সাতক্ষীরায় বাসচাপায় এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যু
মো. সোহাগ হোসেন, বাগআঁচড়া (শার্শা): যশোরের শার্শা উপজেলার বাজারগুলোতে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় এবার মণপ্রতি প্রায় এক হাজার টাকা বেশি দামে পাট বিক্রি করছেন কৃষকরা। এছাড়া এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে, পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় পাট জাগ দেওয়ার জন্য পানির অভাবও হয়নি।
গত বছরের শুরুতে নতুন পাট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে। এবার কৃষকরা শুরুতে নতুন পাট বিক্রি করেছেন মণপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকায়। তবে বর্তমানে দাম বেড়ে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এবার প্রতি মণে বাড়তি পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া আর দো-আঁশ মাটির গুনাগুণের কারণে শার্শায় এবার পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। গত বছর যেখানে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টরে। অর্থাৎ, এক বছরে আবাদ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর। তাছাড়া গত বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন কৃষকরা। কিন্তু এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় পাট জাগ দিতে তেমন পরিস্থিতি হয়নি।
কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার পাট উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বিশেষ করে এবার শ্রমিক প্রতি খরচ বেশি পড়েছে। গত বছর ৪০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া গেছে, কিন্তু এবার পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও ছাড়ানো বাবদ শ্রমিকপ্রতি বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। এতে গত বছরের তুলনায় এবার পাটচাষের খরচ প্রতি মণে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে।
উপজেলার কোটা গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, এবার পাটের ফলনও ভালো হয়েছে আবার দামও ভালো পাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় নতুন পাট বেচে মণে হাজার ১২০০ টাকা লাভ পাচ্ছি। শার্শার বাগআঁচড়া বাজারে পাট কিনতে আসা ব্যবসায়ী শিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি এখানকার হাট থেকে পাট কিনে ফরিদপুর খুলনা, বগুড়া ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মোকামে পাঠান।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা বলেন, আবহাওয়া, ফলন ও দাম অনুযায়ী এবার কৃষক পাট চাষে লাভজনক অবস্থায় আছেন। সরকারি প্রণোদনা, বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ বিতরণ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শে চাষিরা লাভবান হয়েছেন। আগামীতেও চাষিরা পাট চাষে আগ্রহী হবেন বলে তিনি আশাবাদী।
এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে প্রাণকেন্দ্র থানার মোড় সংলগ্ন আজাদ মার্কেটে দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে ২৮ জন ব্যবসায়ী দোকান পাতিয়ে ব্যবসা করলেও তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি কোন ভাড়া। যার ফলে অসচ্ছল ওই ব্যবসায়ী পরিবারগুলো আর্থিক ভাবে পাচ্ছে বাড়তি সুবিধা। আর এই মানবিক এবং মহৎ কাজটি করছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, কেশবপুর আজাদ মার্কেটটি আনুমানিক ৪০ শতক জমির উপর প্রায় ২৫ বছর ধরে ২৮জন দোকানদার গড়ে তুলেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠন। আর এই জায়গার মালিক কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জমিটি উন্মুক্ত রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকান পরিচালনার সুযোগ দিয়েছেন।
মার্কেটটিতে মোট ২৮টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে পোশাক জামাকাপড়ের ব্যবসা পরিচালিত হলেও দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দোকান ভাড়া নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী স্বল্প খরচে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, সাধারণত বাণিজ্যিক মার্কেটে দোকান ভাড়া, অগ্রিম ও অন্যান্য খরচ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আজাদ মার্কেটে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া না নেওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক স্বস্তিতে রয়েছেন। এ উদ্যোগকে অনেকে মানবিকতা ও সামাজিক কাজের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। ভাড়া না নেওয়ার কারণে ব্যবসা পরিচালনায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায় এবং নিজেদের পুঁজি ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
ব্যবসায়ীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিনা ভাড়ায় ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। বর্তমান সময়ে এমন উদর মানসিকতার মানুষের খুব অভাব।
আমাদের কাছ থেকে জায়গা ভাড়া না নেওয়ায় কম লাভে মালামাল বিক্রি করতে পারছি। ফলে একদিকে যেমন আমারা উপকৃত হচ্ছি তেমনি ক্রেতারাও লাভবান হচ্ছে।