শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: বন সংলগ্ন লোকালয়ে ইকো রিসোর্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: বন সংলগ্ন লোকালয়ে ইকো রিসোর্ট

মুক্তমত

এম শফিকুল ইসলাম

সুন্দরবনে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বন- সংলগ্ন ঢাংমারী খালের তীরবর্তী লোকালয়ের পাশেই গড়ে ওঠা ইকো রিসোর্ট ঘিরে এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি স্থানীয় জীবন মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এসব রিসোর্ট। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, সুন্দরবন সংলগ্ন ঢাংমারি খালের তীর ঘেঁষে ১৩টি বন থিমযুক্ত ইকো রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এগুলো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের এখন প্রধান আকর্ষণ।

 

গোলপাতা, কাঠ এবং বাঁশ দিয়ে তৈরি অন্যান্য নকশা করা রিসোর্ট গুলো দর্শনার্থীদের প্রাকৃতিক প্রশান্তির পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। একসময় ভ্রমনের কষ্ট এবং সুযোগ- সুবিধার অভাবে পর্যটকরা এখানে আসতে চাইত না। কিন্তু এখন বেসরকারি উদ্যোগে এসব ইকো রিসোর্ট তৈরি হওয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনে পর্যটকরা এখন আরামদায়ক থাকার ব্যবস্থা উপভোগ করতে পারেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, তাদের জীবন-জীবিকা সুন্দরবনের ওপরই নির্ভরশীল ছিল। ফলে বৈধ অবৈধভাবে বনের সম্পদ থেকেই জীবিকা আহরণ করতে হতো। কিন্তু এখন গ্রামে ইকো রিসোর্ট গড়ে ওঠায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন আর সুন্দরবনের সম্পদ ধ্বংস করতে হয় না।

 

এসব রিসোর্ট ঘিরে গ্রামের পরিবেশও পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষ তাদের জীবন-জীবিকাও সার্বিক কর্মকা-ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। নিত্যদিনের একঘেয়ে জীবনের ক্লান্তি এড়াতে গিয়েছিলাম সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী গ্রামের ইরাবতী ইকো রির্সোট অ্যান্ড রিসার্জ সেন্টার ও পিয়ালী ইকো রিসোর্ট এন্ড কালচারাল সেন্টারে। অপরূপ সাজে রিসোর্ট কেন্দ্রটি।

 

বৈচিত্র্যপিপাসু পর্যটকদের ঢল নেমেছে এখানে। মনকে সজীব রাখার জন্য কিছু সময় নিজের কর্মকা-কে ভুলে থেকে সুখ আর প্রশান্তিতে অবগাহন করছে বিনোদন প্রিয় পর্যটকরা। পিয়ালী ইকো রিসোর্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কালাম খান জানান, তিনি এবং তার স্ত্রী আঁখি সিদ্দিক সর্বপ্রথম ২০২১ সালে ইরাবতী ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের কাজ শুরু করে ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করেন। পরে একই এলাকায় ২০২৩ সালে পিয়ালী ইক রিসোর্ট অ্যান্ড কালচারলি সেন্টার গড়ে তোলেন। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের দেখাদেখি পরবর্তীতে অনেক উদ্যোক্তা এগিয়ে আসেন। বর্তমানে ঢাংমারি গ্রামে ১৩ টি রিসোর্ট চালু রয়েছে।

 

আগামী এক বছরের মধ্যে আরো ৭টি ইকো রিসোর্ট চালু হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব ইকো রিসোর্ট সুন্দরবনের বাইরে, সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানা জমিতে গড়ে উঠেছে। এখানে একদিকে যেমন দেশ-বিদেশি পর্যটকরা অবস্থান করে খুব কাছ থেকেই সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে আর্থিক সচ্ছলতায় ফিরে আসছে। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের আওতাধীন ঘাগরামারী ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার শাহ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, অনুন্নত বনসংলগ্ন এলাকায় এই রিসোর্টগুলো গড়ে ওঠা স্থানীয়দের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধভাবে বন উজাড় ও কমেছে।

 

পর্যটন উন্নয়নের জন্য সরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি এ ধরনের বেসরকারি উদ্যোগ সুন্দরবন অঞ্চলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। এটি জাতীয় পর্যটন অর্থনীতিকে আরো চাঙ্গা করবে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পর্যটন সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে বন বিভাগ আরো চারটি নতুন পর্যটন অঞ্চল যুক্ত করেছে। এগুলো হলো- শরণ খোলার আলীবান্ধা, চাঁদপাই বেঙ্চের আন্ধার মানিক, খুলনা রেঞ্জের শেখেরটেক ও কৈলাশগঞ্জ।

 

এছাড়া কটকা, কচিখালি, দুবলার চর, হিরণ পয়েন্ট, হারবাড়িয়া, কলাগাছিয়া,করমজলসহ নতুন স্পটগুলোতেও পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। লেখক : সাংবাদিক ও নাট্যকার

 

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, অর্থ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, নির্বাহী সদস্য কাজী জামাল উদ্দিন মামুন, সরদার আসাদুজ্জামানসহ অন্যারা।

 

সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

সাতক্ষীরা মিলগেট বাজার কমিটির নির্বাচনে সভাপতি সবুর ও সম্পাদক মিজানুর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা মিলগেট বাজার কমিটির নির্বাচনে সভাপতি সবুর ও সম্পাদক মিজানুর

সাতক্ষীরা মিলগেট বাজার উন্নয়ন কমিটির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৩ নম্বর লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার গাজী শাহজাহান সিরাজের পরিচালনায় ৯টি পদের জন্য মোট ১৫০ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ দুটিতে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে ৭২ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. আব্দুস সবুর। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ আমীরুল ইসলাম রাজু (মোরগ প্রতীক) পেয়েছেন ৫৫ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে গাভী প্রতীকে ৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মো. মিজানুর রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ শরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ৫২ ভোট।

বাকি সাতটি পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন সহসভাপতি ইউসুফ আলী সরদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ, কোষাধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ, প্রচার সম্পাদক মাদুর রহমান এবং কার্যকরী সদস্য তরিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নুরু উদ্দিন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

সুন্দরবনে লোকালয় থেকে ছাগল ধরে খেল বিশাল কুমির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে লোকালয় থেকে ছাগল ধরে খেল বিশাল কুমির

পত্রদূত ডেস্ক: বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন ঢাংমারি খালের পার থেকে একটি গৃহপালিত ছাগল শিকার করে খেয়ে ফেলেছে একটি বিশাল আকৃতির কুমির। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ঢাংমারি খালে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

২১ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, খালের ভেতরে বিশাল আকৃতির কুমিরটি ছাগলটিকে মুখে চেপে ধরে পানির ওপর আছড়ে মারছে। একপর্যায়ে পানির মধ্যেই ছাগলটিকে গিলে ফেলে কুমিরটি। নৌপথে যাওয়ার সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা মুঠোফোনে দৃশ্যটি ধারণ করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার মো. আজাদ কবির জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন লোকালয়ের খালের পার থেকে গৃহপালিত প্রাণী শিকার করার এমন ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রথম। ঢাংমারি খালটি চাঁদপাই রেঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। সুন্দরবনের ভেতরে কুমিরের নিয়মিত বিচরণ দেখা গেলেও লোকালয়ের এত কাছাকাছি এসে শিকার করার ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে বেশ কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।