সুন্দরবনে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা, প্রয়োজন টেকসই উদ্যোগ
এমএ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার সুন্দরবন ও উপকূলীয় জনপদে পর্যটনের বিকাশ এবং নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সারাদেশে নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় প্রতিবছর দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসেন। নদী, খাল, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের অপূর্ব সমন্বয় সুন্দরবনকে দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। বিশেষ করে কলাগাছিয়া, আকাশলীনা, নীলডুমুর ও বুড়িগোয়ালিনী এলাকার সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটনের কাক্সিক্ষত বিকাশ ঘটাতে হলে অবকাঠামোগত যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপত্তা, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষিত গাইড, মানসম্মত নৌযান ও নিরাপদ ভ্রমণব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তাঁরা।
পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ, প্লাস্টিক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং অসচেতন কর্মকা- যাতে বন ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি না করে, সে জন্য কঠোর ও কার্যকর নজরদারি দরকার।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করে একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
পরিকল্পিত উদ্যোগ, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা গেলে সুন্দরবনভিত্তিক পর্যটন উপকূলীয় অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারে।









