সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা একটি জেলা নয়, একটি অসমাপ্ত গবেষণাগার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা একটি জেলা নয়, একটি অসমাপ্ত গবেষণাগার

মো. মামুন হাসান

সাতক্ষীরাকে আমরা ভুল জায়গা থেকে দেখতে শুরু করেছি। মানচিত্রে সাতক্ষীরা একটি জেলা। পর্যটনের ভাষায় সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার। কিন্তু গবেষকের চোখে এটি আরও বড় কিছু। এটি এমন একটি ভূখন্ড, যেখানে একই সঙ্গে প্রকৃতি, মানুষ, ইতিহাস, জলবায়ু, অর্থনীতি এবং টিকে থাকার কৌশল প্রতিদিন একে অন্যের সঙ্গে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হচ্ছে।

সুতরাং সাতক্ষীরার পর্যটন উন্নয়নের প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়, “আর কোথায় পর্যটনকেন্দ্র বানানো যায়?” প্রশ্ন হওয়া উচিত, “সাতক্ষীরার কোন গল্পটি এখনো পর্যটন হয়ে ওঠেনি?” এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সুন্দরবনের বাইরেও একটি সম্পূর্ণ নতুন সাতক্ষীরা আবিষ্কার করা সম্ভব।

ধরা যাক, কোনো পর্যটক সাতক্ষীরায় এসে শুধু সুন্দরবন দেখলেন না। তিনি একটি লবণাক্ত গ্রামের মাটির গল্প শুনলেন, দেখলেন কীভাবে একজন কৃষক বদলে যাওয়া পানির সঙ্গে কৃষির নতুন সমীকরণ তৈরি করছেন। কোনো মৌয়ালের কাছ থেকে শুনলেন বন ও মানুষের সম্পর্কের গল্প। কোনো জেলের নৌকায় বসে জানলেন জোয়ারের ভাষা। কোনো নারীর কাছ থেকে শুনলেন ঘূর্ণিঝড়ের পর একটি পরিবারের পুনর্গঠনের কাহিনি। স্থানীয় রান্না খেলেন, একটি পরিবারের বাড়িতে রাত কাটালেন এবং পরদিন ইতিহাসের কোনো স্থানে গিয়ে শুনলেন কয়েক শতাব্দীর গল্প।

তখন পর্যটক শুধু জায়গা দেখছেন না। তিনি একটি ভূখন্ড পড়ছেন। এই ধারণা থেকেই তৈরি হতে পারে “জীবন্ত সাতক্ষীরা”। যেখানে জাদুঘরের দেয়ালে ইতিহাস বন্দী থাকবে না, ইতিহাস ছড়িয়ে থাকবে মানুষের জীবনে। নদী হবে প্রদর্শনী, গ্রাম হবে গবেষণাক্ষেত্র, হোমস্টে হবে শ্রেণিকক্ষ, আর স্থানীয় মানুষ হবেন সেই জীবন্ত জাদুঘরের কিউরেটর।

এটি কল্পনা নয়। সাতক্ষীরার উপকূলে জলবায়ু পরিবর্তন, পানির সংকট ও মানুষের অভিযোজন নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রযুক্তিনির্ভর অভিযোজন এবং স্থানীয় জ্ঞান ও সংগঠনের গুরুত্ব উঠে এসেছে। তাহলে কেন সাতক্ষীরায় জলবায়ু পর্যটন হবে না?দেশ বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আসবে উপকূলের বাস্তবতা দেখতে। গবেষকরা আসবেন লবণাক্ততার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করতে। পরিবেশবিদরা দেখবেন ম্যানগ্রোভ ও মানুষের সম্পর্ক। পর্যটক দেখবেন কীভাবে প্রতিকূল প্রকৃতির সঙ্গে মানুষ প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার বিজ্ঞান তৈরি করছে।আরও এক ধাপ এগিয়ে সাতক্ষীরাকে করা যেতে পারে বাংলাদেশের প্রথম বৃহৎ উন্মুক্ত পর্যটন গবেষণাগার।

প্রতিটি পর্যটন এলাকায় থাকবে একটি গল্প, একটি গবেষণা বিষয় এবং একটি স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম। কোথাও নদী ও জোয়ার, কোথাও ম্যানগ্রোভ, কোথাও উপকূলীয় কৃষি, কোথাও লোকসংস্কৃতি, কোথাও ধর্মীয় ঐতিহ্য, কোথাও স্থানীয় খাদ্য। পর্যটক চাইলে দর্শক হবেন, চাইলে শিক্ষার্থী, চাইলে গবেষক। এখানে পর্যটনের নতুন মুদ্রা হবে শুধু টাকা নয়, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা। আর স্থানীয় মানুষ? তাঁরা পর্যটনের দর্শক নন, অংশীদার। সুন্দরবন এলাকায় কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণাতেও স্থানীয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ চিহ্নিত হয়েছে। তাই সাতক্ষীরার পর্যটন পরিকল্পনায় একটি নতুন হিসাব প্রয়োজন।

একজন পর্যটক কত টাকা খরচ করলেন, শুধু সেটি নয়। তাঁর সেই টাকা থেকে কত অংশ স্থানীয় কৃষকের কাছে গেল, কত অংশ নৌকার মাঝির কাছে গেল, কত অংশ নারী উদ্যোক্তার কাছে গেল, কত অংশ গাইডের আয় হলো, কত অংশ প্রকৃতি সংরক্ষণে ফিরে গেল, সেটিও হিসাব করতে হবে। তখন পর্যটন হবে স্থানীয় সম্পদ থেকে স্থানীয় সমৃদ্ধি তৈরির ব্যবস্থা।

সাতক্ষীরার ভবিষ্যৎ পর্যটন তাই পাঁচ তারকা হোটেলের সংখ্যা দিয়ে মাপা উচিত নয়। মাপা উচিত কতটি পরিবার পর্যটন থেকে আয় করছে, কতজন তরুণ গাইড হয়েছে, কতজন নারী উদ্যোক্তা হয়েছে, কতটি স্থানীয় খাবার নতুন বাজার পেয়েছে এবং পর্যটনের আয় থেকে কতটুকু প্রকৃতি সংরক্ষণে ফিরে যাচ্ছে। কারণ সুন্দরবনের মূল্য শুধু তার গাছপালা কিংবা বাঘে নয়। গবেষণায় সুন্দরবনের পর্যটনসেবার অর্থনৈতিক মূল্যও পরিমাপ করা হয়েছে।

 

সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় সম্পদ তাই কোনো একটি দর্শনীয় স্থান নয়। তার সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানের অসমাপ্ত গল্প। এই গল্পকে যদি গবেষণা, প্রযুক্তি, স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তবে সাতক্ষীরাকে আর সুন্দরবনের ছায়ায় দাঁড়িয়ে পরিচয় দিতে হবে না। বরং একদিন পর্যটকের প্রশ্ন হতে পারে, “সুন্দরবন দেখতে এসেছি ঠিকই, কিন্তু সাতক্ষীরার সেই জীবন্ত গবেষণাগারটি কোথায়?” সেদিনই বুঝব, সাতক্ষীরার পর্যটন বদলেছে।আর তার আগে বদলাতে হবে আমাদের চোখ।

লেখক: মো. মামুন হাসান,ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

 

Ads small one

এসএসসির চেয়ে দাখিলে পাসের হার কম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
এসএসসির চেয়ে দাখিলে পাসের হার কম

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসির তুলনায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার কম। এবছর সাধারণ শিক্ষাবোর্ডগুলোর গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, আর দাখিলে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এসএসসির তুলনায় দাখিলে পাসের হার কম ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এদিন সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় পাস করেছে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৫৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। বিপরীতে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসিতে প্রতি ১০০ জনে প্রায় ৬৪ জন পাস করেছে।

দাখিল পরীক্ষাতেও ছাত্রীদের ফল ছাত্রদের তুলনায় ভালো। দাখিলে ছাত্রদের পাসের হার ৫১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ৫৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ দাখিলে পাসের হারেও মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট এগিয়ে।

সামগ্রিকভাবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে সামগ্রিক পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। ফলে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।

এবার এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ, যা সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসির চেয়েও কম। ফলে তিন ধারার ফলাফলে সাধারণ এসএসসি এগিয়ে, এরপর ভোকেশনাল এবং সর্বশেষ দাখিল।

মানবিক বিভাগে প্রতি ১০০ ছাত্রে ফেল ৫৯ জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
মানবিক বিভাগে প্রতি ১০০ ছাত্রে ফেল ৫৯ জন

চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে ছেলেদের ফলাফলে বড় ধরনের অবনমন দেখা গেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানবিক বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৪১ দশমিক ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ এই বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জন ছাত্রের মধ্যে প্রায় ৫৯ জনই পাস করতে পারেনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এদিন সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তিনটি বিভাগের মধ্যে মানবিকেই ছাত্রদের পাসের হার সবচেয়ে কম। এ বিভাগে ছাত্রীদের পাসের হার অবশ্য তুলনামূলকভাবে বেশি—৫৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ মানবিক বিভাগে ছাত্রীদেরও প্রতি ১০০ জনে প্রায় ৪৬ জন পাস করতে পারেনি।

মানবিক বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রীদের পাসের হারের ব্যবধান ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। অর্থাৎ একই বিভাগে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো ফল করেছে।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, মানবিকের তুলনায় বিজ্ঞান বিভাগে ফলাফল অনেক ভালো। বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৭৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৮৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ৬৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।

অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর তিন বিভাগেই ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে থাকলেও মানবিক বিভাগে ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে ছাত্রদের পাসের হারও এই বিভাগে সবচেয়ে কম।

সামগ্রিক ফলাফলেও এবার পাসের হার কমেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি পাসের হার ঢাকা বোর্ডে—৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এরপর যশোরে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, রাজশাহীতে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

সার্বিকভাবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে সার্বিক পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট।

এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।

ফলাফলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, পাসের হারে মানবিক বিভাগের ছাত্রদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও তিন বিভাগেই মেয়েদের পাসের হার বেশি। ফলে এবারের ফলাফলে মানবিক বিভাগে ছাত্রদের কম পাসের হার এবং ছেলে-মেয়েদের ফলাফলের বড় ব্যবধান বিশেষভাবে নজরে এসেছে।

ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ ৩৭.৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছে।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ১১ হাজার ৭৯১ জন। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছাত্রের সংখ্যা ছাত্রীদের চেয়ে ৫ হাজার ৯০৩ জন বেশি।

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। ছেলেদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ, বিপরীতে মেয়েদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ৮ দশমিক ৮২ শতাংশীয় পয়েন্ট এগিয়ে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এদিন সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন।

এবার পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ১১ হাজার ৭৯১ জন। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছাত্রের সংখ্যা ছাত্রীদের চেয়ে ৫ হাজার ৯০৩ জন বেশি।

তবে উত্তীর্ণের সংখ্যায় মেয়েরা অনেক এগিয়ে। এবার ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ ছেলেদের চেয়ে ৭৭ হাজার ১ জন বেশি মেয়ে পাস করেছে।

জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এবার ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র এবং ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রদের চেয়ে ১১ হাজার ১১৬ জন বেশি।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও মেয়েদের এগিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৭৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ৮৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৪১ দশমিক ১৪ শতাংশ, ছাত্রীদের ৫৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ৬৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।

অর্থাৎ তিনটি বিভাগেই মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে বেশি হারে উত্তীর্ণ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবধান মানবিক বিভাগে—এখানে ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের চেয়ে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

সামগ্রিকভাবে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে সামগ্রিক পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট।

এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। অর্থাৎ এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।