মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

আশাশুনিতে তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকেরা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলায় দিন-রাত জুড়ে মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে-বাইরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের কষ্ট ওষ্ঠাগত রূপ নিয়েছে।

 

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, উপজেলায় লোডশেডিং এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে সবার। রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন কর্মজীবনে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকটে মোমবাতি ও বিকল্প আলো জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে বাধ্য হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। উপজেলার বিদ্যুতনির্ভর দোকানপাট, ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান, ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাতগুলো নিয়মিত লোকসানের মুখে পড়ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে দামি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব ও চাহিদার তুলনায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় এই সংকট বারবার দেখা দিচ্ছে। এই জনদুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরা-০৩ আসনের সংসদ সদস্য মুজাদ্দিস রবিউল বাশার কথা বলেছেন এবং দ্রুত সুরাহার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

Ads small one

দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে আটক রেনু পোনা খালে অবমুক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে আটক রেনু পোনা খালে অবমুক্ত

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় থানা পুলিশের অভিযানে আবারও বিপুল পরিমাণ মাছের রেনু পোনা আটক করা হয়েছে। আটক রেনু পোনাগুলো ভারতীয় বলে জানায় পুলিশ। উদ্ধারকৃত রেনু পোনা পরবর্তীতে বসন্তপুর এলাকার দেবহাটা খালে অবমুক্ত করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা থানার এসআই নকীব পান্নু সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গত ২২ জুন ২০২৬ রাত ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পাকা সড়কে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় রাস্তার ওপর পরিত্যক্ত অবস্থায় মুখ বাঁধা একটি প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পেয়ে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে সেটি খুলে দেখা হয়। বস্তার ভেতরে চারটি পলিবলে ভরা মাছের রেনু পোনা পাওয়া যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিটি পলিবলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার করে রেনু পোনা ছিল। উদ্ধারকৃত রেনুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

উদ্ধারের পর বিষয়টি দেবহাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। রেনু পোনা দ্রুত মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিমের উপস্থিতিতে পুলিশ সদস্য ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে রাতেই বসন্তপুর এলাকার দেবহাটা খালে রেনু পোনাগুলো অবমুক্ত করা হয়।

এ সময় ওসি আব্দুল আলিম সকল ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সতর্ক করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেবহাটা থানা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

 

আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সংলাপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সংলাপ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় যুব-নেতৃত্বে দুর্যোগের উপর স্থায়ী আদেশাবলী (এসওডি) ও আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন-২০২৬) সকাল ১০ টায় সদর উপজেলা উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সিডো বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সিডো সংস্থার প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাস’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত।

এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: শাহিনুল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন অফিস সাতক্ষীরা বাবলু রাজা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সাতক্ষীরার প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সেনেটারী ইন্সপেক্টর মো: আবুল হোসেন, উপজেলা ঈমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা শেখ মাহবুবুর রহমান, ব্রক্ষরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল হুদা,ক্রিসেন্ট এর পরিচালক আবু জাফর সিদ্দিকী, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ওসিসি আব্দুল হাই সিদ্দিক, গাভা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ শিবপদ গাইনসহ সাংবাদিকবৃন্দ ।

দুর্যোগ সম্পর্কিত স্থায়ী আদেশাবলী (এসওডি) সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করা। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসমূহকে সক্রিয় করা এবং ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসমূহে যুবকদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। ঘাটতিসমূহ চিহ্নিত করে এবং নারী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য আশ্রয় সুবিধার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে লিঙ্গ-সংবেদনশীল জরুরি আশ্রয় ব্যবস্থাপনার উন্নতি সাধন করা। যুব-নেতৃত্বাধীন সৃজনশীল অংশগ্রহণ ও যোগাযোগের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রস্তুতি, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। উন্নত দুর্যোগ সুশাসন ও জবাবদিহিতার জন্য যুবসমাজ, স্থানীয় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক সংলাপ সহজতর করার উদ্দেশ্যে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় ।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বলেন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দুর্যোগের স্থায়ী আদেশাবলী (এসওডি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে এ ধরণের প্রোগ্রাম করলে আর ও ভাল হবে। সাতক্ষীরা দুর্যোগ প্রবণ এলাকা এখানের মানুষকে অবশ্যই দুর্যোগ কালিন সময়ে নিজেদের সচেতন হতে হবে যুবদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাপ করতে হবে।

 

সকলের উপস্থিতিতে এ ধরণের যুগোপযোগি প্রোগ্রাম করলে সকলের দায়িত্ববোধ কাজ করবে তিনি বলেন যুবদের ইউনিয়নের অন্যান্য কমিটিতে অর্ন্তভূক্তি করার সম্মতি প্রদান করেন। যুব সদস্যরা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত হওয়ার প্রস্তাব করেন যা আগামীতে অর্ন্তভূক্তি ও প্রস্তাবিত দাবসমুহ পুরণ করার আশ্বাস প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী, মোঃ তহিদুজ্জামান (তহিদ), ইন্সপেরিটর একশনএইড বাংলাদেশ নয়ন হোসেন, প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্র শেখর হালদার প্রমুখ।

নগরঘাটা রহমতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদে ধস, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
নগরঘাটা রহমতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদে ধস, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৭নং নগরঘাটা ইউনিয়নের রহমতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষের ছাদের অংশ ফের ধসে পড়েছে। সোমবার (২২ জুন) বেলা আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশে থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সোমবার শিক্ষার্থীরা সকালের সমাবেশে অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ করে কক্ষটির ছাদের একটি অংশ ভেঙে নিচে পড়ে। বিকট শব্দে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগেও একই শ্রেণিকক্ষের ছাদের অংশ ধসে পড়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শিবানী ব্যানার্জী আহত হয়েছিলেন।

 

ওই ঘটনার পর ভবনটির সংস্কার বা ঝুঁকিমুক্ত করার দাবি উঠলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বারবার ছাদ ধসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ভীতি তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ওই কক্ষে পাঠদান করতে অনীহা প্রকাশ করছে। অভিভাবকদেরও উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, “বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যেও দুশ্চিন্তা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা শিক্ষা অফিসে লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছি।”

স্থানীয় অভিভাবকেরা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাঠদান চলতে পারে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ভবনটির সংস্কার কিংবা বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, “বিদ্যালয় ভবনের ছাদ ধসের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদনও পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভবনটির অবস্থা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”