কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষোভ, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
গ্রাচুইটি থেকে ‘লাঞ্চ ভাতা’ বা আহার ভর্তুকির অর্থ কেটে রাখার প্রতিবাদে এবং সেই টাকা ফেরতের দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিনেও এই অর্থ ফেরত না পাওয়ায় একে ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
সোমবার সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সাধারণ সভায় এসব দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সভায় খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০১৩ সালের সার্কুলার অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দৈনিক ২০০ টাকা হারে আহার ভর্তুকি অনুমোদিত ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালে বাণিজ্যিক নিরীক্ষা দলের (অডিট) আপত্তির মুখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অজুহাতে অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের গ্রাচুইটি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ কেটে রাখা হয়।
বক্তারা বলেন, একই সময়ে অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মীরা মুচলেকা (আন্ডারটেকিং) দিয়ে এই অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পেলেও কৃষি ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। বিশেষ করে খুলনা বিভাগে নিরীক্ষা কার্যক্রম চলায় এই অঞ্চলের অবসরপ্রাপ্তরা সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।
সভায় অভিযোগ করা হয়, অসুস্থ ও আর্থিক সংকটে থাকা অনেক সাবেক কর্মকর্তার কাছ থেকে ১৫ হাজার থেকে শুরু করে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত কেটে রাখা হয়েছে। অধিকাংশের ক্ষেত্রেই এই অঙ্ক এক লাখ টাকার ওপরে। বর্তমানে আহার ভর্তুকি ৪০০ টাকায় উন্নীত করা হলেও আগের কেটে রাখা টাকা ফেরতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করছে।
সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক কাজী আশকার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক মঈনউদ্দীন আহমেদ ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক তরফদার শাহাদাৎ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শেখ সিদ্দিকুর রহমান।
সমস্যা সমাধানে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সাত সদস্যের একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। দাবি আদায়ে তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো হবেÑকোনো সংসদ সদস্যের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে ‘দৃষ্টি আকর্ষণীয় নোটিশ’ উত্থাপন করা হবে। তাতে কাজ না হলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর আইনি নোটিশ পাঠানো হবে। দ্রুত সমাধান না মিললে পরবর্তীতে বিভাগীয় পর্যায়ে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
নবগঠিত কমিটিতে কাজী আশকার হোসেনকে আহ্বায়ক এবং শাহিদুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। সভায় আরও বক্তব্য দেন মোস্তাফিজুর রহমান, আলিম আল রাজী, রনজিত কুমার সরকার, আশুতোষ শিকদারসহ অন্যান্য সাবেক কর্মকর্তারা। প্রেসবিজ্ঞপ্তি









