প্রসঙ্গ: শ্রেণিকক্ষ-সংকটে ছাদের ওপর তাবু
সম্পাদকীয়
শিক্ষাকে জাতির মেরুদ- বলা হলেও, সেই শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি যেখানে গড়ে ওঠে, সেখানে যদি ন্যূনতম অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকে, তবে তা অত্যন্ত হতাশাজনক। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ২৪ নম্বর মটবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা কেবল উদ্বেগের নয়, বরং চরম পীড়াদায়ক। প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য মাত্র পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ থাকায় বাধ্য হয়ে ভবনের খোলা ছাদের ওপর তাবু টাঙিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। কোনো একটি সরকারি প্রাথমিকে রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে বই-খাতা ভিজিয়ে শিশুদের ক্লাস করতে হবেÑএই আধুনিক যুগে এসে তা ভাবাও কঠিন।
বিদ্যমান এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা গ্রহণ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। বর্ষার দিনে তাবু চুইয়ে পানি পড়ে ক্লাস বন্ধ করে দিতে হয়, যা শিশুদের মনে পড়াশোনা সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রধান শিক্ষক কিংবা অভিভাবকেরা যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা অত্যন্ত যৌক্তিক। শ্রেণিকক্ষের সংকটে এভাবে তাবু টাঙিয়ে ক্লাস চালানো কোনো টেকসই বা নিরাপদ ব্যবস্থা হতে পারে না।
আমরা প্রায়ই প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বড় বড় পরিকল্পনার কথা শুনি। কিন্তু মটবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোর এই দুরবস্থা প্রদীপের নিচের অন্ধকারকেই যেন ফুটিয়ে তোলে। অবকাঠামোগত সংকট রেখে শিক্ষার সার্বিক মান বৃদ্ধি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর পরও কিংবা উপজেলা শিক্ষা দপ্তরের ‘অবহিত থাকা’ সত্ত্বেও সমাধান না হওয়া প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতারই পরিচায়ক।
অন্তর্বর্তীকালীন সমাধানের নামে অনির্দিষ্টকালের জন্য কোমলমতি শিশুদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর পরিবেশে ফেলে রাখা যুক্তিসংগত নয়। স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আমাদের জোর দাবিÑআমলাতান্ত্রিক জটিলতা পাশ কাটিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ২৪ নম্বর মটবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ অথবা অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক ও নৈতিক দায়িত্ব।









