শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঘুমানোর আগে স্ক্রিন নয়, বই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
ঘুমানোর আগে স্ক্রিন নয়, বই

তারিক ইসলাম

‎আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আমাদের দিন শুরু হয় স্মার্টফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখে, আর দিন শেষও হয় অনবরত স্ক্রলিংয়ের মধ্য দিয়ে। রাতের খাবার শেষে বিছানায় শুয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন চেক করা, ছোট ভিডিও দেখা কিংবা সংবাদের পাতায় চোখ বোলানো এখন দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, ঘুমানোর ঠিক আগের এই অভ্যাসটি আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কতটা ক্ষতি করছে?

‎ডিজিটাল কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে এবং একটি প্রশান্তিময় রাতের ঘুম নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা এখন আবার পুরোনো কিন্তু সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বন্ধু—বইয়ের কাছে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

‎‎ঘুমানোর আগে মোবাইলের পরিবর্তে বই পড়ার অভ্যাস কেন আমাদের জীবনের জন্য জরুরি, তা কিছু বৈজ্ঞানিক ও মানসিক দিক পর্যালোচনা করলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

‎প্রাকৃতিক ঘুমের হরমোন উৎপাদন: ‎স্মার্টফোন বা যেকোনো ডিজিটাল ডিভাইসের পর্দা থেকে একধরনের নীল আলো (ব্লু লাইট) নির্গত হয়। এই আলো মস্তিষ্কে বিভ্রান্তি তৈরি করে ঘুম আনার হরমোন ‘মেলাটোনিন’ নিঃসরণে বাধা দেয়। ফলে সহজে ঘুম আসতে চায় না। স্ক্রিনের বদলে ছাপা বই হাতে নিলে মেলাটোনিন নিঃসরণে কোনো বাধা থাকে না; প্রাকৃতিকভাবেই চোখে নেমে আসে গাঢ় ঘুম।

‎দ্রুত মানসিক ও পেশির চাপ হ্রাস : ‎সারাদিনের কাজের পর শরীরের পাশাপাশি স্নায়ুরও বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ছয় মিনিট মনোযোগ দিয়ে বই পড়লে রক্তচাপ ও পেশির টান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এটি শরীরকে অন্যান্য যেকোনো পদ্ধতির চেয়ে দ্রুত শান্ত করে আরামদায়ক ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে।

‎দুশ্চিন্তামুক্ত মন ও ‘কগনিটিভ শিফট’: ‎আগামীকালের কাজের চিন্তা বা সারাদিনের মানসিক ক্লান্তি মস্তিষ্ককে রাতে শান্ত হতে দেয় না। মন যখন কোনো নির্দিষ্ট দুশ্চিন্তার চক্রে আটকে থাকে, তখন বই চমৎকার বিকল্প হিসেবে কাজ করে। বইয়ের পাতা মনকে সুনির্দিষ্ট কোনো গল্প বা বিষয়ের গভীরে নিয়ে যায় (যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘কগনিটিভ শিফট’ বলা হয়)। ফলে মস্তিষ্ক অনাকাঙ্ক্ষিত উৎকণ্ঠা থেকে সাময়িক মুক্তি পায়।

‎ওভারস্টিমুলেশন বা অতি-উত্তেজনা রোধ: ‎সোশ্যাল মিডিয়ার একের পর এক নোটিফিকেশন বা রিলস আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোনের অতিরিক্ত প্রবাহ ঘটায়। এটি মস্তিষ্ককে একধরনের অহেতুক উত্তেজনায় (ওভারস্টিমুলেশন) রাখে, যা ঘুমের পরিবেশ নষ্ট করে। অন্যদিকে বই পড়ার শ্লথ ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এই উত্তেজনা কমিয়ে মনে গভীর প্রশান্তি আনে।
‎মনোযোগ ও স্মৃতির উন্নয়ন: ‎প্রতিনিয়ত ছোট ছোট কনটেন্ট স্ক্রলিংয়ের ফলে মানুষের মনোযোগের সময়সীমা (অ্যাটেনশন স্প্যান) মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। রাতে নিয়মিত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট বই পড়ার অভ্যাস এক জায়গায় মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা পুনর্গঠনে সাহায্য করে। তাছাড়া ঘুমানোর ঠিক আগে যা পড়া হয়, ঘুমন্ত অবস্থায় মস্তিষ্ক তা স্থায়ী স্মৃতিতে রূপান্তর (কনসোলিডেট) করে।

চোখের সুরক্ষা ও সতেজ সকাল : ‎ডিজিটাল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক স্বাভাবিকের চেয়ে কম পড়ে, যা চোখ শুষ্ক করে ফেলে এবং মাথাব্যথার কারণ হয়। বইয়ের পাতা চোখের পেশির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে না। তা ছাড়া মোবাইল দেখে ঘুমালে ঘুমের মান খারাপ হয় এবং সকালে ক্লান্তি অনুভব হয়। বই পড়ে ঘুমালে গভীর ঘুম নিশ্চিত হয়, যা পরদিন সকালে পূর্ণ শক্তি ও প্রফুল্লতা নিয়ে জেগে উঠতে সাহায্য করে।

‎প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করার উপায় নেই, তবে প্রযুক্তির দাসত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার কৌশল জানতে হবে। সুস্থ দেহ ও শান্ত মনের জন্য রাতে বিছানায় যাওয়ার অন্তত আধঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ দূরে সরিয়ে রাখুন। বালিশের পাশে পছন্দের একটি বই রাখুন। এই একটি ছোট অভ্যাস আপনার জীবনের সামগ্রিক মান ও প্রশান্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

‎লেখক: ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, অর্থ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, নির্বাহী সদস্য কাজী জামাল উদ্দিন মামুন, সরদার আসাদুজ্জামানসহ অন্যারা।

 

সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

সাতক্ষীরা মিলগেট বাজার কমিটির নির্বাচনে সভাপতি সবুর ও সম্পাদক মিজানুর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা মিলগেট বাজার কমিটির নির্বাচনে সভাপতি সবুর ও সম্পাদক মিজানুর

সাতক্ষীরা মিলগেট বাজার উন্নয়ন কমিটির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৩ নম্বর লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার গাজী শাহজাহান সিরাজের পরিচালনায় ৯টি পদের জন্য মোট ১৫০ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ দুটিতে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে ৭২ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. আব্দুস সবুর। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ আমীরুল ইসলাম রাজু (মোরগ প্রতীক) পেয়েছেন ৫৫ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে গাভী প্রতীকে ৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মো. মিজানুর রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ শরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ৫২ ভোট।

বাকি সাতটি পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন সহসভাপতি ইউসুফ আলী সরদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ, কোষাধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ, প্রচার সম্পাদক মাদুর রহমান এবং কার্যকরী সদস্য তরিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নুরু উদ্দিন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

সুন্দরবনে লোকালয় থেকে ছাগল ধরে খেল বিশাল কুমির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে লোকালয় থেকে ছাগল ধরে খেল বিশাল কুমির

পত্রদূত ডেস্ক: বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন ঢাংমারি খালের পার থেকে একটি গৃহপালিত ছাগল শিকার করে খেয়ে ফেলেছে একটি বিশাল আকৃতির কুমির। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ঢাংমারি খালে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

২১ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, খালের ভেতরে বিশাল আকৃতির কুমিরটি ছাগলটিকে মুখে চেপে ধরে পানির ওপর আছড়ে মারছে। একপর্যায়ে পানির মধ্যেই ছাগলটিকে গিলে ফেলে কুমিরটি। নৌপথে যাওয়ার সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা মুঠোফোনে দৃশ্যটি ধারণ করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার মো. আজাদ কবির জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন লোকালয়ের খালের পার থেকে গৃহপালিত প্রাণী শিকার করার এমন ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রথম। ঢাংমারি খালটি চাঁদপাই রেঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। সুন্দরবনের ভেতরে কুমিরের নিয়মিত বিচরণ দেখা গেলেও লোকালয়ের এত কাছাকাছি এসে শিকার করার ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে বেশ কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।