শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান-এর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান-এর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

সংবাদদাতা: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রথিতযশা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান-এর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) বিকাল ৪টায় শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশনের সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের সহ-সভাপতি সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন।

 

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় অধ্যাপক ডাক্তার এম আর খান সাতক্ষীরা তথা দেশের গর্ব। তিনি তার জীবদ্দশায় শিশুদের সেবায় ও কল্যাণে আজীবন কাজ করে গেছেন। প্রতিযশা শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ এম আর খান দেশের মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালকে ৫০ সজ্জা বিশিষ্ট হাসপাতালে পরিণত করার পরিকল্পনা আছে আমাদের।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ আবুল কালাম বাবলা, শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’র মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার রেজা করিম ও ট্রেজারার ওবায়দুল কবির খান প্রমুখ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন একরামুল কবির খান, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব তৈয়েব হাসান বাবু, ডাঃ সুশান্ত ঘোষ প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন বিভিন্ন সেক্টরের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন অতিথিবৃন্দ। প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ডাক্তার এম আর খানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।

সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের ইন্সটাক্টর মোঃ আশিকুর রহমান ও থযমাস সাপোর্ট সার্ভিসেস সেন্টারের শিক্ষক জাহানারা খাতুন।

 

Ads small one

প্রসঙ্গ: শ্রেণিকক্ষ-সংকটে ছাদের ওপর তাবু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: শ্রেণিকক্ষ-সংকটে ছাদের ওপর তাবু

সম্পাদকীয়

শিক্ষাকে জাতির মেরুদ- বলা হলেও, সেই শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি যেখানে গড়ে ওঠে, সেখানে যদি ন্যূনতম অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকে, তবে তা অত্যন্ত হতাশাজনক। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ২৪ নম্বর মটবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা কেবল উদ্বেগের নয়, বরং চরম পীড়াদায়ক। প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য মাত্র পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ থাকায় বাধ্য হয়ে ভবনের খোলা ছাদের ওপর তাবু টাঙিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। কোনো একটি সরকারি প্রাথমিকে রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে বই-খাতা ভিজিয়ে শিশুদের ক্লাস করতে হবেÑএই আধুনিক যুগে এসে তা ভাবাও কঠিন।

বিদ্যমান এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা গ্রহণ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। বর্ষার দিনে তাবু চুইয়ে পানি পড়ে ক্লাস বন্ধ করে দিতে হয়, যা শিশুদের মনে পড়াশোনা সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রধান শিক্ষক কিংবা অভিভাবকেরা যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা অত্যন্ত যৌক্তিক। শ্রেণিকক্ষের সংকটে এভাবে তাবু টাঙিয়ে ক্লাস চালানো কোনো টেকসই বা নিরাপদ ব্যবস্থা হতে পারে না।

আমরা প্রায়ই প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বড় বড় পরিকল্পনার কথা শুনি। কিন্তু মটবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোর এই দুরবস্থা প্রদীপের নিচের অন্ধকারকেই যেন ফুটিয়ে তোলে। অবকাঠামোগত সংকট রেখে শিক্ষার সার্বিক মান বৃদ্ধি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর পরও কিংবা উপজেলা শিক্ষা দপ্তরের ‘অবহিত থাকা’ সত্ত্বেও সমাধান না হওয়া প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতারই পরিচায়ক।

অন্তর্বর্তীকালীন সমাধানের নামে অনির্দিষ্টকালের জন্য কোমলমতি শিশুদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর পরিবেশে ফেলে রাখা যুক্তিসংগত নয়। স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আমাদের জোর দাবিÑআমলাতান্ত্রিক জটিলতা পাশ কাটিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ২৪ নম্বর মটবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ অথবা অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

প্রসঙ্গ: বন সংলগ্ন লোকালয়ে ইকো রিসোর্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: বন সংলগ্ন লোকালয়ে ইকো রিসোর্ট

মুক্তমত

এম শফিকুল ইসলাম

সুন্দরবনে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বন- সংলগ্ন ঢাংমারী খালের তীরবর্তী লোকালয়ের পাশেই গড়ে ওঠা ইকো রিসোর্ট ঘিরে এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি স্থানীয় জীবন মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এসব রিসোর্ট। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, সুন্দরবন সংলগ্ন ঢাংমারি খালের তীর ঘেঁষে ১৩টি বন থিমযুক্ত ইকো রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এগুলো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের এখন প্রধান আকর্ষণ।

 

গোলপাতা, কাঠ এবং বাঁশ দিয়ে তৈরি অন্যান্য নকশা করা রিসোর্ট গুলো দর্শনার্থীদের প্রাকৃতিক প্রশান্তির পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। একসময় ভ্রমনের কষ্ট এবং সুযোগ- সুবিধার অভাবে পর্যটকরা এখানে আসতে চাইত না। কিন্তু এখন বেসরকারি উদ্যোগে এসব ইকো রিসোর্ট তৈরি হওয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনে পর্যটকরা এখন আরামদায়ক থাকার ব্যবস্থা উপভোগ করতে পারেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, তাদের জীবন-জীবিকা সুন্দরবনের ওপরই নির্ভরশীল ছিল। ফলে বৈধ অবৈধভাবে বনের সম্পদ থেকেই জীবিকা আহরণ করতে হতো। কিন্তু এখন গ্রামে ইকো রিসোর্ট গড়ে ওঠায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন আর সুন্দরবনের সম্পদ ধ্বংস করতে হয় না।

 

এসব রিসোর্ট ঘিরে গ্রামের পরিবেশও পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষ তাদের জীবন-জীবিকাও সার্বিক কর্মকা-ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। নিত্যদিনের একঘেয়ে জীবনের ক্লান্তি এড়াতে গিয়েছিলাম সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী গ্রামের ইরাবতী ইকো রির্সোট অ্যান্ড রিসার্জ সেন্টার ও পিয়ালী ইকো রিসোর্ট এন্ড কালচারাল সেন্টারে। অপরূপ সাজে রিসোর্ট কেন্দ্রটি।

 

বৈচিত্র্যপিপাসু পর্যটকদের ঢল নেমেছে এখানে। মনকে সজীব রাখার জন্য কিছু সময় নিজের কর্মকা-কে ভুলে থেকে সুখ আর প্রশান্তিতে অবগাহন করছে বিনোদন প্রিয় পর্যটকরা। পিয়ালী ইকো রিসোর্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কালাম খান জানান, তিনি এবং তার স্ত্রী আঁখি সিদ্দিক সর্বপ্রথম ২০২১ সালে ইরাবতী ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের কাজ শুরু করে ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করেন। পরে একই এলাকায় ২০২৩ সালে পিয়ালী ইক রিসোর্ট অ্যান্ড কালচারলি সেন্টার গড়ে তোলেন। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের দেখাদেখি পরবর্তীতে অনেক উদ্যোক্তা এগিয়ে আসেন। বর্তমানে ঢাংমারি গ্রামে ১৩ টি রিসোর্ট চালু রয়েছে।

 

আগামী এক বছরের মধ্যে আরো ৭টি ইকো রিসোর্ট চালু হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব ইকো রিসোর্ট সুন্দরবনের বাইরে, সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানা জমিতে গড়ে উঠেছে। এখানে একদিকে যেমন দেশ-বিদেশি পর্যটকরা অবস্থান করে খুব কাছ থেকেই সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে আর্থিক সচ্ছলতায় ফিরে আসছে। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের আওতাধীন ঘাগরামারী ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার শাহ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, অনুন্নত বনসংলগ্ন এলাকায় এই রিসোর্টগুলো গড়ে ওঠা স্থানীয়দের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধভাবে বন উজাড় ও কমেছে।

 

পর্যটন উন্নয়নের জন্য সরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি এ ধরনের বেসরকারি উদ্যোগ সুন্দরবন অঞ্চলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। এটি জাতীয় পর্যটন অর্থনীতিকে আরো চাঙ্গা করবে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পর্যটন সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে বন বিভাগ আরো চারটি নতুন পর্যটন অঞ্চল যুক্ত করেছে। এগুলো হলো- শরণ খোলার আলীবান্ধা, চাঁদপাই বেঙ্চের আন্ধার মানিক, খুলনা রেঞ্জের শেখেরটেক ও কৈলাশগঞ্জ।

 

এছাড়া কটকা, কচিখালি, দুবলার চর, হিরণ পয়েন্ট, হারবাড়িয়া, কলাগাছিয়া,করমজলসহ নতুন স্পটগুলোতেও পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। লেখক : সাংবাদিক ও নাট্যকার

 

 

 

ঘুমানোর আগে স্ক্রিন নয়, বই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
ঘুমানোর আগে স্ক্রিন নয়, বই

তারিক ইসলাম

‎আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আমাদের দিন শুরু হয় স্মার্টফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখে, আর দিন শেষও হয় অনবরত স্ক্রলিংয়ের মধ্য দিয়ে। রাতের খাবার শেষে বিছানায় শুয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন চেক করা, ছোট ভিডিও দেখা কিংবা সংবাদের পাতায় চোখ বোলানো এখন দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, ঘুমানোর ঠিক আগের এই অভ্যাসটি আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কতটা ক্ষতি করছে?

‎ডিজিটাল কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে এবং একটি প্রশান্তিময় রাতের ঘুম নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা এখন আবার পুরোনো কিন্তু সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বন্ধু—বইয়ের কাছে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

‎‎ঘুমানোর আগে মোবাইলের পরিবর্তে বই পড়ার অভ্যাস কেন আমাদের জীবনের জন্য জরুরি, তা কিছু বৈজ্ঞানিক ও মানসিক দিক পর্যালোচনা করলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

‎প্রাকৃতিক ঘুমের হরমোন উৎপাদন: ‎স্মার্টফোন বা যেকোনো ডিজিটাল ডিভাইসের পর্দা থেকে একধরনের নীল আলো (ব্লু লাইট) নির্গত হয়। এই আলো মস্তিষ্কে বিভ্রান্তি তৈরি করে ঘুম আনার হরমোন ‘মেলাটোনিন’ নিঃসরণে বাধা দেয়। ফলে সহজে ঘুম আসতে চায় না। স্ক্রিনের বদলে ছাপা বই হাতে নিলে মেলাটোনিন নিঃসরণে কোনো বাধা থাকে না; প্রাকৃতিকভাবেই চোখে নেমে আসে গাঢ় ঘুম।

‎দ্রুত মানসিক ও পেশির চাপ হ্রাস : ‎সারাদিনের কাজের পর শরীরের পাশাপাশি স্নায়ুরও বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ছয় মিনিট মনোযোগ দিয়ে বই পড়লে রক্তচাপ ও পেশির টান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এটি শরীরকে অন্যান্য যেকোনো পদ্ধতির চেয়ে দ্রুত শান্ত করে আরামদায়ক ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে।

‎দুশ্চিন্তামুক্ত মন ও ‘কগনিটিভ শিফট’: ‎আগামীকালের কাজের চিন্তা বা সারাদিনের মানসিক ক্লান্তি মস্তিষ্ককে রাতে শান্ত হতে দেয় না। মন যখন কোনো নির্দিষ্ট দুশ্চিন্তার চক্রে আটকে থাকে, তখন বই চমৎকার বিকল্প হিসেবে কাজ করে। বইয়ের পাতা মনকে সুনির্দিষ্ট কোনো গল্প বা বিষয়ের গভীরে নিয়ে যায় (যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘কগনিটিভ শিফট’ বলা হয়)। ফলে মস্তিষ্ক অনাকাঙ্ক্ষিত উৎকণ্ঠা থেকে সাময়িক মুক্তি পায়।

‎ওভারস্টিমুলেশন বা অতি-উত্তেজনা রোধ: ‎সোশ্যাল মিডিয়ার একের পর এক নোটিফিকেশন বা রিলস আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোনের অতিরিক্ত প্রবাহ ঘটায়। এটি মস্তিষ্ককে একধরনের অহেতুক উত্তেজনায় (ওভারস্টিমুলেশন) রাখে, যা ঘুমের পরিবেশ নষ্ট করে। অন্যদিকে বই পড়ার শ্লথ ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এই উত্তেজনা কমিয়ে মনে গভীর প্রশান্তি আনে।
‎মনোযোগ ও স্মৃতির উন্নয়ন: ‎প্রতিনিয়ত ছোট ছোট কনটেন্ট স্ক্রলিংয়ের ফলে মানুষের মনোযোগের সময়সীমা (অ্যাটেনশন স্প্যান) মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। রাতে নিয়মিত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট বই পড়ার অভ্যাস এক জায়গায় মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা পুনর্গঠনে সাহায্য করে। তাছাড়া ঘুমানোর ঠিক আগে যা পড়া হয়, ঘুমন্ত অবস্থায় মস্তিষ্ক তা স্থায়ী স্মৃতিতে রূপান্তর (কনসোলিডেট) করে।

চোখের সুরক্ষা ও সতেজ সকাল : ‎ডিজিটাল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক স্বাভাবিকের চেয়ে কম পড়ে, যা চোখ শুষ্ক করে ফেলে এবং মাথাব্যথার কারণ হয়। বইয়ের পাতা চোখের পেশির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে না। তা ছাড়া মোবাইল দেখে ঘুমালে ঘুমের মান খারাপ হয় এবং সকালে ক্লান্তি অনুভব হয়। বই পড়ে ঘুমালে গভীর ঘুম নিশ্চিত হয়, যা পরদিন সকালে পূর্ণ শক্তি ও প্রফুল্লতা নিয়ে জেগে উঠতে সাহায্য করে।

‎প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করার উপায় নেই, তবে প্রযুক্তির দাসত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার কৌশল জানতে হবে। সুস্থ দেহ ও শান্ত মনের জন্য রাতে বিছানায় যাওয়ার অন্তত আধঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ দূরে সরিয়ে রাখুন। বালিশের পাশে পছন্দের একটি বই রাখুন। এই একটি ছোট অভ্যাস আপনার জীবনের সামগ্রিক মান ও প্রশান্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

‎লেখক: ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি