রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

আলোর কারিগর : ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
আলোর কারিগর : ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়

আখলাকুর রহমান

যে মানুষ চব্বিশ ঘণ্টায় বশ মানিয়েছিলেন প্রমত্তা ঝিলাম নদীকে, নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে তাঁকেই হার মানতে হলো একটা ট্রেনের হুইসেলের কাছে, যা তাঁর বধির কান কোনোদিন শুনতেই পায়নি। সাতক্ষীরার বাবুলিয়া বাজারের কুমোরপাড়া পেরোলেই আজও দাঁড়িয়ে আছে সেই মানুষটির স্মৃতিচিহ্ন, জয়মনি শ্রীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ইটের পাঁজর বেরিয়ে পড়া দেয়ালগুলোর দিকে তাকালে আজ একে নিছক পুরনো একটা স্কুলবাড়ি বলেই মনে হয়, অথচ এর প্রতিটি কোণে মিশে আছে এক মহৎপ্রাণ মানুষের নিঃসঙ্গ দীর্ঘশ্বাস। আমরা আজ ক জনই বা চিনি সেই মানুষটিকে, যিনি নিজের সঞ্চিত সম্পদ ঢেলে দিয়েছিলেন এই জনপদের অবহেলিত সন্তানদের হাতে আলোর মশাল তুলে দিতে? সময়ের নিষ্ঠুর গ্রোতে সাতক্ষীরার বুক থেকেই আজ হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান, ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়।

১৮৪৭ সালে বাবুলিয়ার এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন এই মানুষটি। কিন্তু তিনি ছিলেন কেবল নামেই জমিদার নন, হৃদয়ের বিচারে ছিলেন এক প্রকৃত মহাজন। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন এমন এক অসম্ভবকে সম্ভব করা কারিগর, যাঁর মেধার কাছে হার মেনেছিল প্রকৃতির রুদ্ররূপও। ভারত ও পাকিস্তানের বুক চিরে বয়ে চলা প্রমত্তা ঝিলাম নদীর ওপর যখন একটি ব্রিজ নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছিল, তখন পাহাড়ি ঢল আর উত্তাল গ্রোতের সামনে নতিস্বীকার করেছিলেন বাঘা বাঘা প্রকৌশলীও। অথচ সবাইকে চমকে দিয়ে, প্রকৃতির সেই ভয়াল রূপকে টেক্কা দিয়ে মাত্র চব্বিশ ঘণ্টায় সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছিলেন সাতক্ষীরার এই কৃতী সন্তান। তাঁর এই অবিশ্বাস্য মেধা আর অসামান্য কীর্তির স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ভূষিত করেছিল রাও সাহেব উপাধিতে।

অথচ ইতিহাসের কী নির্মম পরিহাস। যিনি অন্যের চলার পথ মসৃণ করতে নিজের জীবন উজাড় করে দিয়েছিলেন, তাঁর নিজের শেষ জীবনের পথটাই হয়ে উঠেছিল ভীষণ কণ্টকাকীর্ণ। মা বাবার স্মৃতিরক্ষার্থে গড়ে তোলা জয়মনি শ্রীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল তাঁর প্রাণের চেয়েও প্রিয়। একদিন এই স্কুলেই ক্লাস নেওয়ার সময় তাঁর কাছে খবর আসে, তাঁর বড় ছেলে আর এই পৃথিবীতে নেই। বুকভাঙা সেই আর্তনাদ ভেতরে চেপে রেখে, ছলছল চোখে তিনি সামনে বসে থাকা ছাত্রদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, আজ আমার একটা ছেলে চলে গেছে তো কী হয়েছে, এই যে আমার সামনে শত শত ছেলে বসে আছে, তোমরাই তো আমার সন্তান। এমন হৃদয়ের ঔদার্য ক জন মানুষের মধ্যে দেখা যায়?

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এই মহৎ মানুষটি কানে প্রায় কিছুই শুনতে পেতেন না। ১৯১৬ সালের এক অভিশপ্ত দিনে কলকাতার উখড়া স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। পেছন থেকে ধেয়ে আসছিল একটি দ্রুতগামী ট্রেন। চারপাশের মানুষ আতঙ্কে চিৎকার করে বলছিল, রাও সাহেব থামুন, সরুন। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম পরিহাসে সেই বধির কানে পৌঁছায়নি কোনো সতর্কবার্তা। ট্রেনের সেই মরণঘাতী ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে কলকাতার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। অবশেষে ১৯১৬ সালের ১৭ই মার্চ হাসপাতালের চার দেয়ালের মাঝে চিরতরে নিভে যায় এই প্রদীপ্ত প্রাণ।

ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় ছিলেন এক জাদুকরি কর্মবীর, যাঁর দূরদৃষ্টি আর মানবিকতা সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত জনপদে পৌঁছে দিয়েছিল শিক্ষার আলো। অথচ আজ আমাদের নতুন প্রজন্ম হয়তো তাঁর নামটাই ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারে না। আমাদের ঘরের কাছের এই মহামানবকে কি আমরা উপযুক্ত সম্মান দিতে পেরেছি? স্থানীয় পত্রিকার পাতায় আজ এই প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে, যিনি আমাদের গর্ব, তাঁকে কি আমরা হৃদয়ে জায়গা দিতে পেরেছি, নাকি বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে দিচ্ছি নিজেদেরই এক সোনালী ইতিহাসকে?

 

Ads small one

পাইকগাছা লোনাপানি কেন্দ্র পরিদর্শনে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছা লোনাপানি কেন্দ্র পরিদর্শনে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় অবস্থিত লোনাপানি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র। গত ১০ ও ১১ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই টানা দুদিন তিনি কেন্দ্রের চলমান বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে মহাপরিচালক কেন্দ্রের সামগ্রিক গবেষণার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় তিনি গবেষণার মানোন্নয়ন ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
লোনাপানি কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কেন্দ্রপ্রধান ড. আজহার আলীর তত্ত্বাবধানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গোলাম সাজেদ রিয়ার, শফিকুল আলম রুবেল, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা ও সায়মা সুলতানা সোননিয়াসহ কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

 

কালিগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির কবলে একই পরিবারের তিনজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
কালিগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির কবলে একই পরিবারের তিনজন

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে খাবারের সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে একই পরিবারের তিনজনকে অজ্ঞান করা হয়েছে। তবে পরিবারের এক সদস্য বিষয়টি বুঝতে পারায় ক্ষয়ক্ষতির কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে পরিবারটি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উপজেলার কুশলিয়া গ্রামের মৃত এছাক সরদারের স্ত্রী মাছাঃ রিজিয়া খাতুন (৪৫) জানান, ৯ জুলাই দিবাগত রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের রান্নাঘরে গোপনে প্রবেশ করে রাতের খাবারের সাথে রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে দেয়। তিনি এবং পরিবারের অপর ৪ সদস্য রাত ১১টার দিকে ওই খাবার খান। এতে ৩জন তাৎক্ষণিকভাবে জ্ঞান হারান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তার মেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তিনজনকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযোগে তিনি আরও জানান, ১১জুলাই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও তারা এখনও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারেননি। এ ছাড়া ঘটনার পর থেকে পরিবারের সবাই আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। ক্ষয়ক্ষতির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।
এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

তালায় ৯ বছরেন শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
তালায় ৯ বছরেন শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

‎তালা প্রতিনিধি: ‎সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউেিয়নের মহন্দী পূর্বপাড়া গ্রামে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
‎জানাগেছে, রোববার দুপুরে ওই শিশুটি রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় মহন্দী পূর্বপাড়ার মৃত হোসেন মোল্লার ছেলে জাকির মোল্লা বাবু (৩৫) শিশুটিকে কৌশলে পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ চেষ্টা করলে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে জাকির মোল্লা বাবু পালিয়ে যায়।
‎এব্যপারে তালা থানার ওসি (তদন্ত) শাখাওয়াত হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিশুটির হাত ধরে টানছিলেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
‎এদিকে ঘটনার পর থেকে জাকির মোল্লা তার ফোন বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‎এদিকে, এ ঘটনায় থানায় মামলা বন্ধ রেখে বিষয়টি আপোষ মিমাংসার জন্য এলাকার একটি মহল অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।