শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

হজের খরচ আরো কমানোর চেষ্টা করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
হজের খরচ আরো কমানোর চেষ্টা করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগামী বছর থেকে হজের খরচ আরো কমানোর চেষ্টা করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করি, আগামী বছর যারা হজে যাবেন তাদের জন্য আরেকটু খরচ কমাতে পারব। আমরা চেষ্টা করছি আরো ভালো করার, যাতে আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের কষ্ট কম হয়।
শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠন করেছি ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ। এবার হজের ব্যবস্থাপনা হয়ে গেছে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে।সেজন্য আমরা এসে এবার খুব বেশি কিছু করার সুযোগ পাইনি। তারপরও চেষ্টা করেছি যতটুকু করা যায়, তবে এবার একটা জিনিস করতে পেরেছি সেটা হলো হজের খরচ ১২ হাজার টাকার মতো কমাতে পেরেছি।

হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের জন্য দোয়া করবেন যাতে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে। আমিও দোয়া করি আপনারা যেন সুস্বাস্থ্য নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন।

এ সময় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ, ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়।

Ads small one

সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ নুরুল হক আর নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ নুরুল হক আর নেই

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শেখ নুরুল হক নুরু (৭৮) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুলতানপুর এলাকার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি মরহুম শেখ আনোয়ারুল হকের বড় পুত্র এবং দুই ছেলে, ভাইসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে সাতক্ষীরার ব্যবসায়ী সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

মরহুমের নামাজের জানাজা রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ২টায় সুলতানপুর ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

 

সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিতে গাবুরার দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, সুপেয় পানির সংকটে হাজারো পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিতে গাবুরার দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, সুপেয় পানির সংকটে হাজারো পরিবার

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোরায় খোলপেটুয়া নদীর চরে অবস্থিত সরকারি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থাপনাটির খাবার পানির পুকুর, চারপাশের সরকারি খাল, গাছপালা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও মহিলা মাদ্রাসা নদীভাঙন এবং লবণাক্ত পানির ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির অন্যতম উৎসটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

২০০৩ সালে চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের সময় গাবুরা এলাকার খাবার পানির সংকট নিরসন ও সবুজ বনায়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইকোপার্কের আদলে ‘দৃষ্টিনন্দন’ প্রকল্পের আওতায় স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়। সময়ের ব্যবধানে এটি দক্ষিণ উপকূলের একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও স্থাপনাটিতে উল্লেখযোগ্য সংস্কারকাজ হয়নি।

গাবুরার বিভিন্ন এলাকায় মেগা প্রকল্পের আওতায় উন্নত সড়ক নির্মিত হলেও খোলপেটুয়া নদীর চরে অবস্থিত এ স্থাপনাটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চারপাশের মাটির বাঁধ ক্ষয়ে যাওয়ায় নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। জোয়ারের লবণাক্ত পানি স্থাপনার ভেতরে প্রবেশের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে খাবার পানির পুকুরের পাড় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পুকুরটি প্লাবিত হয়। এতে পুকুরের পানি দূষিত হয়ে পান করার অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় সমগ্র গাবুরা প্লাবিত হলে এলাকার অধিকাংশ খাবার পানির পুকুর নষ্ট হয়ে যায়। সে সময় দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার পুকুরটি এলাকার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন বহু পরিবার এ পুকুরের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও লবণাক্ত পানি প্রবেশের ঝুঁকিতে সেই পানির উৎসও সংকটের মুখে পড়েছে।

উপকূলীয় জনপদ গাবুরায় সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখানকার মানুষের নিরাপদ পানির ব্যবস্থা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটির পুকুর ও আশপাশের অবকাঠামো রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এটি নষ্ট হয়ে গেলে কয়েক হাজার মানুষ নিরাপদ খাবার পানি সংগ্রহে আরও দুর্ভোগের মুখে পড়তে পারেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থাপনাটির চারপাশের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও পুকুরের পাড় সংস্কার, লবণাক্ত পানি প্রবেশ রোধ, সরকারি খাল পুনঃখনন এবং গাছপালা ও অন্যান্য অবকাঠামো সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থাপনাটিকে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে শুধু একটি দৃষ্টিনন্দন সরকারি স্থাপনাই নয়, উপকূলের কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ খাবার পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎসও হারিয়ে যেতে পারে। তাই নদীভাঙন ও লবণাক্ততার ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শ্যামনগরে ছেলের বদলে মাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ভাটা সর্দারের বিরুদ্ধে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে ছেলের বদলে মাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ভাটা সর্দারের বিরুদ্ধে

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অগ্রিম টাকা নিয়ে ইটভাটায় কাজে না যাওয়ায় এক শ্রমিকের মাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে ভাটা সর্দার আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামের লুৎফরের দোকানের সামনে থেকে দীপালী মণ্ডল (৫২) নামের ওই নারীকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বজনেরা। পরে পুলিশের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

দীপালী মণ্ডল জেলেখালি গ্রামের পঞ্চানন মণ্ডলের স্ত্রী। তাঁর ছেলে জগদীশ মণ্ডল ইটভাটার শ্রমিক। পরিবারের সদস্য একাদশী মণ্ডলের দাবি, শ্রীফলকাটি গ্রামের জিয়াদ আলীর ছেলে আমজাদ হোসেন জগদীশকে বরিশালের একটি ইটভাটায় কাজের জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন। জগদীশ কাজে না যাওয়ায় আমজাদ তাঁদের বাড়িতে এসে তাঁর খোঁজ করেন।

একাদশী মণ্ডলের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে ডেকে দীপালীকে লুৎফরের দোকানের সামনে নেওয়া হয়। পরে জগদীশের সঙ্গে কথা বলার কথা বলে তাঁকে জোর করে মোটরসাইকেলে তোলা হয়। এরপর তাঁকে শ্রীফলকাটি এলাকার একটি স্থানে নিয়ে শ্রমিকবোঝাই বাসে উঠতে বাধ্য করা হয়। পরে তাঁকে বরিশালের হিজলখালির কামালপুর এলাকার একটি ইটভাটায় নেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর থানায় যান বলে জানান একাদশী মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, প্রথমে পুলিশ তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ না করে জগদীশের অগ্রিম টাকা নেওয়ার বিষয়ে কৈফিয়ত চায়। পরে শনিবার ভোরে তাঁরা শ্যামনগর থানায় গিয়ে দীপালীকে দেখতে পান। এ সময় উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন তাঁকে বিষয়টি নিয়ে বেশি দূর না এগোনোর পরামর্শ দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দীপালী মণ্ডল বলেন, তাঁকে এক কাপড়ে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কাজের জন্য আমজাদ তাঁকে শাড়ি, সায়া ও ব্লাউজ কিনে দেন। তবে তিনি সেগুলো ব্যবহার করেননি। তাঁর প্রশ্ন, ছেলে কোনো অপরাধ করলে তার দায় কেন মাকে নিতে হবে? তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আমজাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, বাড়ি ফেরার পরও আমজাদ ফোন করে তাঁকে অন্য এক ভাটা সর্দারের কাছে যেতে চাপ দেন এবং না গেলে পরিণতি ভালো হবে না বলে হুমকি দেন।

জেলেখালি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে তার সমাধান করা উচিত। ছেলের পরিবর্তে মাকে তুলে নেওয়া অন্যায় এবং এ ঘটনার বিচার হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি দীপালী মণ্ডলকে জোর করে নিয়ে যাননি। জগদীশের পাসপোর্ট বই তাঁর কাছে রয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, পুলিশের কথামতো দীপালীকে থানায় নিয়ে এসেছিলেন।

শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের সহায়তায় দীপালী মণ্ডলকে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে প্রতিবেদক জানান।