শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রেসক্লাবের সংখ্যা নয়, বাড়ুক সাংবাদিকতার মান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
প্রেসক্লাবের সংখ্যা নয়, বাড়ুক সাংবাদিকতার মান

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

একটি ঘর, কয়েকটি চেয়ার, একটি সাইনবোর্ডÑএগুলো দিয়ে একটি প্রেসক্লাবের অবকাঠামো তৈরি হতে পারে। কিন্তু সাংবাদিকতা তৈরি হয় না সেখানে। সাংবাদিকতা তৈরি হয় মানুষের মধ্যে, তাঁর চিন্তায়, তাঁর অনুসন্ধানে, তাঁর কলমে এবং সত্য প্রকাশের সাহসে। অথচ বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক এলাকায় প্রেসক্লাবের সংখ্যা বাড়লেও সাংবাদিকতার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। একসময় প্রেসক্লাব ছিল সাংবাদিকদের প্রাণের ঠিকানা। দিনের সংবাদ সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকরা সেখানে বসে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতেন, সংবাদ নিয়ে আলোচনা করতেন, পেশাগত সংকটে একে অন্যের পাশে দাঁড়াতেন। প্রেসক্লাব ছিল সাংবাদিক ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক জায়গায় সেই চিত্র বদলে গেছে।

 

এখন কোথাও কোথাও প্রেসক্লাব যেন সাংবাদিকতার চর্চাকেন্দ্র না হয়ে পরিচয়ের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। একটি উপজেলায় একাধিক প্রেসক্লাব থাকা নতুন কোনো ঘটনা নয়। কোথাও ব্যক্তিগত মতবিরোধ, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, পদ-পদবি নিয়ে বিরোধ কিংবা সাংগঠনিক বিভাজনের কারণে নতুন নতুন প্রেসক্লাব তৈরি হচ্ছে। এতে সাংবাদিকতার প্রকৃত উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হচ্ছে, সেই প্রশ্ন উঠছে। কারণ সাংবাদিকদের শক্তি বিভক্তিতে নয়, ঐক্যে।প্রেসক্লাবের মূল উদ্দেশ্য কখনোই ছিল না পরিচয়পত্র বিতরণ করা। এটি ছিল সাংবাদিকদের পেশাগত সংগঠন। কিন্তু দুঃখ জনক ভাবে কিছু ক্ষেত্রে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, প্রেসক্লাবের সদস্য হলেই সাংবাদিক হওয়া যায়। অথচ বাস্তবতা হলো, সাংবাদিকতা কোনো সদস্যপদ নয়, এটি একটি অর্জন।

 

একজন সাংবাদিক প্রতিদিন মানুষের কাছে যান। তিনি কৃষকের মাঠে যান, শ্রমজীবী মানুষের কথা শোনেন, সাধারণ মানুষের সমস্যাকে তুলে ধরেন। তিনি সরকারি দপ্তরে তথ্য খোঁজেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই করেন, বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য নেন। তাঁর লেখা যখন সমাজে পরিবর্তনের প্রশ্ন তোলে, তখনই তিনি সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি পান।একটি পরিচয়পত্র কখনো একজন সাংবাদিকের বিকল্প হতে পারে না। যেমন গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে কেউ চিকিৎসক হয়ে যান না, তেমনি গলায় প্রেস কার্ড ঝুলালেই কেউ সাংবাদিক হয়ে যান না। একজন চিকিৎসকের পরিচয় তাঁর চিকিৎসাসেবা, একজন শিক্ষকের পরিচয় তাঁর জ্ঞান বিতরণ, আর একজন সাংবাদিকের পরিচয় তাঁর সংবাদ ও সততা।উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকতায় এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গ্রামের মানুষের সমস্যা, দুর্নীতি, অনিয়ম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশসহ নানা বিষয় প্রথমে স্থানীয় সাংবাদিকদের হাত ধরেই সামনে আসে।

 

একজন দায়িত্বশীল স্থানীয় সাংবাদিক একটি এলাকার মানুষের চোখ ও কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন।কিন্তু যখন সাংবাদিকতার জায়গায় পরিচয়ের প্রতিযোগিতা শুরু হয়, তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। কারণ সংবাদ মাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে পুরো সাংবাদিক সমাজকেই তার দায় বহন করতে হয়। তাই এখন প্রয়োজন প্রেসক্লাবের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে সাংবাদিকতার গুণগত মান বাড়ানো। প্রেসক্লাবগুলোকে হতে হবে পেশাগত উন্নয়নের জায়গা। সেখানে নতুন সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ, সংবাদ লেখার কৌশল, তথ্য যাচাই, সাংবাদিকতার নৈতিকতা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে হবে।একই সঙ্গে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর উচিত সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়া।

 

শুধু পরিচিতি বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে নয়, একজনের কাজ, দক্ষতা ও পেশাগত আচরণ বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নির্ভর করে তার সদস্যদের মানের ওপর। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি শক্তিশালী প্রেসক্লাব গড়ে ওঠে শক্তিশালী সাংবাদিকদের নিয়ে। উল্টোভাবে কোনো দুর্বল পেশাগত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে একটি সাইনবোর্ড একটি প্রতিষ্ঠানকে মর্যাদাপূর্ণ করতে পারে না।

 

সাংবাদিকতা হলো মানুষের আস্থা অর্জনের পেশা। এখানে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস অর্জন করতে হয় সত্য, সাহস ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে। কোনো কার্ড, পদবি বা সাইনবোর্ড সেই বিশ্বাস কিনে দিতে পারে না। তাই সময় এসেছে সাংবাদিকতার মূল চেতনায় ফিরে যাওয়ার। প্রেসক্লাব থাকবে, সংগঠন থাকবে, পরিচয় থাকবেÑকিন্তু সবার আগে থাকতে হবে সাংবাদিকতা। কারণ প্রেসক্লাব একটি জায়গা হতে পারে, একটি প্রতিষ্ঠান হতে পারে; কিন্তু সাংবাদিকতা হলো একজন মানুষের বিবেক, দায়িত্ব এবং সত্যের প্রতি অঙ্গীকার। প্রেসক্লাবের সংখ্যা নয়, বাড়ুক প্রকৃত সাংবাদিকের সংখ্যা। তাহলেই শক্তিশালী হবে গণমাধ্যম, সমৃদ্ধ হবে সমাজ এবং প্রতিষ্ঠিত হবে মানুষের আস্থা। লেখক-সংবাদকর্মী

Ads small one

সুন্দরবনে লোকালয় থেকে ছাগল ধরে খেল বিশাল কুমির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে লোকালয় থেকে ছাগল ধরে খেল বিশাল কুমির

পত্রদূত ডেস্ক: বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন ঢাংমারি খালের পার থেকে একটি গৃহপালিত ছাগল শিকার করে খেয়ে ফেলেছে একটি বিশাল আকৃতির কুমির। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ঢাংমারি খালে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

২১ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, খালের ভেতরে বিশাল আকৃতির কুমিরটি ছাগলটিকে মুখে চেপে ধরে পানির ওপর আছড়ে মারছে। একপর্যায়ে পানির মধ্যেই ছাগলটিকে গিলে ফেলে কুমিরটি। নৌপথে যাওয়ার সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা মুঠোফোনে দৃশ্যটি ধারণ করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার মো. আজাদ কবির জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন লোকালয়ের খালের পার থেকে গৃহপালিত প্রাণী শিকার করার এমন ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রথম। ঢাংমারি খালটি চাঁদপাই রেঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। সুন্দরবনের ভেতরে কুমিরের নিয়মিত বিচরণ দেখা গেলেও লোকালয়ের এত কাছাকাছি এসে শিকার করার ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে বেশ কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

 

গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় জামায়াতের গণমিছিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় জামায়াতের গণমিছিল

পত্রদূত ডেস্ক: গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ১ আগস্ট বিকেলে শহরের আমতলা বহুমুখী মাঠে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে মিছিলপূর্ব এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল শহরের খুলনা রোড মোড়, নিউমার্কেট মোড় ও পাকাপোল মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আমতলা বহুমুখী মাঠে এসে শেষ হয়। মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে’, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে’, ‘ইনসাফ ও মানবিক বাংলাদেশ চাই’, ‘দুর্নীতি ও দুঃশাসনের অবসান চাই’ এবং ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমীর অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম বলেন, জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে গণভোটের রায়ে। সেই রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোট ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, বিচারহীনতার অবসান এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রেখে ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওমর ফারুক, মাওলানা ওসমান গনি, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল বারী, অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন, সদর উপজেলা আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা শহর শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান ও পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি খোরশেদ আলম বক্তব্য দেন। কর্মসূচিতে জেলা, উপজেলা, পৌর ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।

কালিগঞ্জে গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে বিকাশ থেকে সোয়া লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে বিকাশ থেকে সোয়া লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে এক গ্রাম পুলিশের সহায়তায় অভিনব প্রতারণার ফাঁদে পড়ে বিকাশ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা হারিয়েছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। প্রতারণার শিকার ফাহাদ হোসেন উপজেলার রতনপুর গ্রামের শেখ শোকর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ফাহাদ হোসেনের পিতা বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। গত ২৮ জুলাই বিকেলে রতনপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মিলন হোসেন তাঁদের বাড়িতে গিয়ে জানান যে তাঁর বাবা কারাগারে স্ট্রোক করেছেন। এ সময় চিকিৎসাসহ বিভিন্ন জরুরি সহায়তার কথা বলে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে তথাকথিত জেলা পুলিশ, ডাক্তার ও কালীগঞ্জ থানা পুলিশের কয়েকটি মুঠোফোন নম্বর সরবরাহ করেন ওই গ্রাম পুলিশ।

বাবার অসুস্থতার কথা শুনে ফাহাদের দুবাই প্রবাসী বড় ভাই ফয়সাল হোসেন সরবরাহ করা ‘ডাক্তার’ পরিচয়ধারী নম্বরে যোগাযোগ করেন। তখন ওই ব্যক্তি জানান, চিকিৎসার জন্য মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রয়োজন, যার মধ্যে জরুরিভিত্তিতে একটি অংশ এখনই পাঠাতে হবে। বাবার প্রাণ বাঁচাতে স্বজনেরা বিভিন্ন সময়ে বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে কয়েক দফায় মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৮০ টাকা পাঠান।

টাকা পাঠানোর পরপরই ওই নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পরবর্তীতে ফাহাদ হোসেন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রাম পুলিশ মিলন হোসেন দাবি করেন, তিনি থানা থেকে ফোন পেয়ে শোকর আলীর অসুস্থতার সংবাদ কেবল পরিবারকে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এর বেশি তিনি আর কিছুই জানেন না।
ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।