একটি মহল নামমাত্র ডিসিআর নিয়ে প্রায় সাত শতক সরকারি জমি দখল করে সেখানে মুরগি, মুদি, মিষ্টি ও কসমেটিকসসহ বিভিন্ন দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছিল। পরবর্তীতে নাগরিকদের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট ডিসিআর বাতিল করে সরকার জমিটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ওই জমির একটি অংশ পুনরায় দখল করে পাঁচটি টিনশেড দোকান নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে কয়েকজনকে এসব দোকান ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মুরগির দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকায় দুর্গন্ধ ছড়ানো এবং পাশেই অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চা ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। সরকারি জমি দখলমুক্ত করার জন্য নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

সুতারং দখলমুক্ত হওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং উপজেলা প্রশাসন প্রশাংসায় ভাষছে ।