মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

সুন্দরবনে হরিণের খন্ডিত মাথাসহ শিকারি আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে হরিণের খন্ডিত মাথাসহ শিকারি আটক

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে হরিণ শিকারের অভিযোগে আয়াতুল্লাহ গাজী (২২) নামের এক যুবককে আটক করেছে বন বিভাগ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে হরিণের খন্ডিত মাথা, কলিজা ও নাড়িভুঁড়ি এবং শিকারের ফাঁদসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সুন্দরবনের ময়দাপাশা খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। আয়াতুল্লাহ গাজী খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর এলাকার কুদ্দুস গাজীর ছেলে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, খুলনা রেঞ্জের বানিয়াখালী ফরেস্ট স্টেশনের আওতাধীন ময়দাপাশা খাল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি ডিঙি নৌকা, হরিণের খন্ডিত মাথা, আনুমানিক দেড় কেজি কলিজা ও নাড়িভুঁড়ি, প্রায় ৭০ মিটার ছিটকা ফাঁদ, একটি দা, একটি ছুরি এবং রক্তমাখা সাদা ককসিট জব্দ করা হয়।

বানিয়াখালী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা কে এম রাশেদ সাদাত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় আটক যুবকের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা করা হয়েছে।

Ads small one

শ্যামনগরে প্রতিবন্ধকতা জয় করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন সোহাগের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রতিবন্ধকতা জয় করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন সোহাগের

সংবাদদাতা: শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো স্বপ্নের পথ রুদ্ধ করতে পারে না-তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সোহাগ হোসেন। জন্মগত প্রতিবন্ধকতা ও চলাচলের তীব্র অসুবিধা সত্ত্বেও ভিক্ষাবৃত্তি বা অন্যের অনুকম্পার মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের মেধা ও পরিশ্রমে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য চেষ্টা করছে এই তরুণ।

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী হালদারের ছেলে সোহাগ হোসেন। জন্ম থেকেই তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। দুই পায়ে শক্তি পান না বললেই চলে; চলাফেরার একমাত্র সম্বল একজোড়া লাঠি। তবে জীবনের কঠিন বাস্তবতার কাছে হার মানেননি তিনি।

অনেকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে অজুহাত বানিয়ে সহজ পথ বেছে নিলেও সোহাগ হেঁটেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে। বর্তমানে তিনি নূরনগর বাজারের সর্বজনীন দুর্গামন্ডপসংলগ্ন সড়কের পাশে একটি অস্থায়ী দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। সেখানে তিনি বিক্রি করছেন নিজ বাড়িতে তৈরি হরেক রকমের সুস্বাদু কেক। সোহাগ জানান, ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশ ভালো সাড়াও পাচ্ছেন।

পরিবারকে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “বাড়িতে সম্পূর্ণ নিজস্ব উপায়ে মানসম্মত কেক তৈরিতে আমাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন আমার বড় বোন শারমিন সুলতানা এবং বাবা-মা। তাঁদের নিরলস সমর্থন না থাকলে আমি এত দূর আসতে পারতাম না।”

সোহাগের আকুল আবেদন, সরকার বা কোনো সামাজিক সংস্থার পক্ষ থেকে যদি তাঁকে এককালীন আর্থিক সহায়তা কিংবা কম্পিউটার বিষয়ের ওপর উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো, তবে তিনি আরও বড় পরিসরে নিজের আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলতে পারতেন এবং সমাজে আরও উন্নত জীবনযাপন করতে পারতেন।

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এই অনন্য প্রয়াস স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সুশীল সমাজের মতে, সোহাগের মতো আত্মপ্রত্যয়ী তরুণদের পাশে যদি সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দাঁড়ায়, তবে তাঁরা সমাজের বোঝা না হয়ে দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারেন।

 

যশোরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
যশোরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন

বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ (মঙ্গলবার) সকালে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে যশোরের আরবপুর ইউনিয়নের আদিবাসী সর্বজনীন পূজাম-প, দেয়াড়া চান্দুটিয়া পূজামন্ডপ, চুড়ামনকাটি দাসপাড়া মন্দির, কাশিমপুর বিজয়নগর কুন্ডুপাড়া মন্দির, নওয়াপাড়া বাহাদুরপুর সর্বজনীন পূজাম-পসহ বিভিন্ন পূজাম-প পরির্দশন ও ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবমূখর পরিবেশে এবারের দুর্গাপূজা উদযাপন করা হচ্ছে। দেশের সকল স্তরের মানুষ নির্বিঘেœ ও শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় উৎসব পালন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থানের উন্নয়নের পাশাপাশি সরকার মন্দির ও শ্মশানঘাটগুলোর উন্নয়ন করছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মাদক থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে হবে। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সন্তানদের সতর্ক করে দিবেন। মাদক সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে। তাদের খেলাধুলা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গুরুত্বসহকারে জানাতে হবে। খেলাধুলার মান উন্নয়নে যশোর জেলা স্টেডিয়াম নতুনভাবে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত এপ্রিলে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ হাসপাতালে দ্রুত করোনারী চিকিৎসা সুবিধা পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এখানে হৃদরোগের চিকিৎসা হবে, আপনাদের আর বিদেশে যেতে হবে না। তিনি নতুনভাবে যশোরকে গড়তে ও সাজাতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন মন্দির কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিকালে তিনি চাঁচড়া ইউনিয়নের বর্মনপাড়া মন্দির, রামনগর বাজুয়াডাঙ্গা সার্বজনীন মন্দির, নরেন্দ্রপুরের রূপদিয়া বাজার কালী মন্দির, কচুয়া রায়মানিক পূজা মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজাম-প পরিদর্শন করেন।

বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল ১৯ অক্টোবর রাতে যশোর চৌরাস্তা পূজাম-প, সুধীর ঘোষ পূজাম-প, বেজপাড়া সার্বজনীন পূজাম-প, শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম পূজাম-পসহ বিভিন্ন পূজাম-প পরিদর্শন ও ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তথ্যবিবরণী

বিশ্ব আয়োডিন ঘাটতিজনিত ব্যাধি প্রতিরোধ দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
বিশ্ব আয়োডিন ঘাটতিজনিত ব্যাধি প্রতিরোধ দিবস
সাকিবুর রহমান বাবলা
মানবদেহের সুস্থতা, শিশুর মেধাবিকাশ এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে আয়োডিনের ভূমিকা অপরিসীম। পরিমাণে অতি সামান্য প্রয়োজন হলেও এই অপরিহার্য অণুপুষ্টি উপাদানের অভাবে দেখা দিতে পারে গুরুতর শারীরিক, মানসিক ও হরমোনজনিত সমস্যা। প্রতি বছর ২১ অক্টোবর বিশ্ব আয়োডিন ঘাটতিজনিত ব্যাধি প্রতিরোধ দিবস পালনের উদ্দেশ্য হলো আয়োডিনের গুরুত্ব তুলে ধরা, ঘাটতিজনিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য পর্যাপ্ত আয়োডিন নিশ্চিত করা। প্রতিরোধযোগ্য এই পুষ্টিসংকট মোকাবিলায় ব্যক্তি, পরিবার, সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
১৯৮০-এর দশক থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ এবং আয়োডিন ঘাটতিজনিত ব্যাধি প্রতিরোধে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিশ্বব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করে। পরবর্তী সময়ে ২১ অক্টোবর দিবসটি পালনের মাধ্যমে আয়োডিনের ঘাটতি প্রতিরোধের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য সর্বজনীন লবণ আয়োডিনযুক্তকরণ, যাতে মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যের মাধ্যমে সহজে প্রয়োজনীয় আয়োডিনের জোগান নিশ্চিত করা যায়।
আয়োডিন একটি রাসায়নিক মৌল। এর প্রতীক I, পারমাণবিক সংখ্যা ৫৩ এবং এটি পর্যায় সারণির ১৭তম গ্রুপের হ্যালোজেন পরিবারের সদস্য। সাধারণ তাপমাত্রায় এটি চকচকে কালচে-বেগুনি কঠিন পদার্থ; উত্তপ্ত হলে সরাসরি বেগুনি বাষ্পে পরিণত হতে পারে, যা ঊর্ধ্বপাতন নামে পরিচিত। শিল্পকারখানায় প্রাকৃতিক ব্রাইন বা লবণাক্ত ভূগর্ভস্থ পানি এবং চিলির কিছু খনিজ আকরিক থেকে আয়োডিন উৎপাদন করা হয়। পরে খাদ্যোপযোগী লবণে নির্দিষ্ট মান অনুযায়ী পটাশিয়াম আয়োডেট বা উপযুক্ত আয়োডিন যৌগ মিশিয়ে আয়োডিনযুক্ত লবণ তৈরি করা হয়। উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে এর মান নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
মানবদেহ নিজে আয়োডিন তৈরি করতে পারে না। গলার সামনের দিকে অবস্থিত থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন (টি৪) ও ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন (টি৩) হরমোন তৈরির অপরিহার্য উপাদান হলো আয়োডিন। টি৪-তে চারটি এবং টি৩-তে তিনটি আয়োডিন পরমাণু থাকে। এসব হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, কোষের বৃদ্ধি, প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আয়োডিনের প্রাকৃতিক উৎসের মধ্যে সমুদ্রের পানি, সামুদ্রিক শৈবাল, মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার উল্লেখযোগ্য। সমুদ্র থেকে বাষ্পীভবন ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিবহনের মাধ্যমে আয়োডিন স্থলভাগে পৌঁছায় এবং বৃষ্টির সঙ্গে মাটিতে ফিরে আসে। তবে সমুদ্র থেকে দূরবর্তী অঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা এবং বন্যায় মাটির উপরিভাগ ক্ষয়প্রাপ্ত অঞ্চলে আয়োডিনের প্রাপ্যতা কম হতে পারে। ফলে সেসব অঞ্চলের মাটি ও খাদ্যশস্য থেকে পর্যাপ্ত আয়োডিন না-ও পাওয়া যেতে পারে। এ কারণে খাদ্যোপযোগী লবণ আয়োডিনযুক্ত করা জনস্বাস্থ্যের একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী কৌশল।
আয়োডিনের ঘাটতিজনিত রোগসমষ্টিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে আয়োডিন ডেফিশিয়েন্সি ডিসঅর্ডার্স (আইডিডি) বলা হয়। শরীরে আয়োডিন কমে গেলে থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না। রক্তে হরমোনের মাত্রা কমে গেলে মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে থাইরয়েড-উদ্দীপক হরমোন-এর নিঃসরণ বাড়তে পারে। এর প্রভাবে থাইরয়েড গ্রন্থির কোষ বৃদ্ধি পেয়ে গ্রন্থিটি ফুলে যায়; এ অবস্থাকে গলগণ্ড বা ঘ্যাগ রোগ বলা হয়। দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতিতে হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দিতে পারে। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে ক্লান্তি, অলসতা, শীত শীত ভাব, শুষ্ক ত্বক, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ওজন বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য।
আয়োডিনের অভাবের সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে গর্ভস্থ শিশু ও শৈশবের বিকাশে। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে তীব্র ঘাটতি থাকলে ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক গঠন ব্যাহত হতে পারে। ফলে শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি, ব্যবহার করতে হবে; তবে বেশি লবণ খেয়ে আয়োডিনের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা যাবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক লবণ গ্রহণ পাঁচ গ্রামের কম রাখার পরামর্শ দেয়। লবণ শুকনো, পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত পাত্রে আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখতে হবে। রান্নার তাপে আয়োডিনের কিছু অংশ নষ্ট হতেশেখার ক্ষমতা, শ্রবণশক্তি, কথা বলা এবং চলাফেরার বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গুরুতর ক্ষেত্রে জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম ও ঐতিহাসিকভাবে ক্রিটিনিজম নামে পরিচিত গুরুতর বিকাশগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব এবং অন্যান্য গর্ভকালীন জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
গর্ভধারণ থেকে শিশুর জীবনের প্রথম দুই বছর মস্তিষ্কের বিকাশের অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। এ সময় আয়োডিনের তীব্র ঘাটতিতে মস্তিষ্কের যে ক্ষতি হয়, তা পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণভাবে পূরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি, হাড়-পেশির বিকাশ, ভাষা শেখা, মনোযোগ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত থাইরয়েড হরমোন অপরিহার্য। বড়দের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি কর্মক্ষমতা, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে এসব সমস্যার অন্যান্য কারণও রয়েছে; তাই উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ সর্বজনীন লবণ আয়োডিনযুক্তকরণকে আয়োডিন ঘাটতিজনিত ব্যাধি প্রতিরোধের প্রধান কৌশল হিসেবে সুপারিশ করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে প্রায় ১৮০ কোটি মানুষের অপর্যাপ্ত আয়োডিন গ্রহণের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে; তবে পরিসংখ্যানটি প্রতিবেদন ও সময়ভেদে পরিবর্তিত হয়। সাধারণভাবে দৈনিক আয়োডিনের চাহিদা শিশুদের ক্ষেত্রে বয়সভেদে প্রায় ৯০–১২০ মাইক্রোগ্রাম এবং কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ১৫০ মাইক্রোগ্রাম। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নির্দেশিকায় দৈনিক মোট গ্রহণের প্রায় ২৫০ মাইক্রোগ্রামের সুপারিশ রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশে ১৯৮৯ সালে আয়োডিন ঘাটতিজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয় এবং ১৯৯৪ সালে এ-সংক্রান্ত বাস্তবায়নবিধি চালু হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের ২০২৫ সালের বহুমাত্রিক ক্লাস্টার জরিপে পরিবারের রান্নার লবণে আয়োডিনের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়েছে। আইন ও কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার, উৎপাদন পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ, বাজার তদারকি এবং ভোক্তা সচেতনতা নিশ্চিত করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত কম দামের কারণে খোলা ও আয়োডিনবিহীন লবণ কেনার প্রবণতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
আয়োডিনের অন্যান্য খাদ্য উৎস হলো সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, দুধ, দই ও ডিম। তবে এসব খাবারে আয়োডিনের পরিমাণ উৎস ও উৎপাদনপদ্ধতিভেদে পরিবর্তিত হয়। দৈনিক চাহিদা পূরণে অনুমোদিত আয়োডিনযুক্ত লবণ পারে, তাই সঠিক সংরক্ষণ ও প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে আয়োডিনের ঘাটতি মূল্যায়নে রক্তের টি‌এস‌এইচ ও ফ্রি টি৪ পরীক্ষা, প্রয়োজনে অন্যান্য থাইরয়েড পরীক্ষা এবং থাইরয়েড গ্রন্থির আল্ট্রাসনোগ্রাফি ব্যবহার করা হয়। প্রস্রাবে আয়োডিনের মাত্রা জনগোষ্ঠীর পুষ্টিগত অবস্থা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সূচক; তবে একবারের প্রস্রাব পরীক্ষায় ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি নিশ্চিত করা যায় না। চিকিৎসায় ঘাটতির কারণ ও তীব্রতা অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস সংশোধন, চিকিৎসকের পরামর্শে আয়োডিন সম্পূরক এবং হাইপোথাইরয়েডিজম হলে লেভোথাইরক্সিন দেওয়া হতে পারে। গলগণ্ড বড় হয়ে শ্বাস বা খাবার গিলতে সমস্যা সৃষ্টি করলে কিংবা অন্য চিকিৎসাগত কারণ থাকলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। অতিরিক্ত আয়োডিনও থাইরয়েডের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে; তাই নিজে থেকে সম্পূরক গ্রহণ করা উচিত নয়।
বিশ্ব আয়োডিন ঘাটতিজনিত ব্যাধি প্রতিরোধ দিবসের মূল বার্তা হলো—প্রতিরোধযোগ্য এই পুষ্টিসংকট মোকাবিলায় সচেতনতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত জনস্বাস্থ্য জরিপ এবং গর্ভবতী মা ও শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে ঘাটতিজনিত রোগের বোঝা কমানো সম্ভব। সামান্য আয়োডিনের যথাযথ জোগান একটি শিশুর মেধা, একটি পরিবারের সুস্থতা এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।