রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

স্নানযাত্রা: ভক্তি, সমতা ও আত্মশুদ্ধির এক চিরন্তন মহোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
স্নানযাত্রা: ভক্তি, সমতা ও আত্মশুদ্ধির এক চিরন্তন মহোৎসব

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সোমবার পূর্ণিমা তিথি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনেই পালিত হয় ভগবান শ্রী জগন্নাথদেব-এর পবিত্র স্নানযাত্রা মহোৎসব। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে ভগবান জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা এবং সুদর্শন চক্র-কে ১০৮টি কলশের সুগন্ধি ও পবিত্র জলে মহাঅভিষেক করানো হয়। লক্ষ লক্ষ ভক্তের বিশ্বাস, এই মহোৎসবের দর্শন ও স্মরণ মানুষকে ঈশ্বরের প্রতি আরও নিবেদিত হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং আত্মশুদ্ধির পথ প্রশস্ত করে। তবে এসব আধ্যাত্মিক ফলাফল ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ, যা ব্যক্তিগত আস্থার ওপর নির্ভরশীল।

 

স্নানযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি ভারতীয় উপমহাদেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমতার দর্শনের এক অনন্য প্রতীক। এমন এক সময়ে, যখন সমাজে বিভাজন, অসহিষ্ণুতা, ভোগবাদ এবং নৈতিক অবক্ষয়ের নানা চিত্র সামনে আসে, তখন জগন্নাথের এই মহোৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñধর্মের মূল শিক্ষা মানুষকে ভালোবাসা, বিনয়, আত্মসংযম ও সহমর্মিতার পথে পরিচালিত করা। বৈষ্ণব ঐতিহ্যে প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, ব্রহ্মার মানসপুত্র স্বায়ম্ভুব মনু ভগবানের দর্শন লাভের জন্য কঠোর তপস্যা ও যজ্ঞ সম্পন্ন করেন। সেই যজ্ঞবেদী থেকেই জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় ভগবান জগন্নাথের আবির্ভাব ঘটে বলে বিশ্বাস করা হয়।

 

আবির্ভাবের পর তিনি সুগন্ধি ও শীতল জলে অভিষেক করার নির্দেশ দেন, যাতে ভক্তসমাজ পবিত্রতার শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। পরবর্তীকালে রাজা ইন্দ্রদ্যু¤œ স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুরীতে জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা ও সুদর্শন চক্রকে প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১০৮টি কলশের জল দিয়ে মহাঅভিষেকের সূচনা করেন বলে ঐতিহ্যে বর্ণিত রয়েছে। সেই ধারা আজও অব্যাহত রয়েছে। ইতিহাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্য এখানে একে অপরের পরিপূরক। গবেষকরা যেমন এই উৎসবের সাংস্কৃতিক বিবর্তন বিশ্লেষণ করেন, তেমনি ভক্তরা এটিকে ভগবানের লীলারূপে অনুভব করেন।

 

এই দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গিই স্নানযাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।হিন্দু দর্শনে ১০৮ সংখ্যার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। জপমালার দানা ১০৮টি, বহু মন্ত্র ১০৮ বার জপের বিধান রয়েছে, আবার বিভিন্ন শাস্ত্রেও ১০৮ সংখ্যাকে পূর্ণতার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই ১০৮ কলশের জল দিয়ে ভগবানের স্নান কেবল একটি আচার নয়; এটি পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও সর্বাঙ্গীণ পবিত্রতার প্রতীক। স্নানযাত্রার পর ভগবান প্রায় পনেরো দিন সাধারণ দর্শনের বাইরে থাকেন। এই সময়কে “অনবসর” বলা হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, অতিরিক্ত স্নানের কারণে তিনি অসুস্থ হন এবং সেবায়েতরা তাঁকে সেবা করেন। এই কাহিনির অন্তর্নিহিত শিক্ষা গভীর। ঈশ্বর নিজেই মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ, অসুস্থতা ও বিশ্রামের প্রতীকী অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছেন।

 

ভক্তদের জন্য এটি ধৈর্য, অপেক্ষা এবং বিশ্বাসের শিক্ষা। এরপর নবযৌবন দর্শন এবং রথযাত্রার মাধ্যমে নতুন উদ্যমে তাঁর আবির্ভাব যেন পুনর্জাগরণের বার্তা বহন করে। জগন্নাথ সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সর্বজনীনতা। স্নানযাত্রার দিন ভগবান নিজেই মন্দির থেকে বেরিয়ে আসেন, যেন তিনি মানুষের কাছে পৌঁছে যান। এখানে জাতপাতের বিভাজন, ধনী-গরিবের ভেদ কিংবা সামাজিক মর্যাদার পার্থক্য গৌণ হয়ে যায়।

 

আজকের পৃথিবীতে ধর্মের নামে যখন বিভেদ সৃষ্টি হয়, তখন জগন্নাথের এই উৎসব আমাদের শেখায়Ñসত্যিকারের ধর্ম মানুষকে বিভক্ত করে না; বরং একত্রিত করে। স্নানযাত্রার মূল শিক্ষা বাহ্যিক নয়, অন্তর্নিহিত। যেমন ভগবানের বিগ্রহ পবিত্র জলে স্নাত হয়, তেমনি মানুষের মনও হিংসা, লোভ, অহংকার, প্রতারণা ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হওয়া উচিত। যদি একজন মানুষ প্রতিদিন অন্যকে কষ্ট দেয়, দুর্নীতি করে, অসত্য বলে, কিন্তু বছরে একদিন বড় আয়োজন করে পূজা করেÑতবে ধর্মের প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।

 

প্রকৃত ভক্তি হলো চরিত্রে সততা, আচরণে নম্রতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা। বর্তমান সময়ে মানুষ প্রযুক্তিতে যত এগিয়েছে, মানসিক শান্তি যেন তত দূরে সরে গেছে। প্রতিযোগিতা, ভোগবাদ, সামাজিক অস্থিরতা এবং পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা মানুষের জীবনে চাপ বাড়াচ্ছে। এমন বাস্তবতায় স্নানযাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñঅন্তরের পরিচ্ছন্নতা বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে বড়। মানুষে মানুষে ভালোবাসাই ধর্মের মূল ভিত্তি।

 

অহংকার নয়, বিনয় মানুষকে মহৎ করে। ঈশ্বরের আরাধনা তখনই অর্থবহ, যখন তা মানুষের কল্যাণে প্রতিফলিত হয়। ধর্মীয় উৎসব মানেই কেবল আলোকসজ্জা বা আয়োজন নয়। যদি স্নানযাত্রা উপলক্ষে অসহায় মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া যায়, হাসপাতালের রোগীদের পাশে দাঁড়ানো যায়, গাছ লাগানো যায়, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা যায় কিংবা অসহায় শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো যায়Ñতবে সেটিই হবে ভগবানের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। জগন্নাথের দর্শন মানুষের মধ্যে সেবার মনোভাব জাগ্রত করুকÑএটাই হওয়া উচিত আমাদের প্রত্যাশা।

 

বাংলাদেশেও বিভিন্ন জগন্নাথ মন্দিরে স্নানযাত্রা ও রথযাত্রা উপলক্ষে পূজা, কীর্তন, প্রসাদ বিতরণ এবং ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; বরং সম্প্রীতি, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সৌহার্দ্যেরও বাহক। বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজে এ ধরনের উৎসব পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।স্নানযাত্রা আমাদের শেখায়Ñমানুষের প্রকৃত পরিচয় তার ধর্মীয় পরিচয়ে নয়, তার মানবিকতায়। ভগবান জগন্নাথের করুণাময় দর্শনের মূল শিক্ষা হলো ভালোবাসা, সমতা, আত্মশুদ্ধি এবং মানবকল্যাণ।

 

আমরা যদি এই উৎসবের বাহ্যিক আচার পালনের পাশাপাশি অন্তরের অশুচিতা দূর করতে পারি, অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারি, সততা ও ন্যায়ের পথে চলতে পারি, তবেই স্নানযাত্রার প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা সম্ভব হবে। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবানের স্নানযাত্রা দর্শন আত্মিক কল্যাণের এক বিরল সুযোগ। আর সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি এমন এক উৎসব, যা মানুষকে বিভেদ ভুলে একসঙ্গে চলার আহ্বান জানায়।

লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

আশাশুনির রেস্টুরেন্টগুলোতে লাগাম টানবে কে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনির রেস্টুরেন্টগুলোতে লাগাম টানবে কে?

সম্পাদকীয়

আশাশুনিসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকান। আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের বাইরে খাওয়ার প্রবণতা যেমন বেড়েছে, তেমনি একে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল বাণিজ্যিক পরিম-ল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আশাশুনির বুধহাটা, সদর বাজার, প্রতাপনগর কিংবা গুনাকরকাটির মতো জনবহুল এলাকার অধিকাংশ রেস্টুরেন্টেই এখন চলছে ভোক্তার পকেট কাটা এবং স্বাস্থ্য ধসের এক নীরব উৎসব। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাব এবং একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর অতিমুনাফার লোভের কারণে এখানকার সাধারণ ভোক্তারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উপজেলার অধিকাংশ রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড শপের রান্নাঘর চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। ফ্রিজে দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা ও রান্না করা মাছ-মাংস একসাথে ফেলে রাখা হচ্ছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, পোড়া তেল বারবার ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে হরেক পদের ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড। মেন্যুর আকর্ষণীয় নামের আড়ালে নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার এবং আকাশচুম্বী দাম আদায় এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এমনকি বহু প্রতিষ্ঠানের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স কিংবা ফুড গ্রেড সনদ পর্যন্ত নেই।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের বাসি, পচা এবং পোড়া তেলে ভাজা খাবার শরীরে এক প্রকার বিষের মতো কাজ করে। এটি শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্যে বিষক্রিয়া বা গ্যাস্ট্রিকের ব্যবস্থাপনাই নষ্ট করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে লিভার নষ্ট হওয়া, হৃদরোগ এবং ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি ডেকে আনে। অর্থাৎ, টাকার বিনিময়ে আশাশুনির মানুষ আসলে রোগ কিনে বাড়ি ফিরছেন।

নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য পাওয়া নাগরিকের কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলে কোনো ব্যবসাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে দেওয়া যায় না।

অধিকাংশ ব্যবসায়ী সততার সাথে ব্যবসা করতে চাইলেও, এই গুটি কয়েক অসাধু চক্রের কারণে পুরো খাদ্য খাতের ওপর মানুষের আস্থা চিরতরে উঠে যাচ্ছে। এই অচলাবস্থা ভাঙতে হলে উপজেলা প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে কেবল কাগজের দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আশাশুনির প্রতিটি ছোট-বড় বাজারে আকস্মিক ও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

 

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ পেলেই শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান সিলগালা ও কারাদ-ের মতো কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি, ভোক্তাদেরও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন দেখলেই তা বর্জন করা এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানো নাগরিক দায়িত্ব। আশাশুনির মানুষের সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখে দিতে একটি সমন্বিত ও কার্যকর অভিযান এখন সময়ের দাবি।

শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালুর হত্যাবার্ষিকী পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালুর হত্যাবার্ষিকী পালিত

পত্রদূত রিপোর্ট: শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় খুলনা অঞ্চলের সাহসী সাংবাদিকতার বাতিঘর এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালুর ২২তম হত্যাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার বিকেলে দৈনিক জন্মভূমি ভবনে এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা শহীদ হুমায়ূন কবীর বালুকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থাকা এক কিংবদন্তি সাংবাদিক ও সাংবাদিকদের আসল আশ্রয়স্থল হিসেবে অভিহিত করেন।

দৈনিক জন্মভূমির যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ আবু তৈয়বের সভাপতিত্বে এবং উপ-সম্পাদক সোহরাব হোসেনের পরিচালনায় এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, শহীদ হুমায়ূন কবীর বালু ছিলেন একজন সদালাপী, বন্ধুবৎসল ও মহানুভব মানুষ। পেশাগত জায়গায় তিনি সাংবাদিকদের নিজের পরিবারের সদস্যের মতো আগলে রাখতেন। যেকোনো বিপদে সবার আগে ছুটে যেতেন। শাসন করার পর আবার পরম মমতায় বুকে টেনে নিতেন।

কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে বক্তারা আরও বলেন, তৎকালীন সময়ে এই অঞ্চলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনসমূহ এবং কুখ্যাত অপরাধী এরশাদ শিকদারের নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে তাঁর সম্পাদিত ‘দৈনিক জন্মভূমি’ ও ‘দৈনিক রাজপথের দাবী’ পত্রিকায় সাংবাদিকেরা নির্ভীকভাবে লিখতেন। এই সাহসী সাংবাদিকতার পেছনে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

পেশাগত পরিচয়ের বাইরে হুমায়ূন কবীর বালু ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। এ ছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে খুলনা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে যে নাগরিক কমিটি গঠিত হয়েছিল, তিনি ছিলেন তার আহ্বায়ক। বক্তারা তাঁর এই বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও সাহসিকতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার জন্য নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন খুলনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, মকবুল হোসেন মিন্টু, এস এম জাহিদ হোসেন, মোতাহার রহমান বাবু, খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন সজল, ‘আমার একুশে’ পত্রিকার সম্পাদক আতিয়ার পারভেজ, মাহমুদুল হাসান সোহেল, নাগরিক নেতা বাবুল হাওলাদার এবং নাজমুল করিম তুষার।

অনুষ্ঠানে দৈনিক জন্মভূমির নির্বাহী সম্পাদক সরদার আবু তাহের, মহেন্দ্রনাথ সেন, রকিবউদ্দীন পান্নু, ‘খুলনা প্রতিদিন’-এর সম্পাদক সোহাগ দেওয়ান, এইচ এম শামীমুজ্জামান, সুনীল দাস, বিমল সাহা, নুরুল আমিন, রাজু আহম্মেদ, রামিম, আবুল বাশার, বিধান রায়, এস এম মারুফ হোসেন এবং ওমর ফারুক কচিসহ জন্মভূমি পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সাতক্ষীরায় চরমোনাইয়ের ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় চরমোনাইয়ের ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকির

বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা শহরে ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকির অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার স্থানীয় একটি ময়দানে এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত থেকে বয়ান পেশ করেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

 

বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মুফতি রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে মাহফিলে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল। দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিল শেষ হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি